
নওগাঁ জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী থানা হলো মান্দা থানা, যা বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসেবার মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। প্রশাসনিকভাবে ১৯৪৩ সালে থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত মান্দা, দীর্ঘদিনের ইতিহাস ও কিংবদন্তির স্মারক হিসেবে আজও পরিচিত।
‘মান্দা’ নামের পেছনে রয়েছে একটি লোককথা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বর্তমান কসবা মান্দা (নামান্তরে ঠাকুরমান্দা) এলাকায় অবস্থিত রঘুনাথ মন্দিরের সেবাইত ছিলেন জনৈক মানদাদেবী এবং পূজারী ছিলেন রঘুনাথ। কথিত আছে, মানদাদেবীর কৃপায় নানা অলৌকিক ঘটনা ঘটত এবং রোগাক্রান্ত ও অন্ধ ব্যক্তিরা আরোগ্য লাভ করতেন। এই ভক্তি ও বিশ্বাস থেকেই এলাকাটির নামকরণ হয় ‘মান্দা’।
মান্দা থানা এলাকায় বর্তমানে ১৪টি ইউনিয়ন ও ১২৬টি ওয়ার্ড রয়েছে। প্রায় ৪১৩.৯৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলায় চার লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। নওগাঁ জেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত মান্দা উপজেলা সদর। আত্রাই ও শিব নদী এ অঞ্চলের প্রধান জলাশয়, পাশাপাশি মান্দা বিল ও উথরাইল বিল উল্লেখযোগ্য।

মান্দা থানাকে কেন্দ্র করেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বর্তমান মান্দা জনপদ এবং পরবর্তীতে মান্দা উপজেলা। ইতিহাস ও স্থাপত্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হলো সুলতানি আমলের কুসুম্বা মসজিদ। গবেষণা তথ্যমতে, ১৫৫৮-১৫৫৯ সালে আফগান শাসক গিয়াসউদ্দিন বাহাদুর শাহের আমলে সুলায়মান নামক এক ব্যক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত এই মসজিদটি কালো পাথরের কারুকার্যের জন্য বিখ্যাত এবং ‘কালো রত্ন’ নামে পরিচিত। মসজিদের ছবি বাংলাদেশের ৫ টাকার নোটে মুদ্রিত রয়েছে।
মান্দা ফেরিঘাট এলাকা অত্র অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক জংশন। অতীতে আত্রাই নদীর কারণে মান্দা নওগাঁ জেলা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। ১৯৯১ সালে সেতু নির্মাণ শুরু হয়ে ১৯৯৪ সালে তা সম্পন্ন হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। সম্প্রতি ফেরিঘাট এলাকা সংস্কার করে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বর্তমান থানা চত্বরে এখনো ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের কয়েকটি ভগ্ন ভবন দাঁড়িয়ে আছে, যা ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে। শতবর্ষ পুরোনো একটি পুকুরসহ এসব স্থাপনার যথাযথ সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। নতুন থানা ভবনটিও বর্তমানে অনেক পুরোনো হয়ে যাওয়ায় অফিসার ও ফোর্সের স্থান সংকুলানে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
মান্দা থানা এলাকায় প্রধান অপরাধ হিসেবে জমি সংক্রান্ত বিরোধ, মাদকদ্রব্য, আর্থিক প্রতারণা, পারিবারিক সহিংসতা, সড়ক দুর্ঘটনা ও রাজনৈতিক অপরাধ উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে নামধারী প্রতিষ্ঠান ও সমবায় সমিতিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এসব অপরাধ প্রতিরোধে জেলা পুলিশ নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
পুলিশ সুপার নওগাঁ মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মান্দা থানা পুলিশ জনগণের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদা তৎপর রয়েছে। পুলিশিং ও নিরাপত্তা সেবার মানোন্নয়নে জনগণের গঠনমূলক পরামর্শও তিনি আন্তরিকভাবে আহ্বান জানান।
জেলা পুলিশ, নওগাঁ ফেসবুক পেজ থেকে সংগ্রহ 









