
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের ধনাগাড়ি বিলে প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই ফসলি কৃষিজমি থেকে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে মাটি কেটে সরকারি রাস্তার কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উলাবাড়িয়া, বাজে ধনেশ্বর ও তারানগর গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম চলায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে ধনাগাড়ি বিলে গিয়ে দেখা যায়, ভেকু দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে মাটিবাহী ট্রাক্টরের মাধ্যমে রাস্তার কাজে নেওয়া হচ্ছে। রাস্তার নির্মাণকাজটি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বসুন্ধরা হাউজ বিল্ডার্স, নওগাঁ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কালিকাপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুল মালেকের মালিকানাধীন ফসলি জমি (বরেন্দ্র ডিপ এর ১০০ গজের মধ্যেই) থেকে মাটি খনন করে তা সরকারি রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক বলেন, “গ্রাম্য বৈঠকের মাধ্যমে ঠিকাদার আমার কাছে মাটি চেয়েছিল। আমি তখন আমার জমির অনাবাদি অংশ থেকে মাটি খনন করতে বলেছি। ফসলি জমি নষ্ট করার অনুমতি দিইনি।”
অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, উপজেলা প্রশাসন থেকে মৌখিকভাবে মাটি কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে কোন কর্মকর্তা এ অনুমতি দিয়েছেন—সে বিষয়ে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, “আমরা কাউকেই পুকুর খনন বা ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার কোনো অনুমতি দিইনি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন, ২০১৫ অনুযায়ী দুই ফসলি কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা বা শ্রেণি পরিবর্তন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া ভেকু ব্যবহার করে মাটি উত্তোলন আইনত নিষিদ্ধ।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, এভাবে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তারা অবিলম্বে মাটি কাটা বন্ধসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত না হলে এলাকায় বড় ধরনের কৃষি ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 









