
বর্ষার পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে নওগাঁর হাঁসাইগাড়ী বিল এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। জেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এই বিশাল জলাধারে প্রতিদিনই ভিড় করছেন হাজারো দর্শনার্থী। নতুন সড়ক নির্মাণের ফলে সহজ যোগাযোগব্যবস্থাও পর্যটক বাড়ার অন্যতম কারণ।
হাঁসাইগাড়ী ও শিকারপুর ইউনিয়নের সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত বিলটি বর্ষাকালে তুলসীগঙ্গা নদীসহ আশপাশের অন্তত ছয়টি বিলের পানিতে একাকার হয়ে প্রায় ৩ হাজার ২০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে জলরাশিতে পরিণত হয়। চারদিকে পানি, হিজল-করচের বন, কচুরিপানার ফুল এবং বিভিন্ন প্রজাতির পাখির সমাগম মিলিয়ে সৃষ্টি হয়েছে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ।
সম্প্রতি কাঠখইর থেকে নওগাঁ পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন পাকা সড়ক নির্মাণ হওয়ায় বিলে যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে। আগে বর্ষাকালে চলাচলে দুর্ভোগ থাকলেও এখন সহজেই দর্শনার্থীরা সেখানে পৌঁছাতে পারছেন।
বিকেলের দিকে বিলের মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া সড়কের দুই পাশে শান্ত জলরাশি আর শীতল বাতাস উপভোগ করতে অসংখ্য মানুষ ভিড় করেন। কেউ পরিবার নিয়ে হাঁটাহাঁটি করেন, আবার কেউ নৌকায় ঘুরে বিলের সৌন্দর্য ও সূর্যাস্ত উপভোগ করেন। অনেকেই সেই মুহূর্ত ক্যামেরায় ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন।
স্থানীয়দের মতে, পর্যটক বাড়ার ফলে এলাকায় ছোট খাবারের দোকান, ডাব, চটপটি-ফুচকার স্টল এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা গড়ে উঠেছে। নৌকা চালিয়েও অনেক মাঝি অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তবে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার বিষয়েও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং নৌভ্রমণে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া পরিকল্পিত পর্যটন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা গেলে হাঁসাইগাড়ী বিল ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পরিবেশবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
বর্ষার অপরূপ সৌন্দর্যে সেজে ওঠা হাঁসাইগাড়ী বিল এখন শুধু নওগাঁ নয়, আশপাশের জেলার ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছেও একটি জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি নওগাঁ 








