মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬,
২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের ইরানে হামলা স্থগিতের ঘোষণায় কমল তেলের দাম

ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা পাঁচদিনের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ব্যাপক দরপতন হয়েছে।

আলজাজিরা প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (২৩ মার্চ) গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১১টা ৮ মিনিটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বা ১৭ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারে নেমে আসে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারসের দাম ১৩ ডলার বা ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৮৫ দশমিক ২৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

এরআগে সোমবার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের মধ্যকার শত্রুতা পুরোপুরি ও সার্বিক সমাধানের ব্যাপারে কথা অনেক দূর এগিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তেহরানের সঙ্গে এই গভীর, বিশদ এবং গঠনমূলক আলোচনায় তাদের সুর ও মেজাজের উপর ভিত্তি করে, যা সপ্তাহজুড়ে চলবে, আমি যুদ্ধ মন্ত্রণালয়কে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছি।’

তবে ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যোগাযোগ হয়নি বলে দাবি করেছে ইরানি গণমাধ্যম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো সরাসরি যোগাযোগ হয়নি, এমনকি কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেও নয়’।

তিনি আরও দাবি করেন, “ইরান উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইসরায়েলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবে—এমন সতর্কবার্তা পাওয়ার পরই ট্রাম্প ‘পিছু হটেছেন’।” তবে আলোচনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য আসেনি।

মূলত, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব, ইরাক, আরব আমিরাত এবং কুয়েত উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়াও ইরান বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের সমুদ্র পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, যা তেলের বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের শুরুতে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ দশমিক ৫০ ডলার এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১১৯ দশমিক ৪৮ ডলারে উঠেছিল, পরে দাম কিছুটা কমে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

ট্রাম্পের ইরানে হামলা স্থগিতের ঘোষণায় কমল তেলের দাম

প্রকাশের সময় : ০৭:১৫:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা পাঁচদিনের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ব্যাপক দরপতন হয়েছে।

আলজাজিরা প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (২৩ মার্চ) গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১১টা ৮ মিনিটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বা ১৭ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারে নেমে আসে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারসের দাম ১৩ ডলার বা ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৮৫ দশমিক ২৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

এরআগে সোমবার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের মধ্যকার শত্রুতা পুরোপুরি ও সার্বিক সমাধানের ব্যাপারে কথা অনেক দূর এগিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তেহরানের সঙ্গে এই গভীর, বিশদ এবং গঠনমূলক আলোচনায় তাদের সুর ও মেজাজের উপর ভিত্তি করে, যা সপ্তাহজুড়ে চলবে, আমি যুদ্ধ মন্ত্রণালয়কে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছি।’

তবে ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যোগাযোগ হয়নি বলে দাবি করেছে ইরানি গণমাধ্যম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কোনো সরাসরি যোগাযোগ হয়নি, এমনকি কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেও নয়’।

তিনি আরও দাবি করেন, “ইরান উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইসরায়েলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবে—এমন সতর্কবার্তা পাওয়ার পরই ট্রাম্প ‘পিছু হটেছেন’।” তবে আলোচনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য আসেনি।

মূলত, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব, ইরাক, আরব আমিরাত এবং কুয়েত উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়াও ইরান বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের সমুদ্র পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, যা তেলের বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের শুরুতে ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ দশমিক ৫০ ডলার এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১১৯ দশমিক ৪৮ ডলারে উঠেছিল, পরে দাম কিছুটা কমে।