বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঐতিহ্য, সাহিত্য ও আইন-শৃঙ্খলার মিলনস্থল আত্রাই: এসপি তারিকুল ইসলাম

  • প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময় : ০৩:২৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৮৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নওগাঁ জেলার সর্ব দক্ষিণে আত্রাই নদীর অববাহিকায় অবস্থিত আত্রাই থানা কেবল একটি প্রশাসনিক ইউনিটই নয়, এটি প্রাচীন ঐতিহ্য, সাহিত্যিক আবেশ এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসের এক অনন্য মিলনস্থল। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) “ডিস্ট্রিক্ট পুলিশ নওগাঁ” ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এসব তথ্য তুলে ধরেন নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

​এসপি তারিকুল ইসলাম তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, গবেষকদের মতে ১৯১৬ অথবা ১৯২৬ সালের দিকে আত্রাই থানার যাত্রা শুরু হয়। গবেষক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমানের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান জলধারা আত্রাই নদীর নামানুসারেই এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে। মধ্যযুগেও এই জনপদের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে নবাব আলীবর্দি খাঁ খাজনা আদায়ের উদ্দেশ্যে আত্রাই নদীপথে এখানে এসেছিলেন। তাঁর অবস্থানের স্মৃতি থেকেই এখানকার একটি গ্রামের নাম হয়েছে ‘নবাবের তাম্বু’।



​আত্রাইয়ের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম। ১৮৯১ সালের দিকে কবিগুরু পতিসরের জমিদারি দেখাশোনার প্রয়োজনে নিয়মিত এখানে আসতেন, যা এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া সপ্তদশ শতাব্দীতে মুঘল আমলে নির্মিত ‘ইসলামগাঁথি মসজিদ’ আজও এই জনপদের প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ১৯৮৩ সালে আত্রাই থানাকে কেন্দ্র করেই গঠিত হয় বর্তমান আত্রাই উপজেলা।

​অপরাধ দমন ও বর্তমান আইন-শৃঙ্খলার চিত্র- ​এক সময় আত্রাই, রানীনগর ও নাটোরের সিংড়া অঞ্চল চরমপন্থী ‘সর্বহারা পার্টি’র বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। ডাকাতি, চাঁদাবাজি আর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা এই দলগুলো একসময় স্থানীয়দের জন্য চরম আতঙ্কের কারণ ছিল। তবে এসপি জানান, গত এক দশকে পুলিশের ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযানে চরমপন্থী তৎপরতা বর্তমানে নেই বললেই চলে। বর্তমানে ছিঁচকে চুরি বা ছোটখাটো অপরাধের বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকলেও পুলিশের ক্রমবর্ধমান তৎপরতায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে।

​পরিশেষে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে থানায় জনবল এবং ফোর্সের আবাসন সংকট রয়েছে। তবে এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আত্রাই থানা পুলিশ জনগণের জীবন ও মালের নিরাপত্তা বিধানে এবং অপরাধ নির্মূলে সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ২৮৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলায় প্রায় তিন লক্ষ মানুষের বসবাস। আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই জনপদের শান্তি রক্ষায় আত্রাই থানা পুলিশের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

ঐতিহ্য, সাহিত্য ও আইন-শৃঙ্খলার মিলনস্থল আত্রাই: এসপি তারিকুল ইসলাম

প্রকাশের সময় : ০৩:২৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নওগাঁ জেলার সর্ব দক্ষিণে আত্রাই নদীর অববাহিকায় অবস্থিত আত্রাই থানা কেবল একটি প্রশাসনিক ইউনিটই নয়, এটি প্রাচীন ঐতিহ্য, সাহিত্যিক আবেশ এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসের এক অনন্য মিলনস্থল। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) “ডিস্ট্রিক্ট পুলিশ নওগাঁ” ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এসব তথ্য তুলে ধরেন নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

​এসপি তারিকুল ইসলাম তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, গবেষকদের মতে ১৯১৬ অথবা ১৯২৬ সালের দিকে আত্রাই থানার যাত্রা শুরু হয়। গবেষক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমানের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান জলধারা আত্রাই নদীর নামানুসারেই এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে। মধ্যযুগেও এই জনপদের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে নবাব আলীবর্দি খাঁ খাজনা আদায়ের উদ্দেশ্যে আত্রাই নদীপথে এখানে এসেছিলেন। তাঁর অবস্থানের স্মৃতি থেকেই এখানকার একটি গ্রামের নাম হয়েছে ‘নবাবের তাম্বু’।



​আত্রাইয়ের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে মিশে আছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম। ১৮৯১ সালের দিকে কবিগুরু পতিসরের জমিদারি দেখাশোনার প্রয়োজনে নিয়মিত এখানে আসতেন, যা এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া সপ্তদশ শতাব্দীতে মুঘল আমলে নির্মিত ‘ইসলামগাঁথি মসজিদ’ আজও এই জনপদের প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ১৯৮৩ সালে আত্রাই থানাকে কেন্দ্র করেই গঠিত হয় বর্তমান আত্রাই উপজেলা।

​অপরাধ দমন ও বর্তমান আইন-শৃঙ্খলার চিত্র- ​এক সময় আত্রাই, রানীনগর ও নাটোরের সিংড়া অঞ্চল চরমপন্থী ‘সর্বহারা পার্টি’র বিচরণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। ডাকাতি, চাঁদাবাজি আর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা এই দলগুলো একসময় স্থানীয়দের জন্য চরম আতঙ্কের কারণ ছিল। তবে এসপি জানান, গত এক দশকে পুলিশের ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযানে চরমপন্থী তৎপরতা বর্তমানে নেই বললেই চলে। বর্তমানে ছিঁচকে চুরি বা ছোটখাটো অপরাধের বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকলেও পুলিশের ক্রমবর্ধমান তৎপরতায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে।

​পরিশেষে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে থানায় জনবল এবং ফোর্সের আবাসন সংকট রয়েছে। তবে এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আত্রাই থানা পুলিশ জনগণের জীবন ও মালের নিরাপত্তা বিধানে এবং অপরাধ নির্মূলে সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ২৮৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলায় প্রায় তিন লক্ষ মানুষের বসবাস। আটটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই জনপদের শান্তি রক্ষায় আত্রাই থানা পুলিশের নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।