সোমবার, ২৫ মে ২০২৬,
১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাণীনগরে গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন

নওগাঁর রাণীনগরে আগুনে দগ্ধ বাসন্তী রাণী (২৫) নামে এক গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি ) দুপুরে উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের হরিপুর গ্রাম থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাসন্তী রাণী ওই গ্রামের প্রবাসী উৎপল চন্দের স্ত্রী।

গৃহবধুৃর মৃত্যু ঘিরে নানান গুঞ্জন ও জল্পনা কল্পনা চলছে। বাসন্তী রাণীর স্বজনরা দাবি করেছেন তাকে হত্যার পর আগুনে পুড়ে দগ্ধ করা হয়েছে।

বাসন্তী রাণীর শ্বশুর কৃষ্ণবন্ধু ওরফে মুন্টু জানান, সোমবার সকালে মাঠের মধ্যে ক্ষেতে আলু তোলার জন্য আমরা সবাই চলে যাই। বাড়ীতে শুধুমাত্র বউমা বাসন্তী একাই ছিল। বেলা সাড়ে ১০টা নাগাদ আলু রাখার জন্য বস্তা নিয়ে আসার কথা বলার জন্য বউমার ফোনে একাধীকবার ফোন দিয়েও কোন সারা পাওয়া যায়নি।

ফলে মাঠ থেকে বাড়ীতে এসে দেখতে পান চুলার পারে বউমার শরীর আগুনে জলছে। এসময় প্রতিবেশীদের ডাক দিলে তারা দৌড়ে ছুটে আসে। কিন্তু ততক্ষনে বউমার শরীর পুরোটা আগুনে পুড়ে দগ্ধ হয়ে ঝলসে গেছে।

তিনি ধারনা করে বলেন, হয়তো চুলায় খড়ি দিয়ে ভাত গরম করার সময় আগুন ধরে পুড়ে মারা যেতে পারে।

বাসন্তীর ছোট বোন লক্ষী রাণী বলেন, কয়েক মাস আগে বাসন্তীর শ্বাশুড়ী মারা গেছেন। মাত্র তিন বছরের এক কন্যা শিশু নিয়ে শ্বশুড়ের সাথে বাড়ীতে থাকতেন বাসন্তী। এছাড়া স্বামী উৎপল কুয়েতে থাকেন। তার সাথে পারিবারিক নানান বিষয় নিয়ে বনি-বনা হচ্ছিলনা। প্রায় মোবাইল ফোনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব হতো। তাই অতিষ্ঠ হয়ে রোববার মোবাইল ফোনে জানিয়েছিলেন বাবার বাড়ীতে নিয়ে যাবার কথা। অথচ আজ তার মরদেহ দেখছি।

বাসন্তীর মামা গোপেস চন্দ্র বলেন, আমার ভাগনী আগুনে পুরে মারা যায়নি। তাকে হত্যার পর আগুনে পোড়ানো হয়েছে।

তিনি দাবি করে বলেন, মানুষের শরীরে আগুন ধরলে নানান ভাবে বাঁচার চেষ্টা করে। অথচ যেভাবে মরদেহ আগুনে দগ্ধ হয়ে পরে আছে তাতে বাঁচার জন্য বিন্দু মাত্র চেষ্টা করা বা ছটফট করার কোন আলামত দেখা যাচ্ছেনা। তাই বিষয়টি ভাল করে ক্ষতিয়ে দেখতে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর ঘটনাটি উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

রাণীনগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) বাবলু চন্দ্র পাল জানান, আগুনে দগ্ধ হয়ে পোড়া বাসন্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এঘটনায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা জানতে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রির্পোট হাতে আসলেই পরবর্তি পদক্ষেপ নেয়া হবে। এছাড়া বিষয়টি আরো ভাল করে সুষ্ঠু তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

হৃদপিণ্ডে ছিদ্র ও খাদ্যনালী ব্লক: বাঁচতে চায় ১৩ মাসের শিশু অর্পিতা

রাণীনগরে গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন

প্রকাশের সময় : ১১:০৮:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

নওগাঁর রাণীনগরে আগুনে দগ্ধ বাসন্তী রাণী (২৫) নামে এক গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি ) দুপুরে উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের হরিপুর গ্রাম থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বাসন্তী রাণী ওই গ্রামের প্রবাসী উৎপল চন্দের স্ত্রী।

গৃহবধুৃর মৃত্যু ঘিরে নানান গুঞ্জন ও জল্পনা কল্পনা চলছে। বাসন্তী রাণীর স্বজনরা দাবি করেছেন তাকে হত্যার পর আগুনে পুড়ে দগ্ধ করা হয়েছে।

বাসন্তী রাণীর শ্বশুর কৃষ্ণবন্ধু ওরফে মুন্টু জানান, সোমবার সকালে মাঠের মধ্যে ক্ষেতে আলু তোলার জন্য আমরা সবাই চলে যাই। বাড়ীতে শুধুমাত্র বউমা বাসন্তী একাই ছিল। বেলা সাড়ে ১০টা নাগাদ আলু রাখার জন্য বস্তা নিয়ে আসার কথা বলার জন্য বউমার ফোনে একাধীকবার ফোন দিয়েও কোন সারা পাওয়া যায়নি।

ফলে মাঠ থেকে বাড়ীতে এসে দেখতে পান চুলার পারে বউমার শরীর আগুনে জলছে। এসময় প্রতিবেশীদের ডাক দিলে তারা দৌড়ে ছুটে আসে। কিন্তু ততক্ষনে বউমার শরীর পুরোটা আগুনে পুড়ে দগ্ধ হয়ে ঝলসে গেছে।

তিনি ধারনা করে বলেন, হয়তো চুলায় খড়ি দিয়ে ভাত গরম করার সময় আগুন ধরে পুড়ে মারা যেতে পারে।

বাসন্তীর ছোট বোন লক্ষী রাণী বলেন, কয়েক মাস আগে বাসন্তীর শ্বাশুড়ী মারা গেছেন। মাত্র তিন বছরের এক কন্যা শিশু নিয়ে শ্বশুড়ের সাথে বাড়ীতে থাকতেন বাসন্তী। এছাড়া স্বামী উৎপল কুয়েতে থাকেন। তার সাথে পারিবারিক নানান বিষয় নিয়ে বনি-বনা হচ্ছিলনা। প্রায় মোবাইল ফোনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব হতো। তাই অতিষ্ঠ হয়ে রোববার মোবাইল ফোনে জানিয়েছিলেন বাবার বাড়ীতে নিয়ে যাবার কথা। অথচ আজ তার মরদেহ দেখছি।

বাসন্তীর মামা গোপেস চন্দ্র বলেন, আমার ভাগনী আগুনে পুরে মারা যায়নি। তাকে হত্যার পর আগুনে পোড়ানো হয়েছে।

তিনি দাবি করে বলেন, মানুষের শরীরে আগুন ধরলে নানান ভাবে বাঁচার চেষ্টা করে। অথচ যেভাবে মরদেহ আগুনে দগ্ধ হয়ে পরে আছে তাতে বাঁচার জন্য বিন্দু মাত্র চেষ্টা করা বা ছটফট করার কোন আলামত দেখা যাচ্ছেনা। তাই বিষয়টি ভাল করে ক্ষতিয়ে দেখতে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর ঘটনাটি উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

রাণীনগর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) বাবলু চন্দ্র পাল জানান, আগুনে দগ্ধ হয়ে পোড়া বাসন্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এঘটনায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা জানতে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রির্পোট হাতে আসলেই পরবর্তি পদক্ষেপ নেয়া হবে। এছাড়া বিষয়টি আরো ভাল করে সুষ্ঠু তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।