শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,
১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলফাডাঙ্গায় নিলাম ছাড়াই স্কুলের ঘর বিক্রির অভিযোগ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নিলাম বা সরকারি বিধিমালা অনুসরণ না করেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি সেমিপাকা ঘর ভেঙে মালামাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন উপজেলার টিটা পানাইল চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইনামুল হক খান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের দুটি সেমিপাকা টিনশেড ঘরের টিন, ইটসহ বিভিন্ন মালামাল কোনো ধরনের নিলাম বা মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া ছাড়াই বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে ক্রেতারা এসব মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, একটি ঘর পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হয়েছে। অন্য ঘরটির টিনের চালা ও বেড়াও খুলে নেওয়া হয়েছে। ইট ভাঙার কাজে নিয়োজিত শিকড়পুর গ্রামের হরেকৃষ্ণ মণ্ডল জানান, তিনি প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকায় দুটি ঘরের ইট কিনেছেন।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মুসলিমা বেগম বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইনামুল হক খান বলেন, “ঘরগুলো টেন্ডার দেওয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে আর টেন্ডার দেওয়া হয়নি। ঘরের টিনগুলো ভাঙারির কাছে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। সেই টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ে সুপারি গাছ লাগিয়েছি।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সরওয়ার হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিব বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ছড়ানোর ঘটনায় তদন্তে নামছে নাটোর জেলা বিএনপি

আলফাডাঙ্গায় নিলাম ছাড়াই স্কুলের ঘর বিক্রির অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৯:২৬:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নিলাম বা সরকারি বিধিমালা অনুসরণ না করেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি সেমিপাকা ঘর ভেঙে মালামাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষক হলেন উপজেলার টিটা পানাইল চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইনামুল হক খান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের দুটি সেমিপাকা টিনশেড ঘরের টিন, ইটসহ বিভিন্ন মালামাল কোনো ধরনের নিলাম বা মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া ছাড়াই বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে ক্রেতারা এসব মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, একটি ঘর পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হয়েছে। অন্য ঘরটির টিনের চালা ও বেড়াও খুলে নেওয়া হয়েছে। ইট ভাঙার কাজে নিয়োজিত শিকড়পুর গ্রামের হরেকৃষ্ণ মণ্ডল জানান, তিনি প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকায় দুটি ঘরের ইট কিনেছেন।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মুসলিমা বেগম বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইনামুল হক খান বলেন, “ঘরগুলো টেন্ডার দেওয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে আর টেন্ডার দেওয়া হয়নি। ঘরের টিনগুলো ভাঙারির কাছে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। সেই টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ে সুপারি গাছ লাগিয়েছি।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সরওয়ার হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিব বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”