
নওগাঁর আত্রাইয়ে বাল্যবিয়ের আয়োজন বন্ধ করতে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের গাড়িতে হামলা করে আটক বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় গ্রামপুলিশ সদস্য সাহাদাত হোসেন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিশা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন, বর আল আমিন ও কনেকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার দুপুরে উপজেলার বিশা ইউনিয়নের সমসপাড়া সরদারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আটক বর আল আমিন ওই গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সমসপাড়া সরদারপাড়া গ্রামে ১২ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ের আয়োজন করা হয়েছে এমন খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানকালে বিয়ের আসর থেকে বর আল আমিনকে আটক করা হয়।
পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় বরপক্ষের কয়েকজন লোক গাড়িটি আটকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে তারা ইউএনও ও তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় ইউএনওকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে গ্রামপুলিশ সদস্য সাহাদাত হোসেনকে মারধর করা হয়। এতে তিনি আহত হন।
গ্রামপুলিশ সাহাদাত হোসেন বলেন, বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। ইউএনও স্যার বরকে আটক করে গাড়িতে তোলার পর বরপক্ষের লোকজন গাড়ি আটকে বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ইউএনও স্যারের ওপর হামলার চেষ্টা করলে আমি সামনে এগিয়ে যাই। তখন আমাকে মারধরসহ স্যারের সঙ্গে থাকা অন্যদের ওপরও হামলা করা হয়।
খবর পেয়ে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে মাহাতাব হোসেন, বর আল আমিন ও কনেকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
বিশা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি মো. মোকছেদ হোসেন বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে হামলা হয়েছে এবং মাহাতাব হোসেনকে আটক করা হয়েছে এমন খবর পেয়ে তাকে থানায় দেখতে এসেছি। তিনি বিশা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের গাড়িতে হামলার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখান থেকে মাহাতাব হোসেন, বর আল আমিন ও কনেকে আটক করে থানায় হেফাজতে রাখা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, মাত্র ১২ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বাল্যবিয়ে হচ্ছে এমন খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বরকে আটক করে গাড়িতে তোলার পর বরপক্ষের লোকজন পুলিশ ও স্টাফদের ওপর হামলা করে গাড়ি আটকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় গ্রামপুলিশ সাহাদাত হোসেন কিছুটা আহত হয়েছেন। পরে থানার ওসিকে জানালে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি আরও বলেন, বাল্যবিয়ে আয়োজন ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 















