শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬,
৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আত্রাইয়ে ভিজিএফের চাল বিতরণে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ

নওগাঁর আত্রাইয়ে ভিজিএফ (VGF) কর্মসূচির চাল বিতরণে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে আত্রাই উপজেলা পরিষদ চত্বরে চাল বিতরণের সময় এ অনিয়ম ধরা পড়ে।

জানা যায়, উপজেলার ৪নং পাঁচুপুর ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে সরকারিভাবে ২ হাজার ৩৫৯ জন উপকারভোগীর মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক উপকারভোগীকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেকেই কম পরিমাণ চাল পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে বালতি দিয়ে চাল মাপা হচ্ছে। সেখানে চাল মেপে দেখা যায় এক বালতিতে ৮ কেজি ৯০০ গ্রাম চাল হয়েছে। আবার পাশের আরেক ওয়ার্ডের চাল বিতরণ কেন্দ্রে গিয়ে চাল মেপে পাওয়া যায় সাড়ে ৮ কেজি চাল।

এ সময় চাল বিতরণস্থলের পাশেই কিছু ব্যবসায়ীকে উপকারভোগীদের কাছ থেকে চাল কিনতে দেখা যায়। এতে অনেকের মধ্যেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে ৪নং পাঁচুপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, বস্তার ওজন এবং বস্তায় কিছুটা চাল কম থাকায় পরিমাণে কিছুটা কম দেওয়া হচ্ছে। তবে আমি সবাইকে বলে দিয়েছি যেন কাউকে ৯ কেজির কম চাল না দেওয়া হয়।

এদিকে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও দেরিতে আসায় কয়েকজনকে চাল দেওয়া হয়নি। এতে অনেকে চাল না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

চকবিষ্টপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, “আমার ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা, কিন্তু মেপে দেখলাম ৮ কেজি ৩০০ গ্রাম। কেন কম দেওয়া হলো বুঝতে পারছি না।”

বিল গলিয়া গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী অভিযোগ করে বলেন, তিনি এনআইডি কার্ড জমা দিলেও তাকে চাল দেয়া হয়নি।

অপরদিকে বিহারীপুর রেল কলোনির পিয়া জানান, চাল বিতরণের সময় উপস্থিত না থাকায় তাকে চাল দেওয়া হয়নি। এতে তিনি হতাশা প্রকাশ করে ফিরে যান।

উপকারভোগীদের কয়েকজন জানান, ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও মেপে দেখা যায় কারও বস্তায় ৮ কেজি, কারও ৮ কেজি ৩০০ গ্রাম, আবার কারও প্রায় পৌনে ৯ কেজি চাল রয়েছে। এতে চাল নিতে আসা মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন উপকারভোগী বলেন, সরকার গরিব মানুষের জন্য যে চাল বরাদ্দ দিয়েছে তা সঠিকভাবে বিতরণ না হলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হন। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে ট্যাগ অফিসার ফায়সাল আলম বলেন, চাল কম দেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। তবে পাশেই চাল কেনাবেচার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তাদের একবার সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে আবার চলে এসেছে।”

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল হান্নান বলেন, “চাল কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি এইমাত্র শুনলাম। আমি লোক সেখানে পাঠাচ্ছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মোঃ আলাউল ইসলাম বলেন, “এখানে আইসিটি কর্মকর্তা ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্বে আছেন। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (প্যানেল চেয়ারম্যান) ও ইউনিয়ন সচিব দায়িত্বে রয়েছেন। আপনি যেহেতু অভিযোগ জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

আত্রাইয়ে ভিজিএফের চাল বিতরণে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০১:৩৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

নওগাঁর আত্রাইয়ে ভিজিএফ (VGF) কর্মসূচির চাল বিতরণে ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে আত্রাই উপজেলা পরিষদ চত্বরে চাল বিতরণের সময় এ অনিয়ম ধরা পড়ে।

জানা যায়, উপজেলার ৪নং পাঁচুপুর ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে সরকারিভাবে ২ হাজার ৩৫৯ জন উপকারভোগীর মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক উপকারভোগীকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেকেই কম পরিমাণ চাল পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, দাঁড়িপাল্লার পরিবর্তে বালতি দিয়ে চাল মাপা হচ্ছে। সেখানে চাল মেপে দেখা যায় এক বালতিতে ৮ কেজি ৯০০ গ্রাম চাল হয়েছে। আবার পাশের আরেক ওয়ার্ডের চাল বিতরণ কেন্দ্রে গিয়ে চাল মেপে পাওয়া যায় সাড়ে ৮ কেজি চাল।

এ সময় চাল বিতরণস্থলের পাশেই কিছু ব্যবসায়ীকে উপকারভোগীদের কাছ থেকে চাল কিনতে দেখা যায়। এতে অনেকের মধ্যেই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে ৪নং পাঁচুপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, বস্তার ওজন এবং বস্তায় কিছুটা চাল কম থাকায় পরিমাণে কিছুটা কম দেওয়া হচ্ছে। তবে আমি সবাইকে বলে দিয়েছি যেন কাউকে ৯ কেজির কম চাল না দেওয়া হয়।

এদিকে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও দেরিতে আসায় কয়েকজনকে চাল দেওয়া হয়নি। এতে অনেকে চাল না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

চকবিষ্টপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, “আমার ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা, কিন্তু মেপে দেখলাম ৮ কেজি ৩০০ গ্রাম। কেন কম দেওয়া হলো বুঝতে পারছি না।”

বিল গলিয়া গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী অভিযোগ করে বলেন, তিনি এনআইডি কার্ড জমা দিলেও তাকে চাল দেয়া হয়নি।

অপরদিকে বিহারীপুর রেল কলোনির পিয়া জানান, চাল বিতরণের সময় উপস্থিত না থাকায় তাকে চাল দেওয়া হয়নি। এতে তিনি হতাশা প্রকাশ করে ফিরে যান।

উপকারভোগীদের কয়েকজন জানান, ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও মেপে দেখা যায় কারও বস্তায় ৮ কেজি, কারও ৮ কেজি ৩০০ গ্রাম, আবার কারও প্রায় পৌনে ৯ কেজি চাল রয়েছে। এতে চাল নিতে আসা মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন উপকারভোগী বলেন, সরকার গরিব মানুষের জন্য যে চাল বরাদ্দ দিয়েছে তা সঠিকভাবে বিতরণ না হলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হন। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে ট্যাগ অফিসার ফায়সাল আলম বলেন, চাল কম দেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। তবে পাশেই চাল কেনাবেচার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তাদের একবার সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে আবার চলে এসেছে।”

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল হান্নান বলেন, “চাল কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি এইমাত্র শুনলাম। আমি লোক সেখানে পাঠাচ্ছি।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মোঃ আলাউল ইসলাম বলেন, “এখানে আইসিটি কর্মকর্তা ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্বে আছেন। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (প্যানেল চেয়ারম্যান) ও ইউনিয়ন সচিব দায়িত্বে রয়েছেন। আপনি যেহেতু অভিযোগ জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। কোথাও অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”