
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে নিহত হওয়ার প্রায় পৌনে তিন মাস পর দেশে ফিরেছে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার চার প্রবাসীর মরদেহ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে মরদেহগুলো একে একে তাঁদের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। প্রিয়জনকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ।
এর আগে শনিবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে নিহতদের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিকেল থেকে আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মেঠোপথ ধরে একে একে প্রবেশ করে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স। অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন আর স্বজনদের কান্নায় শোকাবহ হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। যে পথ দিয়ে একদিন হাসিমুখে প্রিয়জনদের ঘরে ফেরার কথা ছিল, সেই পথ দিয়েই ফিরলেন তাঁরা নিথর দেহে। অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর খবর পেয়ে শেষবারের মতো প্রিয়জনদের মুখ দেখতে বাড়িতে ছুটে আসেন আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকার অসংখ্য মানুষ।
নিহত চারজন হলেন আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান শুভ, মধ্য-বোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মাসিদুল সরদার সজিব এবং সাধনগর গ্রামের সাগর আলী।
শনিবার সন্ধ্যায় হাসিবুল হাসান শুভ, মাসিদুল সরদার সজিব ও সাগর আলীর নিজ নিজ গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। তবে মধ্য-বোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিকের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টায়। পরে তাঁর মরদেহ দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান জানান, নিহতদের দাফন-কাফনের জন্য আপাতত পরিবারপ্রতি ৩৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাস পর সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তিন লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ জন বাংলাদেশি নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ১২ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। দুর্ঘটনার পর গত ২৭ আগস্ট প্রথম দফায় সাতজনের মরদেহ দেশে আনা হয়। তবে আগুনে পুড়ে মরদেহের চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় অন্যদের পরিচয় শনাক্তে জটিলতা দেখা দেয়। পরে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর প্রায় পৌনে তিন মাসের মাথায় বাকি মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আ
না হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 








