সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তিন আসনে কারচুপির অভিযোগে ডিসি অফিস ঘেরাও, বিএনপির বিক্ষোভ ব্যালট পুনর্গণনার দাবি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৭:০৩:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

রংপুরের তিনটি আসনে কারচুপি ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফলাফলের শিট জালিয়াতি করে জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ী করার অভিযোগে বিএনপি নেতা-কর্মীরা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। আজ রোববার তিন আসনের সব কেন্দ্রের ব্যালট পুনর্গণনার দাবিতে হাজারো নেতা-কর্মী এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

বেলা ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন রংপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী শামসুজ্জামান শামু, রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা এবং রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম।

বক্তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দুই দিন আগেও বিভিন্ন কেন্দ্রে পোলিং ও প্রিসাইডিং অফিসার পরিবর্তন করে জামায়াত-শিবিরের লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া অধিকাংশ কেন্দ্রে মাদ্রাসা শিক্ষকসহ জামায়াত প্রার্থীদের পছন্দের ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা আরও অভিযোগ করেন, রংপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল আহসান এবং পুলিশ সুপার মারুফত হোসেন জামায়াত প্রার্থীদের জয়ী করতেই নানা কৌশল অবলম্বন করেন।

বিএনপির দাবি, তাদের তিন প্রার্থী জয়ী হলেও ফলাফলের শিট পরিবর্তন করে জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বক্তারা ব্যালট পুনর্গণনার দাবি জানিয়ে বলেন, দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে।

পরে তিন বিএনপি প্রার্থী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পুনর্গণনার দাবি জানান এবং পুরো নির্বাচন ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ মাধ্যমে প্রভাবিত করার অভিযোগ তোলেন। এ সময় কার্যালয়ে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

রংপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি আমার পরিবার-পরিজনকে কাঁদিয়েছেন, আল্লাহ আপনার পরিবারকে কাঁদাবে।” তিনি আরও বলেন, ভোটের পরদিন সকাল থেকে লিখিত অভিযোগ নিয়ে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও জেলা প্রশাসকের দেখা পাননি। ফলাফল ‘ম্যানিপুলেট’ করার অভিযোগও তোলেন তিনি।

রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পোলিং ও প্রিসাইডিং অফিসার পরিবর্তন এবং জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো পদক্ষেপ নেননি। তিনি পুনর্গণনার দাবি জানান। একই ধরনের অভিযোগ করেন রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী শামসুজ্জামান শামু। তিনি বলেন, ব্যালটে প্রদত্ত ভোট জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে ২০টি করে বেশি এবং ধানের শীষ প্রতীকে ২০টি করে কম গণনা করা হয়েছে।

তবে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পুনর্গণনার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন এবং ফলাফল ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ সুযোগ ছিল না।

উল্লেখ্য, রংপুর সদর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শামসুজ্জামান শামু পান ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের পান ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট।

রংপুর-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পান ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের মাহবুবুর রহমান পান ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট।

রংপুর-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পান ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুর আলম যাদু ১ হাজার ২৮৭ ভোট পেয়ে জামানত হারান।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

তিন আসনে কারচুপির অভিযোগে ডিসি অফিস ঘেরাও, বিএনপির বিক্ষোভ ব্যালট পুনর্গণনার দাবি

তিন আসনে কারচুপির অভিযোগে ডিসি অফিস ঘেরাও, বিএনপির বিক্ষোভ ব্যালট পুনর্গণনার দাবি

প্রকাশের সময় : ০৭:০৩:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রংপুরের তিনটি আসনে কারচুপি ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে ফলাফলের শিট জালিয়াতি করে জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ী করার অভিযোগে বিএনপি নেতা-কর্মীরা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। আজ রোববার তিন আসনের সব কেন্দ্রের ব্যালট পুনর্গণনার দাবিতে হাজারো নেতা-কর্মী এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

বেলা ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন রংপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী শামসুজ্জামান শামু, রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা এবং রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম।

বক্তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের দুই দিন আগেও বিভিন্ন কেন্দ্রে পোলিং ও প্রিসাইডিং অফিসার পরিবর্তন করে জামায়াত-শিবিরের লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এছাড়া অধিকাংশ কেন্দ্রে মাদ্রাসা শিক্ষকসহ জামায়াত প্রার্থীদের পছন্দের ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা আরও অভিযোগ করেন, রংপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এনামুল আহসান এবং পুলিশ সুপার মারুফত হোসেন জামায়াত প্রার্থীদের জয়ী করতেই নানা কৌশল অবলম্বন করেন।

বিএনপির দাবি, তাদের তিন প্রার্থী জয়ী হলেও ফলাফলের শিট পরিবর্তন করে জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বক্তারা ব্যালট পুনর্গণনার দাবি জানিয়ে বলেন, দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে।

পরে তিন বিএনপি প্রার্থী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পুনর্গণনার দাবি জানান এবং পুরো নির্বাচন ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ মাধ্যমে প্রভাবিত করার অভিযোগ তোলেন। এ সময় কার্যালয়ে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

রংপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি আমার পরিবার-পরিজনকে কাঁদিয়েছেন, আল্লাহ আপনার পরিবারকে কাঁদাবে।” তিনি আরও বলেন, ভোটের পরদিন সকাল থেকে লিখিত অভিযোগ নিয়ে বিকেল ৩টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও জেলা প্রশাসকের দেখা পাননি। ফলাফল ‘ম্যানিপুলেট’ করার অভিযোগও তোলেন তিনি।

রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পোলিং ও প্রিসাইডিং অফিসার পরিবর্তন এবং জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো পদক্ষেপ নেননি। তিনি পুনর্গণনার দাবি জানান। একই ধরনের অভিযোগ করেন রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী শামসুজ্জামান শামু। তিনি বলেন, ব্যালটে প্রদত্ত ভোট জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে ২০টি করে বেশি এবং ধানের শীষ প্রতীকে ২০টি করে কম গণনা করা হয়েছে।

তবে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, পুনর্গণনার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন এবং ফলাফল ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ সুযোগ ছিল না।

উল্লেখ্য, রংপুর সদর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির শামসুজ্জামান শামু পান ৮৫ হাজার ৪৯৮ ভোট। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের পান ৪৩ হাজার ৭৯০ ভোট।

রংপুর-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা পান ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের মাহবুবুর রহমান পান ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট।

রংপুর-৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পান ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নুর আলম যাদু ১ হাজার ২৮৭ ভোট পেয়ে জামানত হারান।