
নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেই বারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রাহকরা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট প্রায় ৬৫ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এখানে ১২টি ফিডার এবং ৩টি উপকেন্দ্র চালু রয়েছে। তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সামান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগেই পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিপর্যয় দেখা দেয়।
স্থানীয়রা জানান, ভিআইপি লাইনে ২৪ ঘণ্টায় ৩ থেকে ৪ বার বিদ্যুৎ গেলেও গ্রামাঞ্চলের অনেক এলাকায় দিন-রাত মিলিয়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। এতে করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা ও কৃষক আব্দুল করিম জানান, বর্তমানে বোরো মৌসুম শুরু হওয়ায় সেচের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। কিন্তু ঘনঘন বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলার আরেক কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, “রাতে সেচ দেওয়ার জন্য মাঠে যাই, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে, ফসল নিয়েও দুশ্চিন্তা বাড়ছে।”
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক আরেক কৃষক জানান, “বোরো ধানের সময় নিয়মিত পানি না পেলে ফলন কমে যাবে। বিদ্যুতের এই সমস্যার কারণে আমরা বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছি।”
এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম এবং গৃহস্থালির কাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়ছে, ইন্টারনেট ব্যবহারে বিঘ্ন ঘটছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ লাইনের কারণে এ সমস্যা লেগেই আছে। ঝড়-বৃষ্টিতে গাছের ডাল ভেঙে লাইনের ওপর পড়ে, আবার অনেক সময় তার ছিঁড়ে যায়, ফলে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয় না।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড-এর অধীন আত্রাই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জসিম উদ্দিন বলেন, “আত্রাইয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র না থাকায় লোডশেডিং তুলনামূলক বেশি হচ্ছে। এছাড়াও নওগাঁ থেকে ৩৩ কেভি মেইন লাইনের সংযোগ প্রায় ২৭ কি.মি. দূর হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের কারিগরি সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই মেইন লাইনে ফল্ট বা তার ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে, যার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। এই সমস্যা পুরোপুরি সমাধানের জন্য গ্রিড কেন্দ্র স্থাপন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ লাইনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা অপসারণের কাজ চলমান রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত গ্রিড সংযোগ নিশ্চিত করা, পুরোনো লাইন সংস্কার, নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন এবং ঝড়-বৃষ্টির সময় দ্রুত বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম বাড়ানো হোক। পাশাপাশি কৃষি মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করারও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















