শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬,
২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শীত ও ঘনকুয়াশায় নষ্ট হচ্ছে হালতি বিলের বোরো বীজতলা, দুচিন্তায় দিশেহারা কৃষক

  • নাটোর প্রতিনিধি:
  • প্রকাশের সময় : ০৫:০৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৫ বার পড়া হয়েছে

গত এক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র কনকনে শীত ও ঘনকুয়াশায় আসন্ন বোরো মৌসুমের বীজতলা নিয়ে দুচিন্তায় পড়েছেন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার হালতি বিলের শত শত কৃষক।

কনকনে ঠান্ডায় বোরো বীজের চারা হলদে হয়ে পাতা পচে নষ্ট হচ্ছে। এতে বোরো ধান চাষে এবার উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে বলে আশংকা করছে কৃষকরা। আর কৃষি বিভাগ বলছে দেরিতে রোপনকৃত বোরো বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তবে বোরো বীজতলা রক্ষায় রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখাসহ বিভিন্ন পরামর্শ কৃষকদের দিচ্ছেন কৃষি বিভাগ। এদিকে কনকনে ঠান্ডায় শ্রমজীবি মানুষ কৃষি কাজ করতে গিয়ে জবুথবু হয়ে হীম শীতল হচ্ছে শরীর।

নাটোরে ঘনকুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডার দাপটে প্রতিদিন কমছে তাপমাত্রার পারদ। গত এক সপ্তাহ থেকে সকাল থেকে দেখা নেই সুর্যের। সপ্তাহের মাঝে দুইদিন দুপুরে কিছুটা সূর্যের দেখা মিললেও বুধবার থেকে আবারও তাপমাত্রা কমে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নেমে এসেছে। এতে প্রচন্ড হাঁড় কাপানো শীত অনুভূত হচ্ছে। এতে শ্রমজীবি শ্রমিকরা কৃষি কাজ করতে বিপাকে পড়েছে।

এদিকে নলডাঙ্গা উপজেলার হালতি বিলের আসন্ন বোরো মৌসুমে বোরো ধানের বীজতলা বড় হয়ে প্রস্তত হতে শুরু করেছে। এর মধ্যে কনকনে ঠান্ডা ও ঘনকুয়াশায় বোরো বীজতলা কোন্ড ইনজুরি (পাতা পচা রোগ) আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হচ্ছে শত শত কৃষকের বোরো বীজতলা।বালাইনাশক ছিটিয়েও কাজ হচ্ছে না।

হালতি বিলের তেঘরিয়া গ্রামের কৃষক ইসাহাক আলী বলেন, এবার আমি ৭ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করার জন্য ৫ কাটা জমিতে বোরো বীজতলা রোপন করেছি। কিন্ত এক সপ্তাহ ধরা চলা কনকনে ঠান্ডা ও ঘনকুয়াশায় বোরো বীজের চারা গাছের পাতা হলদে রং ধারন করে পচে মরে যাচ্ছে।বালাইনাশক ছিটিয়ে কাজ হচ্ছে না। আমি দিশেহারা হয়ে দুচিন্তায় আছি।

আরেক কৃষক আসিদুল ইসলাম বলেন, আমার বোরো বীজতলা ও পেঁয়াজ ক্ষেতে পাতা মরা রোগ দেখা দিয়েছে। বোরো বীজের চারা হলদে হয়ে মারা যাচ্ছে। পরামর্শের জন্য কৃষি বিভাগের কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। আমার মত এলাকার শত শত কৃষকের একই অবস্থা। তারা দিশেহারা।

এই অবস্থায় পরিশ্রম ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে বোরো চাষীদের। এই পরিস্থিতিতে বীজতলা রক্ষায় অনেক সচেতন কৃষক রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছে বোরো বীজতলা। আর পরামর্শের জন্য পাশে পাচ্ছে না কৃষি কর্মকর্তাদের বলে অভিযোগ কৃষকদের।

নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, উপজেলায় এবার ৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপনের লক্ষ্যমাত্রার নির্ধারন করা হয়েছে। এর বিপরিতে ৫৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা রোপন হয়েছে। ইতিমধ্যে যেসব ক্ষেতের বীজতলার চারা বড় হয়ে গেছে সেগুলো ক্ষতির আশংকা নাই। দেরিতে রোপনকৃত বোরো বীজতলা এই ঘুনকুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় কিছু বীজতলা নষ্টের শষ্কা রয়েছে।তবে এই আবওহাওয়া কেটে গেলে তেমন ক্ষতি হবে না। তবে বোরো বীজতলা রক্ষায় রাতে পলিথিস দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে এবং প্রতিদিন বীজতলার ক্ষেত থেকে ঠান্ডা পানি বের করে নতুন করে সেচ দিতে হবে কৃষকদের এমন পরামর্শ দিচ্ছেন।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

দেশের মানুষ বারবার পরিবর্তনের জন্য যুদ্ধ-লড়াই করলেও পরিবর্তন আসেনি -মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর 

শীত ও ঘনকুয়াশায় নষ্ট হচ্ছে হালতি বিলের বোরো বীজতলা, দুচিন্তায় দিশেহারা কৃষক

প্রকাশের সময় : ০৫:০৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

গত এক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র কনকনে শীত ও ঘনকুয়াশায় আসন্ন বোরো মৌসুমের বীজতলা নিয়ে দুচিন্তায় পড়েছেন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার হালতি বিলের শত শত কৃষক।

কনকনে ঠান্ডায় বোরো বীজের চারা হলদে হয়ে পাতা পচে নষ্ট হচ্ছে। এতে বোরো ধান চাষে এবার উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে বলে আশংকা করছে কৃষকরা। আর কৃষি বিভাগ বলছে দেরিতে রোপনকৃত বোরো বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তবে বোরো বীজতলা রক্ষায় রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখাসহ বিভিন্ন পরামর্শ কৃষকদের দিচ্ছেন কৃষি বিভাগ। এদিকে কনকনে ঠান্ডায় শ্রমজীবি মানুষ কৃষি কাজ করতে গিয়ে জবুথবু হয়ে হীম শীতল হচ্ছে শরীর।

নাটোরে ঘনকুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডার দাপটে প্রতিদিন কমছে তাপমাত্রার পারদ। গত এক সপ্তাহ থেকে সকাল থেকে দেখা নেই সুর্যের। সপ্তাহের মাঝে দুইদিন দুপুরে কিছুটা সূর্যের দেখা মিললেও বুধবার থেকে আবারও তাপমাত্রা কমে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নেমে এসেছে। এতে প্রচন্ড হাঁড় কাপানো শীত অনুভূত হচ্ছে। এতে শ্রমজীবি শ্রমিকরা কৃষি কাজ করতে বিপাকে পড়েছে।

এদিকে নলডাঙ্গা উপজেলার হালতি বিলের আসন্ন বোরো মৌসুমে বোরো ধানের বীজতলা বড় হয়ে প্রস্তত হতে শুরু করেছে। এর মধ্যে কনকনে ঠান্ডা ও ঘনকুয়াশায় বোরো বীজতলা কোন্ড ইনজুরি (পাতা পচা রোগ) আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হচ্ছে শত শত কৃষকের বোরো বীজতলা।বালাইনাশক ছিটিয়েও কাজ হচ্ছে না।

হালতি বিলের তেঘরিয়া গ্রামের কৃষক ইসাহাক আলী বলেন, এবার আমি ৭ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করার জন্য ৫ কাটা জমিতে বোরো বীজতলা রোপন করেছি। কিন্ত এক সপ্তাহ ধরা চলা কনকনে ঠান্ডা ও ঘনকুয়াশায় বোরো বীজের চারা গাছের পাতা হলদে রং ধারন করে পচে মরে যাচ্ছে।বালাইনাশক ছিটিয়ে কাজ হচ্ছে না। আমি দিশেহারা হয়ে দুচিন্তায় আছি।

আরেক কৃষক আসিদুল ইসলাম বলেন, আমার বোরো বীজতলা ও পেঁয়াজ ক্ষেতে পাতা মরা রোগ দেখা দিয়েছে। বোরো বীজের চারা হলদে হয়ে মারা যাচ্ছে। পরামর্শের জন্য কৃষি বিভাগের কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। আমার মত এলাকার শত শত কৃষকের একই অবস্থা। তারা দিশেহারা।

এই অবস্থায় পরিশ্রম ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে বোরো চাষীদের। এই পরিস্থিতিতে বীজতলা রক্ষায় অনেক সচেতন কৃষক রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখছে বোরো বীজতলা। আর পরামর্শের জন্য পাশে পাচ্ছে না কৃষি কর্মকর্তাদের বলে অভিযোগ কৃষকদের।

নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, উপজেলায় এবার ৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপনের লক্ষ্যমাত্রার নির্ধারন করা হয়েছে। এর বিপরিতে ৫৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা রোপন হয়েছে। ইতিমধ্যে যেসব ক্ষেতের বীজতলার চারা বড় হয়ে গেছে সেগুলো ক্ষতির আশংকা নাই। দেরিতে রোপনকৃত বোরো বীজতলা এই ঘুনকুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় কিছু বীজতলা নষ্টের শষ্কা রয়েছে।তবে এই আবওহাওয়া কেটে গেলে তেমন ক্ষতি হবে না। তবে বোরো বীজতলা রক্ষায় রাতে পলিথিস দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে এবং প্রতিদিন বীজতলার ক্ষেত থেকে ঠান্ডা পানি বের করে নতুন করে সেচ দিতে হবে কৃষকদের এমন পরামর্শ দিচ্ছেন।