রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬,
১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারাল বাংলাদেশ

মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। মাত্র ১১৫ রানের লক্ষ্য ১৫.১ ওভারেই টপকে যায় স্বাগতিকরা। টাইগারদের হয়ে দারুণ ব্যাটিং করেন ওপেনার তানজিদ হাসান, যিনি অপরাজিত অর্ধশতকে জয়ের পথ সহজ করে দেন।

বাংলাদেশের শুরুটাও ছিল আত্মবিশ্বাসী। ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান দ্রুত রান তুলে দলকে এগিয়ে নেন। শুরুতেই শাহীন আফ্রিদি ও ফাহিম আশরাফকে আক্রমণ করেন তানজিদ। ২৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন পাকিস্তান অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদি। ১০ বলে ৪ রান করে আউট হন সাইফ। এরপর তানজিদ হাসানের সঙ্গে জুটি গড়েন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনের ব্যাটে দ্রুত রান আসতে থাকে। সপ্তম ওভারেই দল পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেলে।

এই জুটিতে আসে ৫০ রানের বেশি। পাকিস্তানের বোলারদের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেন দুজনেই। আবরার আহমেদের এক ওভারে টানা ছক্কা মারেন তানজিদ, আবার শাহীন আফ্রিদির ওভারেও আসে একাধিক চার। দারুণ ফর্মে থাকা তানজিদ নিজের পঞ্চম ওয়ানডে অর্ধশতক পূর্ণ করেন। ১২ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৯২ রান।

তবে ৮২ রানের জুটি ভাঙেন ওয়াসিম জুনিয়র। ৩৩ বলে ৫ চারসহ ২৭ রান করে আউট হন শান্ত। শেষ পর্যন্ত তানজিদ হাসান ৪২ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায় অপরাজিত ৬৭ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। লিটন দাস করেন ৩ রান। এর আগে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু করেছিল পাকিস্তান। ওপেনার মাআজ সাদাকাত ও সাহিবজাদা ফারহান দ্রুত রান তুলে দলকে এগিয়ে নেন।

তবে প্রথম পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে আঘাত হানেন পেসার নাহিদ রানা। ৩৮ বলে চারটি চারে ২৭ রান করা ফারহানকে ফিরিয়ে দিয়ে ৪১ রানের জুটি ভাঙেন তিনি। ১২তম ওভারে আবারও সাফল্য পান নাহিদ। অভিষিক্ত শামিল হুসেইন ৭ বলে ৪ রান করে আউট হলে ১১.৩ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৪৭। এরপর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। ওপেনার মাআজ সাদাকাতকে ফিরিয়ে দিয়ে আবারও আঘাত করেন নাহিদ। তিনি ২৮ বলে তিনটি চারে ১৮ রান করেন।

মোহাম্মদ রিজওয়ানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ২০ বলে দুই চারে ১০ রান করে আউট হলে ১৫.৫ ওভারে পাকিস্তান পড়ে যায় ৪ উইকেটে ৬৪ রানে। নাহিদের পঞ্চম শিকার হন সালমান আলি আগা। ৮ বলে একটি চারসহ ৫ রান করে আউট হন তিনি। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ আঘাত হানেন। আবদুল সামাদকে ৬ বলের শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন তিনি। ১৯ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৭০।

মিরাজ পরে হুসেইন তালাতকে ১৩ বলে ৪ রানে আউট করেন। একই ওভারে অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদিও ৪ রান করে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন। তাসকিন আহমেদ পরে ওয়াসিম জুনিয়রকে শূন্য রানে আউট করেন। শেষদিকে ফাহিম আশরাফ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে ৪৭ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৩৭ রান করেন।

শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান অলআউট হয় ১১৫ রানে। বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন নাহিদ রানা। ৭ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন তিনি। মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ৩ উইকেট। এছাড়া মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ একটি করে উইকেট নেন।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

মান্দায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ঢেউটিন ও অর্থ বিতরণ

পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারাল বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : ০৯:২২:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। মাত্র ১১৫ রানের লক্ষ্য ১৫.১ ওভারেই টপকে যায় স্বাগতিকরা। টাইগারদের হয়ে দারুণ ব্যাটিং করেন ওপেনার তানজিদ হাসান, যিনি অপরাজিত অর্ধশতকে জয়ের পথ সহজ করে দেন।

বাংলাদেশের শুরুটাও ছিল আত্মবিশ্বাসী। ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান দ্রুত রান তুলে দলকে এগিয়ে নেন। শুরুতেই শাহীন আফ্রিদি ও ফাহিম আশরাফকে আক্রমণ করেন তানজিদ। ২৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন পাকিস্তান অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদি। ১০ বলে ৪ রান করে আউট হন সাইফ। এরপর তানজিদ হাসানের সঙ্গে জুটি গড়েন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনের ব্যাটে দ্রুত রান আসতে থাকে। সপ্তম ওভারেই দল পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফেলে।

এই জুটিতে আসে ৫০ রানের বেশি। পাকিস্তানের বোলারদের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেন দুজনেই। আবরার আহমেদের এক ওভারে টানা ছক্কা মারেন তানজিদ, আবার শাহীন আফ্রিদির ওভারেও আসে একাধিক চার। দারুণ ফর্মে থাকা তানজিদ নিজের পঞ্চম ওয়ানডে অর্ধশতক পূর্ণ করেন। ১২ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৯২ রান।

তবে ৮২ রানের জুটি ভাঙেন ওয়াসিম জুনিয়র। ৩৩ বলে ৫ চারসহ ২৭ রান করে আউট হন শান্ত। শেষ পর্যন্ত তানজিদ হাসান ৪২ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায় অপরাজিত ৬৭ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। লিটন দাস করেন ৩ রান। এর আগে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু করেছিল পাকিস্তান। ওপেনার মাআজ সাদাকাত ও সাহিবজাদা ফারহান দ্রুত রান তুলে দলকে এগিয়ে নেন।

তবে প্রথম পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে আঘাত হানেন পেসার নাহিদ রানা। ৩৮ বলে চারটি চারে ২৭ রান করা ফারহানকে ফিরিয়ে দিয়ে ৪১ রানের জুটি ভাঙেন তিনি। ১২তম ওভারে আবারও সাফল্য পান নাহিদ। অভিষিক্ত শামিল হুসেইন ৭ বলে ৪ রান করে আউট হলে ১১.৩ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৪৭। এরপর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। ওপেনার মাআজ সাদাকাতকে ফিরিয়ে দিয়ে আবারও আঘাত করেন নাহিদ। তিনি ২৮ বলে তিনটি চারে ১৮ রান করেন।

মোহাম্মদ রিজওয়ানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ২০ বলে দুই চারে ১০ রান করে আউট হলে ১৫.৫ ওভারে পাকিস্তান পড়ে যায় ৪ উইকেটে ৬৪ রানে। নাহিদের পঞ্চম শিকার হন সালমান আলি আগা। ৮ বলে একটি চারসহ ৫ রান করে আউট হন তিনি। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ আঘাত হানেন। আবদুল সামাদকে ৬ বলের শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন তিনি। ১৯ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৭০।

মিরাজ পরে হুসেইন তালাতকে ১৩ বলে ৪ রানে আউট করেন। একই ওভারে অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদিও ৪ রান করে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন। তাসকিন আহমেদ পরে ওয়াসিম জুনিয়রকে শূন্য রানে আউট করেন। শেষদিকে ফাহিম আশরাফ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে ৪৭ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৩৭ রান করেন।

শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান অলআউট হয় ১১৫ রানে। বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন নাহিদ রানা। ৭ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন তিনি। মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ৩ উইকেট। এছাড়া মুস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ একটি করে উইকেট নেন।