শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬,
২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাটোরে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি গ্যাস সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা

  • নাটোর প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : ০১:০০:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৩৫ বার পড়া হয়েছে

নাটোরে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে জেলা এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতি।

রোববার (৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে নাটোর শহরের একটি রেস্তরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা এই ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে নাটোর জেলা এলপিজি সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাহমুদ রনি বলেন, সরকার এলপিজি গ্যাসের যে খুচরা মূল্য নির্ধারণ করেছে, সেই মূল্যে বর্তমানে ব্যবসা পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে কোম্পানির কাছ থেকে ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডার ডিলারদের কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৩০৫ টাকায়। এই সিলিন্ডার ডিলারের গোডাউনে পৌঁছাতে খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩১৭ টাকা। এরপর গোডাউন থেকে জেলার বিভিন্ন খুচরা দোকানে পৌঁছাতে শ্রমিক ও পরিবহন খরচ বাবদ আরও ১৩ টাকা যুক্ত হয়ে প্রতিটি সিলিন্ডারের মোট কেনা দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৩০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ডিলার পর্যায়ে প্রতিটি সিলিন্ডারের খরচ ১ হাজার ৩৩০ টাকা হলেও সরকার ১২ কেজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৩০৬ টাকা। অর্থাৎ, সরকার নির্ধারিত দাম ডিলারদের কেনা দামের চেয়েও কম।

ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি করতে গেলে আমাদের প্রতি সিলিন্ডারে লোকসান গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে বিক্রি করলে জরিমানার মুখে পড়তে হয়। এমতাবস্থায় লোকসান দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

পরিস্থিতি বিবেচনায় খুচরা দোকানে নতুন করে সিলিন্ডার সরবরাহ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে খুচরা দোকানে বর্তমানে যে মজুদ রয়েছে, দোকানিরা তা বিক্রি করতে পারবেন বলে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে ব্যবসায়ীরা দ্রুত গ্যাসের মূল্য পুনর্বিবেচনা করে সৃষ্ট সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা এলপিজি সমিতির সদস্য আতিকুর রহমান লাল, তারেক মোহাম্মদ ফয়সালসহ জেলার বিভিন্ন কোম্পানির পাইকারি গ্যাস ব্যবসায়ীরা।

 

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

দেশের মানুষ বারবার পরিবর্তনের জন্য যুদ্ধ-লড়াই করলেও পরিবর্তন আসেনি -মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর 

নাটোরে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি গ্যাস সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা

প্রকাশের সময় : ০১:০০:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

নাটোরে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে জেলা এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতি।

রোববার (৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে নাটোর শহরের একটি রেস্তরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির নেতারা এই ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে নাটোর জেলা এলপিজি সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাহমুদ রনি বলেন, সরকার এলপিজি গ্যাসের যে খুচরা মূল্য নির্ধারণ করেছে, সেই মূল্যে বর্তমানে ব্যবসা পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে কোম্পানির কাছ থেকে ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডার ডিলারদের কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৩০৫ টাকায়। এই সিলিন্ডার ডিলারের গোডাউনে পৌঁছাতে খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩১৭ টাকা। এরপর গোডাউন থেকে জেলার বিভিন্ন খুচরা দোকানে পৌঁছাতে শ্রমিক ও পরিবহন খরচ বাবদ আরও ১৩ টাকা যুক্ত হয়ে প্রতিটি সিলিন্ডারের মোট কেনা দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৩০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ডিলার পর্যায়ে প্রতিটি সিলিন্ডারের খরচ ১ হাজার ৩৩০ টাকা হলেও সরকার ১২ কেজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৩০৬ টাকা। অর্থাৎ, সরকার নির্ধারিত দাম ডিলারদের কেনা দামের চেয়েও কম।

ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি করতে গেলে আমাদের প্রতি সিলিন্ডারে লোকসান গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে বিক্রি করলে জরিমানার মুখে পড়তে হয়। এমতাবস্থায় লোকসান দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

পরিস্থিতি বিবেচনায় খুচরা দোকানে নতুন করে সিলিন্ডার সরবরাহ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে খুচরা দোকানে বর্তমানে যে মজুদ রয়েছে, দোকানিরা তা বিক্রি করতে পারবেন বলে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে ব্যবসায়ীরা দ্রুত গ্যাসের মূল্য পুনর্বিবেচনা করে সৃষ্ট সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নাটোর জেলা এলপিজি সমিতির সদস্য আতিকুর রহমান লাল, তারেক মোহাম্মদ ফয়সালসহ জেলার বিভিন্ন কোম্পানির পাইকারি গ্যাস ব্যবসায়ীরা।