
অল্প উৎপাদন খরচ, ভালো বাজারদর এবং লাভজনক হওয়ায় নীলফামারীতে দিন দিন বাড়ছে আখের আবাদ। কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধির ফলে চলতি মৌসুমে জেলার আখ চাষের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় বেড়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে জেলায় প্রায় ১৮০ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঈশ্বরদী-১৬, ঈশ্বরদী-১৭ এবং বিএসআরআই-৪১, ৪৫ ও ৪৭ জাতের আখ চাষ হচ্ছে। উর্বর বেলে দোআঁশ মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এসব জাতের আখ ভালো ফলন দিচ্ছে।
কৃষকদের ভাষ্য, বিঘাপ্রতি আখ চাষে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রায় ১০ মাস পর ফসল সংগ্রহ করা যায়। ফলন ভালো হলে বিঘাপ্রতি আখ বিক্রি করে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব। এ কারণে ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখ চাষকে বেশি লাভজনক মনে করছেন তারা।
সদর উপজেলার লক্ষীচাপ ইউনিয়নের কৃষক শিখনাথ রায় বলেন, ১৫ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করেছেন তিনি। লাভজনক হওয়ায় আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে আবাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সময়মতো রোগবালাই দমন না করলে পচন রোগের ঝুঁকি বাড়ে বলে জানান তিনি।
একই ইউনিয়নের বসুনিয়া বাজার এলাকার কৃষক ধীরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, আখ চাষে লাভ থাকলেও রোগবালাই, অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। এজন্য কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
নীলফামারী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আতিক আহমেদ জানান, আখ চাষে সরাসরি উপকরণ সহায়তা না থাকলেও আধুনিক চাষাবাদ ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হোমায়রা বলেন, নীলফামারীর মাটি আখ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার আখ রসালো ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও ভালো। তিনি জানান, আখের সঙ্গে সরিষা, বাদাম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মিষ্টি কুমড়া ও স্কোয়াশের মতো সাথী ফসল চাষ করে কৃষকরা অতিরিক্ত আয় করতে পারেন।
তবে কৃষকদের দাবি, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষি বিভাগের প্রণোদনা ও কারিগরি সহায়তা আরও বাড়ানো গেলে জেলায় আখের আবাদ ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
নীলফামারী প্রতিনিধি 








