
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সারাদেশে কয়েকদিন ধরে বেড়েছে শীতের প্রকপ। উত্তরের হিমেল হাওয়া সেই শীতের তীব্রতাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। লাগাতার এই শীতে জনজীবন কাহিল হয়ে পড়েছে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সর্বস্তরের। এমন শীতেও উপজেলার বিভিন্ন মাঠে মাঠে চলছে বোরো ধান রোপনের কার্যক্রম। প্রচণ্ড শীতকে উপেক্ষা করে কৃষকরা প্রধান ফসল বোরো ধান রোপনের জন্য পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি প্রস্তুত করছে, কেউ আবার ধান রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। খেটে-খাওয়া দিনমজুর শ্রমিকরাও জীবিকা নির্বাহের লক্ষ্যে প্রচণ্ড শীতে মাঠে কাজ করছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১৮হাজার ৭৯৫হেক্টর জমিতে রোবো ধান চাষের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড ৩হাজার ৪৬৫হেক্টর এবং উফশী ১৫হাজার ৩৩০হেক্টর। এদিকে বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে ১হাজার ১৭০হেক্টর জমিতে। তবে এই লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে বোরো ধান চাষ হওয়ার আশা করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
বোরো মৌসুমে সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে উপজেলার প্রান্তিক পর্যায়ে ১হাজার ৮০০ জন কৃষককে কৃষি প্রণোদনার আওতায় উন্নত জাতের ধান বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। চলতি বছরে উপজেলায় বোরো ধানের মধ্যে হিরা-২, হিরা-৬, ব্যাবিলন-২, ব্রি-৯০, ব্রি-২৯, জিরাসহ আরো অনেক জাতের ধানের চারা রোপণ করছে। তবে জিরা ভালো ফলন হওয়ায় বোরো মৌসুমেও অনেক কৃষক এই জাতের ধানের চারা রোপণ করছে বলেও জানায় উপজেলা কৃষি বিভাগ।
উপজেলার দমদত্তবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আবু-তালেব বলেন, প্রচণ্ড শীতকে উপেক্ষা করেও আমরা বোরো ধান রোপন করছি। রোপনে দেরি হলে ধানের ফলন ভালো হবে না তাই অনেক কষ্ট হলেও ধান রোপনের কাজ করছি। উলুবাড়িয়া গ্রামের বাচ্চু ও বাহাদুরপুর গ্রামে সবুজ বলেন, আমাদের এলাকায় পুরো দমে বোরো ধান রোপন কাজ শুরু হয়েছে। কয়েকদিন ধরে শীত বেড়েছে। কাজ করতে আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।
হিঙ্গলকান্দী কৃষক আবেদ খান বলেন, আমি ৩০ বিঘা জমিতে এ বছর বোরো ধান রোপন করবো এখন পর্যন্ত আমার ১৮ বিঘা জমিতে ধান রোপন করা হয়েছে। অন্যান্য জমি দান রোপনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার আমাদের আত্রাইকে বলেন, বোরো ধান রোপন শুরু হয়েছে। কিভাবে ধান রোপন এবং চারা ব্যবস্থাপনা ধানের ফলন ভালো হবে, এবিষয়ে আমিসহ মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগণ সর্বদাই কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। চলমান শৈত্যপ্রবাহ দ্রুত কেটে গেলে ধান নির্বেঘ্নে মাঠে যাবে এবং লক্ষ্যমত্রা অনুযায়ী ধানের আবাদ ও ফলন হবে।
প্রতিবেদকের নাম 













