বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ক্যান্টিনবয় গ্রেপ্তার

  • বগুড়া প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ১০:২০:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

চলন্ত কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্যান্টিনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিককে (২২) আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন ট্রেনের যাত্রীরা। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ৪৪ বছর বয়সী ওই নারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলার দুজন অজ্ঞাতপরিচয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অজ্ঞাত দুজনের মধ্যে দুজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। তবে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী নারীর বাড়ি সিরাজগঞ্জে। সোমবার রাতে তিনি ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন। ট্রেনটি নাটোর এলাকা অতিক্রম করার সময় চলন্ত ট্রেনের ক্যান্টিনে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

এ সময় ওই নারীর চিৎকার শুনে যাত্রীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং ক্যান্টিনবয় আবু বক্করকে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রেলওয়ে পুলিশের এসপি (পাকশী) মেহেদী হাসান জানান, ওই নারী ভুল করে বিনা টিকিটে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে উঠেছিলেন। নাটোর স্টেশন অতিক্রমের পর তিনি মোবাইল ফোনে তার ছেলেকে ঘটনা জানান। পরে তার ছেলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে।

পরে পার্বতীপুর রেলস্টেশন থেকে ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্ত আবু বক্করকে সান্তাহার রেলওয়ে থানায় নেওয়া হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতে পাঠানোর পর আবু বক্কর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে একাই ধর্ষণে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে মামলায় আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে এবং তাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় সার্কেল এএসপিকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট টিজি পার্টির ইনচার্জসহ সদস্যদের ক্লোজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পুলিশের এসপি।

সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি দুলাল উদ্দীন বলেন, “তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একজন গ্রেপ্তার হয়েছে। দুজন অজ্ঞাত। বাদী বলেছেন, তাদের মধ্যে দুজন পুলিশ সদস্য। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

গ্রেপ্তার আবু বক্কর সিদ্দিক নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের মৃত মাসুদ রানার ছেলে।

এদিকে বগুড়া জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পরিদর্শক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আবু বক্কর সিদ্দিককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

রাণীনগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, সমাবেশ

কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ক্যান্টিনবয় গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময় : ১০:২০:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলন্ত কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্যান্টিনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্যান্টিনবয় আবু বক্কর সিদ্দিককে (২২) আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন ট্রেনের যাত্রীরা। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ৪৪ বছর বয়সী ওই নারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। মামলার দুজন অজ্ঞাতপরিচয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অজ্ঞাত দুজনের মধ্যে দুজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। তবে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী নারীর বাড়ি সিরাজগঞ্জে। সোমবার রাতে তিনি ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠেন। ট্রেনটি নাটোর এলাকা অতিক্রম করার সময় চলন্ত ট্রেনের ক্যান্টিনে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

এ সময় ওই নারীর চিৎকার শুনে যাত্রীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং ক্যান্টিনবয় আবু বক্করকে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রেলওয়ে পুলিশের এসপি (পাকশী) মেহেদী হাসান জানান, ওই নারী ভুল করে বিনা টিকিটে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে উঠেছিলেন। নাটোর স্টেশন অতিক্রমের পর তিনি মোবাইল ফোনে তার ছেলেকে ঘটনা জানান। পরে তার ছেলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে।

পরে পার্বতীপুর রেলস্টেশন থেকে ভুক্তভোগী নারী ও অভিযুক্ত আবু বক্করকে সান্তাহার রেলওয়ে থানায় নেওয়া হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতে পাঠানোর পর আবু বক্কর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে একাই ধর্ষণে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে মামলায় আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে এবং তাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা তদন্ত করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় সার্কেল এএসপিকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট টিজি পার্টির ইনচার্জসহ সদস্যদের ক্লোজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে পুলিশের এসপি।

সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি দুলাল উদ্দীন বলেন, “তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে একজন গ্রেপ্তার হয়েছে। দুজন অজ্ঞাত। বাদী বলেছেন, তাদের মধ্যে দুজন পুলিশ সদস্য। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

গ্রেপ্তার আবু বক্কর সিদ্দিক নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের মৃত মাসুদ রানার ছেলে।

এদিকে বগুড়া জেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পরিদর্শক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আবু বক্কর সিদ্দিককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।