বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬,
৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আত্রাইয়ে রেললাইনের পাশে হজ এজেন্সির প্রতিনিধির মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ পরিবারের 

ন‌ওগাঁর আত্রাই উপজেলার শিমুলিয়া রেলক্রসিং সংলগ্ন রেললাইনের পাশ থেকে নিয়ামুল বাছির (৪৮) নামে এক হজ এজেন্সির প্রতিনিধির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যুক্ত করুন) বেলা ১১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে সান্তাহার জিআরপি থানা পুলিশ। নিহত নিয়ামুল বাছির রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিকরা গ্রামের নজিবর রহমানের ছেলে। তিনি নওগাঁয় একটি হজ এজেন্সির প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এবং সে কলেজের একজন প্রভাষক ছিলেন।

পরিবারের দাবি, নিয়ামুল বাছিরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার মরদেহ রেললাইনের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে।

নিহতের বড় ভাই আশরাফুল ইসলাম জানান, নিয়ামুল বাছির দীর্ঘদিন ধরে নওগাঁ ও বাগমারায় অফিস পরিচালনার মাধ্যমে হজ এজেন্সির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। কর্মসূত্রে তিনি পরিবার নিয়ে নওগাঁ সদর উপজেলার রজাকপুর এলাকায় বসবাস করতেন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে অফিসের কাজে বাড়ি থেকে বের হয়ে বাগমারা যান নিয়ামুল বাছির। সন্ধ্যার দিকে তিনি মোবাইল ফোনে স্ত্রীকে জানান যে, তিনি আত্রাই রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান করছেন এবং নওগাঁ ফিরে এশার নামাজ আদায় করবেন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

পরিবারের সদস্যরা রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে বুধবার সকালে জানতে পারেন আত্রাইয়ের শিমুলিয়া রেলক্রসিং এলাকার অদূরে রেললাইনের পাশে একটি মরদেহ পড়ে রয়েছে। সেখানে গিয়ে তারা নিয়ামুল বাছিরের মরদেহ শনাক্ত করেন।

আশরাফুল ইসলামের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, “নিয়ামুল বাছিরের কাছে থাকা ব্যাগ, টাকা ও হাতঘড়ি অক্ষত অবস্থায় ছিল। তাই এটি ছিনতাই নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে আমাদের ধারণা।” তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে সান্তাহার জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

আত্রাইয়ে রেললাইনের পাশে হজ এজেন্সির প্রতিনিধির মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ পরিবারের 

আত্রাইয়ে রেললাইনের পাশে হজ এজেন্সির প্রতিনিধির মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ পরিবারের 

প্রকাশের সময় : ০১:৪২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ন‌ওগাঁর আত্রাই উপজেলার শিমুলিয়া রেলক্রসিং সংলগ্ন রেললাইনের পাশ থেকে নিয়ামুল বাছির (৪৮) নামে এক হজ এজেন্সির প্রতিনিধির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যুক্ত করুন) বেলা ১১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে সান্তাহার জিআরপি থানা পুলিশ। নিহত নিয়ামুল বাছির রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিকরা গ্রামের নজিবর রহমানের ছেলে। তিনি নওগাঁয় একটি হজ এজেন্সির প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এবং সে কলেজের একজন প্রভাষক ছিলেন।

পরিবারের দাবি, নিয়ামুল বাছিরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার মরদেহ রেললাইনের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে।

নিহতের বড় ভাই আশরাফুল ইসলাম জানান, নিয়ামুল বাছির দীর্ঘদিন ধরে নওগাঁ ও বাগমারায় অফিস পরিচালনার মাধ্যমে হজ এজেন্সির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। কর্মসূত্রে তিনি পরিবার নিয়ে নওগাঁ সদর উপজেলার রজাকপুর এলাকায় বসবাস করতেন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে অফিসের কাজে বাড়ি থেকে বের হয়ে বাগমারা যান নিয়ামুল বাছির। সন্ধ্যার দিকে তিনি মোবাইল ফোনে স্ত্রীকে জানান যে, তিনি আত্রাই রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান করছেন এবং নওগাঁ ফিরে এশার নামাজ আদায় করবেন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

পরিবারের সদস্যরা রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে বুধবার সকালে জানতে পারেন আত্রাইয়ের শিমুলিয়া রেলক্রসিং এলাকার অদূরে রেললাইনের পাশে একটি মরদেহ পড়ে রয়েছে। সেখানে গিয়ে তারা নিয়ামুল বাছিরের মরদেহ শনাক্ত করেন।

আশরাফুল ইসলামের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, “নিয়ামুল বাছিরের কাছে থাকা ব্যাগ, টাকা ও হাতঘড়ি অক্ষত অবস্থায় ছিল। তাই এটি ছিনতাই নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে আমাদের ধারণা।” তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে সান্তাহার জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।