শনিবার, ২০ জুন ২০২৬,
৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আত্রাইয়ে বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ মেগাওয়াট, সরবরাহ অর্ধেকেরও কম

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ঘন ঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুতের বারবার আসা-যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। চলমান তাপপ্রবাহ ও প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ সংকট মানুষের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই উপজেলায় বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৩ মেগাওয়াট। তবে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৬ থেকে ৭ মেগাওয়াট, কোনো কোনো সময় এর চেয়েও কম। নওগাঁ গ্রিড থেকে প্রয়োজনের তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পালাক্রমে লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছেন না। সামনে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকলেও রাতের দীর্ঘ লোডশেডিং তাদের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

উপজেলার জয়সারা গ্রামের বাসিন্দা আমিন বলেন, দিনে ও রাতে কতবার বিদ্যুৎ যায় তার কোনো হিসাব নেই। বিদ্যুৎ এলেও এক থেকে দেড় ঘণ্টা থাকে, এরপর আবার চলে যায়। একবার বিদ্যুৎ গেলে তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা কোনো খবর থাকে না। আগে এমন সমস্যা ছিল না, এখন এটি মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কাসুন্দা গ্রামের হাবিবুর হোসেন বলেন, “ভিআইপি লাইনে বিদ্যুৎ কিছুটা বেশি থাকলেও সাধারণ লাইনের গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।”

জয়নাথপুর গ্রামের কৃষক ওয়াহেদ আলী বলেন, সামান্য বৃষ্টি কিংবা ঝড় হলেই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। সেচ মৌসুমেও এত লোডশেডিং দেখা যায়নি, যতটা এখন হচ্ছে। উপজেলার বাসিন্দা আল আরাফাত হোসেন বলেন, দিন-রাত বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে ঘরে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের এই অনিয়মিত সরবরাহে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, ধান ভাঙানোর মৌসুমে বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে মূল্যবান যন্ত্রপাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীন আত্রাই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জসিম উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ সংকট বর্তমানে সারা দেশের একটি সমস্যা। ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) থেকে আত্রাইয়ের জন্য মাত্র ৬থেকে ৭মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক। ফলে বাধ্য হয়ে ব্যাপক লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আত্রাই উপজেলায় বিদ্যুতের ঘাটতি স্থায়ীভাবে দূর করতে হলে দ্রুত একটি গ্রিড উপকেন্দ্র স্থাপন করা প্রয়োজন। গ্রিড উপকেন্দ্র স্থাপন না হলে উপজেলার বিদ্যুৎ সংকট পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব হবে না।

দীর্ঘদিনের এই বিদ্যুৎ সংকটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন আত্রাইয়ের হাজারো গ্রাহক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এমন প্রত্যাশাই উপজেলাবাসীর।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

আত্রাইয়ে বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ মেগাওয়াট, সরবরাহ অর্ধেকেরও কম

আত্রাইয়ে বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ মেগাওয়াট, সরবরাহ অর্ধেকেরও কম

প্রকাশের সময় : ১০:৫৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ঘন ঘন লোডশেডিং ও বিদ্যুতের বারবার আসা-যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। চলমান তাপপ্রবাহ ও প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ সংকট মানুষের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, আত্রাই উপজেলায় বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৩ মেগাওয়াট। তবে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৬ থেকে ৭ মেগাওয়াট, কোনো কোনো সময় এর চেয়েও কম। নওগাঁ গ্রিড থেকে প্রয়োজনের তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পালাক্রমে লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছেন না। সামনে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকলেও রাতের দীর্ঘ লোডশেডিং তাদের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

উপজেলার জয়সারা গ্রামের বাসিন্দা আমিন বলেন, দিনে ও রাতে কতবার বিদ্যুৎ যায় তার কোনো হিসাব নেই। বিদ্যুৎ এলেও এক থেকে দেড় ঘণ্টা থাকে, এরপর আবার চলে যায়। একবার বিদ্যুৎ গেলে তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা কোনো খবর থাকে না। আগে এমন সমস্যা ছিল না, এখন এটি মানুষের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কাসুন্দা গ্রামের হাবিবুর হোসেন বলেন, “ভিআইপি লাইনে বিদ্যুৎ কিছুটা বেশি থাকলেও সাধারণ লাইনের গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।”

জয়নাথপুর গ্রামের কৃষক ওয়াহেদ আলী বলেন, সামান্য বৃষ্টি কিংবা ঝড় হলেই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। সেচ মৌসুমেও এত লোডশেডিং দেখা যায়নি, যতটা এখন হচ্ছে। উপজেলার বাসিন্দা আল আরাফাত হোসেন বলেন, দিন-রাত বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে ঘরে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের এই অনিয়মিত সরবরাহে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, ধান ভাঙানোর মৌসুমে বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে মূল্যবান যন্ত্রপাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীন আত্রাই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জসিম উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ সংকট বর্তমানে সারা দেশের একটি সমস্যা। ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) থেকে আত্রাইয়ের জন্য মাত্র ৬থেকে ৭মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক। ফলে বাধ্য হয়ে ব্যাপক লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আত্রাই উপজেলায় বিদ্যুতের ঘাটতি স্থায়ীভাবে দূর করতে হলে দ্রুত একটি গ্রিড উপকেন্দ্র স্থাপন করা প্রয়োজন। গ্রিড উপকেন্দ্র স্থাপন না হলে উপজেলার বিদ্যুৎ সংকট পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব হবে না।

দীর্ঘদিনের এই বিদ্যুৎ সংকটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন আত্রাইয়ের হাজারো গ্রাহক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এমন প্রত্যাশাই উপজেলাবাসীর।