বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যানজট নিরসনে আশুলিয়ায় চালু হলো দুই সার্ভিস সেতু

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ৩ দশমিক ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। মূল এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলাকালে সাভার, আশুলিয়া ও ঢাকার মধ্যে যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতেই সেতু দুটি নির্মাণ করা হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার আশুলিয়ার ধউর এলাকায় ফিতা কেটে সেতু দুটির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পরপরই যানবাহন চলাচলের জন্য সেতু দুটি খুলে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন সার্ভিস সেতু দুটি সম্পূর্ণ টোলমুক্ত। সাধারণ যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীরাও এগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। তবে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সেতুতে যানবাহনের উচ্চতার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সীমার বেশি উচ্চতার যানবাহন সেতু দুটিতে চলাচল করতে পারবে না।

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ইপিজেড থেকে আশুলিয়া হয়ে বিমানবন্দরের কাওলা এলাকায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এর ফলে বিমানবন্দর থেকে কুড়িল, বনানী, তেজগাঁও হয়ে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পের আওতায় সাভার ও বাইপাইল এলাকার যানজট কমাতে বাইপাইল মোড়ে মাল্টি-লেভেল ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিমানবন্দরে প্রবেশের জন্য বিশেষ র‍্যাম্প এবং মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-১ স্টেশনের সঙ্গে পৃথক সংযোগও নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৬৬ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৫৬ দশমিক ০২ শতাংশ।

২০১৭ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০৩০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সরকারের প্রত্যাশা, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পুরোপুরি চালু হলে রাজধানী ও আশপাশের এলাকার সড়ক যোগাযোগ আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ০ দশমিক ২১৭ শতাংশ বাড়তে পারে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

হেয়ারে বালু উত্তোলন, ইউপি সদস্য সাইদুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

যানজট নিরসনে আশুলিয়ায় চালু হলো দুই সার্ভিস সেতু

প্রকাশের সময় : ১১:০২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ৩ দশমিক ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। মূল এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলাকালে সাভার, আশুলিয়া ও ঢাকার মধ্যে যানজট ও জনদুর্ভোগ কমাতেই সেতু দুটি নির্মাণ করা হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার আশুলিয়ার ধউর এলাকায় ফিতা কেটে সেতু দুটির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পরপরই যানবাহন চলাচলের জন্য সেতু দুটি খুলে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন সার্ভিস সেতু দুটি সম্পূর্ণ টোলমুক্ত। সাধারণ যানবাহনের পাশাপাশি পথচারীরাও এগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। তবে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সেতুতে যানবাহনের উচ্চতার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সীমার বেশি উচ্চতার যানবাহন সেতু দুটিতে চলাচল করতে পারবে না।

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ইপিজেড থেকে আশুলিয়া হয়ে বিমানবন্দরের কাওলা এলাকায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এর ফলে বিমানবন্দর থেকে কুড়িল, বনানী, তেজগাঁও হয়ে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পর্যন্ত প্রায় ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পের আওতায় সাভার ও বাইপাইল এলাকার যানজট কমাতে বাইপাইল মোড়ে মাল্টি-লেভেল ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিমানবন্দরে প্রবেশের জন্য বিশেষ র‍্যাম্প এবং মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-১ স্টেশনের সঙ্গে পৃথক সংযোগও নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৬৬ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৫৬ দশমিক ০২ শতাংশ।

২০১৭ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০৩০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সরকারের প্রত্যাশা, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পুরোপুরি চালু হলে রাজধানী ও আশপাশের এলাকার সড়ক যোগাযোগ আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ০ দশমিক ২১৭ শতাংশ বাড়তে পারে।