বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬,
২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আত্রাইয়ে চাকরির প্রলোভনে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রাশেদুল ইসলাম রনি (২০) আত্রাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভবানীপুর বাজারে অবস্থিত মাতৃছায়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড-এর পরিচালনা পর্ষদ ও ম্যানেজার তাকে ভালো বেতনে চাকরির আশ্বাস দেন। তাদের কথায় বিশ্বাস করে তিনি ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর সমিতিতে যোগদান করেন এবং ১০০ টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন। পাশাপাশি তিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর নিজের নামে তিনটি ফাঁকা চেকের পাতা, এসএসসি ও এইচএসসি সনদপত্র জমা দেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চাকরির জামানত হিসেবে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু চাকরিতে যোগদানের পর তাকে নিয়মিত বেতন দেওয়া হয়নি এবং বিভিন্ন অজুহাতে কাজ করিয়ে নেওয়া হলেও পাওনা পরিশোধ করা হয়নি।
ভুক্তভোগী রনি গত ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে চাকরি ছেড়ে দেন। পরে জমা রাখা কাগজপত্র, জামানতের ২০ হাজার টাকাসহ ৩০ হাজার টাকা বকেয়া বেতন ফেরত চাইলে কর্তৃপক্ষ তা না দিয়ে টালবাহানা শুরু করে এবং এক পর্যায়ে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জানা যায়, সমিতিটির কার্যক্রম কেবল আত্রাই উপজেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, তারা নিয়মবহির্ভূতভাবে উপজেলার বাইরেও কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ভুক্তভোগী মোঃ রাশেদুল ইসলাম রনি বলেন, “আমার কাছ থেকে টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে আমার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। আমাকে দিয়ে উপজেলার বাহিরেও কাউকে দের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য পাঠানো হতো।

সাহাগোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন, “এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। যদি কেউ এরকম কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

এ বিষয়ে সিংড়া থানার কালীগঞ্জ বাজার এলাকার গ্রাহক আদর বলেন, “আমি মাতৃছায়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি থেকে তিন লাখ টাকা লোন নিয়েছিলাম। এ লোনটি আমি পরিশোধ করেছি।”

একই এলাকার আরেক গ্রাহক রমেন বলেন, “আমি ওই সমিতি থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা লোন নিয়েছি। লোনটি এখনও চলমান রয়েছে।”

সমিতির ম্যানেজার জাহিদ মোবাইল ফোনে বলেন,
“এটি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, তাই নিয়ম অনুযায়ী আমরা ফাঁকা চেকের পাতা রাখি।”

অন্যদিকে সমিতির পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী কেউ চাকরি ছেড়ে দিলে ৬ মাস পর্যবেক্ষণে রাখা হয়, এরপর তার কাগজপত্র ও আর্থিক বিষয়াদি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সমিতি উপজেলার বাইরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে কিনা—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।”

এ বিষয়ে আত্রাই থানার কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা এস এম নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ জানান, তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো সমবায় সমিতি তাদের নির্ধারিত রেঞ্জের বাইরে লোন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। যদি কোনো সমিতি রেঞ্জের বাইরে গিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

মহাদেবপুরে পুকুর খননের সময় ৭.৭ কেজির কষ্টিপাথরের রাধাকৃষ্ণ মূর্তি উদ্ধার

আত্রাইয়ে চাকরির প্রলোভনে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

প্রকাশের সময় : ০২:৫৪:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রাশেদুল ইসলাম রনি (২০) আত্রাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভবানীপুর বাজারে অবস্থিত মাতৃছায়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড-এর পরিচালনা পর্ষদ ও ম্যানেজার তাকে ভালো বেতনে চাকরির আশ্বাস দেন। তাদের কথায় বিশ্বাস করে তিনি ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর সমিতিতে যোগদান করেন এবং ১০০ টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন। পাশাপাশি তিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর নিজের নামে তিনটি ফাঁকা চেকের পাতা, এসএসসি ও এইচএসসি সনদপত্র জমা দেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চাকরির জামানত হিসেবে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু চাকরিতে যোগদানের পর তাকে নিয়মিত বেতন দেওয়া হয়নি এবং বিভিন্ন অজুহাতে কাজ করিয়ে নেওয়া হলেও পাওনা পরিশোধ করা হয়নি।
ভুক্তভোগী রনি গত ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে চাকরি ছেড়ে দেন। পরে জমা রাখা কাগজপত্র, জামানতের ২০ হাজার টাকাসহ ৩০ হাজার টাকা বকেয়া বেতন ফেরত চাইলে কর্তৃপক্ষ তা না দিয়ে টালবাহানা শুরু করে এবং এক পর্যায়ে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জানা যায়, সমিতিটির কার্যক্রম কেবল আত্রাই উপজেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, তারা নিয়মবহির্ভূতভাবে উপজেলার বাইরেও কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ভুক্তভোগী মোঃ রাশেদুল ইসলাম রনি বলেন, “আমার কাছ থেকে টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে আমার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। আমাকে দিয়ে উপজেলার বাহিরেও কাউকে দের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য পাঠানো হতো।

সাহাগোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন, “এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। যদি কেউ এরকম কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

এ বিষয়ে সিংড়া থানার কালীগঞ্জ বাজার এলাকার গ্রাহক আদর বলেন, “আমি মাতৃছায়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি থেকে তিন লাখ টাকা লোন নিয়েছিলাম। এ লোনটি আমি পরিশোধ করেছি।”

একই এলাকার আরেক গ্রাহক রমেন বলেন, “আমি ওই সমিতি থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা লোন নিয়েছি। লোনটি এখনও চলমান রয়েছে।”

সমিতির ম্যানেজার জাহিদ মোবাইল ফোনে বলেন,
“এটি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, তাই নিয়ম অনুযায়ী আমরা ফাঁকা চেকের পাতা রাখি।”

অন্যদিকে সমিতির পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী কেউ চাকরি ছেড়ে দিলে ৬ মাস পর্যবেক্ষণে রাখা হয়, এরপর তার কাগজপত্র ও আর্থিক বিষয়াদি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সমিতি উপজেলার বাইরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে কিনা—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।”

এ বিষয়ে আত্রাই থানার কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা এস এম নিজাম উদ্দিন আহম্মেদ জানান, তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো সমবায় সমিতি তাদের নির্ধারিত রেঞ্জের বাইরে লোন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। যদি কোনো সমিতি রেঞ্জের বাইরে গিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।