
‘অসময়ের বৃষ্টিতে আত্রাইয়ে কমেছে সরিষা চাষ’ শিরোনামে গত ২৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সাপ্তাহিক আমাদের আত্রাই পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি আত্রাই উপজেলার বর্তমান কৃষি বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে।
এ সংবাদ কেবল একটি মৌসুমি ফসলের ক্ষতির কথাই বলে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষি ব্যবস্থাপনায় যে গভীর সংকট তৈরি হচ্ছে, তারই ইঙ্গিত দেয়। সরিষা একটি স্বল্পমেয়াদি, কম খরচের ও লাভজনক তেলজাত ফসল। আত্রাইয়ের কৃষকেরা বিগত বছরগুলোতে সরিষা চাষ করে উল্লেখযোগ্য আর্থিক লাভ করেছেন, যা তাদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু এ বছর অসময়ের বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৫ হেক্টর কম জমিতে সরিষা চাষ হওয়ায় কৃষকেরা সেই সম্ভাব্য আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এর প্রভাব শুধু ব্যক্তি কৃষকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং দেশের ভোজ্যতেল উৎপাদনের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সংবাদে উঠে এসেছে, নিচু জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক সঠিক সময়ে সরিষার বীজ বপন করতে পারেননি। ফলে তারা বাধ্য হয়ে ভুট্টা ও সবজি চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। যদিও বিকল্প ফসল হিসেবে ভুট্টা ও সবজি কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারে, তবে সব কৃষকের জন্য তা সমানভাবে লাভজনক নয়। এতে কৃষকদের মধ্যে আর্থিক বৈষম্য আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠে-আমাদের কৃষি পরিকল্পনা কি পরিবর্তিত আবহাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে? জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টির সময় ও মাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে, অথচ পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, উন্নত কৃষি পরামর্শ ও সময়োপযোগী সহায়তা এখনও পর্যাপ্ত নয়।
বিশেষ করে নিচু এলাকার কৃষকদের জন্য কার্যকর জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনা এবং উপযোগী ফসলের জাত নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। আত্রাইয়ের সরিষা চাষ কমে যাওয়ার ঘটনাটি আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক রাখতে হলে আধুনিক প্রযুক্তি, আগাম আবহাওয়া পূর্বাভাস, কৃষক প্রশিক্ষণ এবং বাস্তবভিত্তিক কৃষি নীতি গ্রহণের বিকল্প নেই। নচেৎ প্রতিবছরই কোনো না কোনো ফসল অসময়ের বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আর কৃষকের স্বপ্ন ভেসে যাবে পানির সঙ্গে।
প্রতিবেদকের নাম 



















