
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাহেবগঞ্জ বাজার থেকে বিপ্র-বোয়ালিয়া সড়কের দুটি স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে আছেন এলাকাবাসী। সাহেবগঞ্জ সরদারপাড়ায় প্রায় এক বছর আগে ড্রেন নির্মাণ শেষ হলেও ড্রেনের ভেতরে থাকা একটি খুঁটির কারণে কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন করা যায়নি। একই সড়কের জয়সারা মধ্যপাড়া গ্রামে সড়ক নির্মাণের প্রায় দুই মাস পার হলেও সড়কের মাঝখানে এখনো রয়ে গেছে আরেকটি বিদ্যুতের খুঁটি।
সাহেবগঞ্জ সরদারপাড়ায় সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত ড্রেনের ভেতরে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে যাওয়ায় পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে পানি জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটছে। অন্যদিকে জয়সারা মধ্যপাড়া গ্রামে সড়কের মাঝখানে থাকা খুঁটির কারণে যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলা ও বর্ষাকালে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
জয়সারা গ্রামের বাসিন্দা রাব্বি সরদার বলেন, সড়ক মেরামতের দুই মাস পার হলেও খুঁটি অপসারণে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ বা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
নবাবেরতাম্বু গ্রামের টোটোচালক বেলায়েত হোসেন বলেন, সাহেবগঞ্জ-বিপ্রবোয়ালিয়া সড়কের জয়সারা মধ্যপাড়া এলাকায় সড়কের মাঝখানে খুঁটি এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকের কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন দেখা যায় না। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত খুঁটি অপসারণ করা জরুরি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরদারপাড়ার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ড্রেন নির্মাণের যে সুফল পাওয়ার কথা ছিল, খুঁটির কারণে তা মিলছে না। উল্টো পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়ে ময়লা-আবর্জনা জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং পথচারীদের চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণের বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় নির্মাণকাজের প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না। তাদের দাবি, এ ঘটনায় দায়িত্ব নির্ধারণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সমন্বয়হীনতা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে আত্রাই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জসিম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় থেকে লিখিতভাবে অবহিত করা হলে খুঁটি অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী নিতিশ কুমার বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 








