
নওগাঁর আত্রাইয়ে পুকুরের পাড় না বাধায় পুকুর গর্ভে বিলিন হতে চলেছে চলাচলের সড়ক ও বাড়ী-ঘর। গত প্রায় ৬বছর ধরে কোন প্রতিকার না পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আহসানগঞ্জ ইউনিয়নের থাঐপাড়া গ্রামে।
ওই গ্রামের ভুক্তভোগী মৃত অহির সরদারের ছেলে মুন্টু সরদার বলেন, একই গ্রামের আফছার আলীর ছেলে এনায়েতুল্লা ও আব্দুর রাজ্জাক গংদের একটি পুকুর রয়েছে। পুকুরের পাশ দিয়ে গ্রামের প্রায় ৫০-৬০টি পরিবারের লোকজনের চলাচলের রাস্তা রয়েছে। কিন্তু এনায়েতুল্লা গংরা পুকুর খননের সময় কোন পাড় না রেখেই চারে দিকে অন্যের জায়গাতে পাড় বেধে পুকুর খনন করেছিল। দীর্ঘ বছর ধরে পুকুর সংস্কার না করায় যে টুকু পাড় ছিল তাও ভেঙ্গে গেছে। ফলে পুকুরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সড়ক ধীরে ধীরে ভেঙ্গে যাচ্ছে।
মুন্টু সরদার বলেন, এঘটনায় গত প্রায় ৬বছর আগে পুকুর সংস্কার করে পাড় বাধার জন্য অনুরোধ করে ব্যর্থ হলে গ্রামে বৈঠক ডাকা হয়। ওই বৈঠকে এনায়েতুল্লা ও আব্দুর রাজ্জাক পুকুরের পাড় বাধার জন্য তিন বছরের সময় চেয়ে নিয়ে লিখিতভাবে মিমাংসা করে। কিন্তু মিমাংসার ৬বছর কেটে গেলেও পুকুর পাড় বাধার কোন উদ্যোগ নেয়নি। এরই মধ্যে গত এক মাস আগে আবারো বৈঠক করে পুকুরের সীমানা নির্ধারণ করা এবং দ্রুত পুকুর পাড় বাধার কথা জানালেও নানা ভাবে টালবাহনা করছে। মুন্টু সরদার বলেন এই মৌসুমেও যদি পুকুরপাড় বাধা না হয় তাহলে একদিকে যেমন চলাচলের রাস্তা ভেঙ্গে যাবে অন্যদিকে আমার ইটের বাড়ী পুকুর গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে। ফলে সুষ্ঠু প্রতিকার পেতে বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীর সহায়তায় সোমবার বিকেলে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।.
এব্যাপারে পুকুর মালিক এনায়েতুল্লা বলেন, দীর্ঘ বছর আগের খননকৃত পুকুরের পাড় অনেকটায় ধ্বসে গেছে। এর আগে একবার গাইড ওয়াল দিয়ে পাড় রক্ষার চেষ্টা করেছি। এছাড়া বর্ষা মৌসুম আসার আগেই চলাচলের রাস্তা যেনো না ভাঙ্গে সে জন্য পুকুরের পাড়ে মজবুত একটি গাইড ওয়াল দেয়া হবে এমন কথা তাদেরকে এবং গ্রামের মাতাব্বরদের বলেছি। তার পরেও মন্টু সরদার চলাচলের রাস্তায় বাঁশের বেড়া দিয়েছে এবং আমার বিরুদ্ধেই পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আলাউল ইসলাম বলেন, এঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















