রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,
১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আত্রাইয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ শূন্য, পাসের হার মাত্র ১৮.৭০ শতাংশ

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম হতাশাজনক চিত্র। উপজেলার সাতটি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৮১৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১৫৩ জন। এতে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, সাতটি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, উপজেলার সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ থেকে সর্বোচ্চ ৯২ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। এছাড়া আত্রাই মহিলা কলেজ থেকে ২০ জন, বান্দাইখাড়া কলেজ থেকে ১৯ জন, পাইকরা বড়াইকুড়ি কলেজ থেকে ১৬ জন, কচিরউদ্দিন দেওয়ান মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৩ জন, বড়শিমলা মহিলা কলেজ থেকে ২ জন এবং শুটকিগাছা কে ডি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার সাতটি কলেজের কোনো প্রতিষ্ঠান থেকেই জিপিএ-৫ অর্জনের খবর পাওয়া যায়নি। সামগ্রিকভাবে পাসের হার এত কম হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এমন ফলাফলের পেছনে শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, পাঠদানের পরিবেশ, অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তিসহ বিভিন্ন কারণকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল পর্যালোচনা করে দুর্বলতার কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রায়হান-উল কবীর বলেন, শিক্ষার্থীদের কলেজে উপস্থিতির হার কম, অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতার অভাব এবং শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তির কারণে এমন ফলাফল হয়েছে। তবে আগামীতে এ ধরনের পরিস্থিতি থাকবে না বলে আমরা আশা করছি। শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আশা করছি, আগামীতে ফলাফল অনেক ভালো হবে।

অন্যদিকে, আত্রাই মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জিয়াউল হক বলেন, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকত না। তারা বাড়িতে বসে পড়াশোনা করবে বলে আমাদের জানাত। তবে ফলাফল খারাপ হওয়ায় আমরা ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সভা করেছি এবং বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আশা করছি, আগামীতে পরীক্ষার ফলাফল আরও ভালো হবে।

সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের মতে, আত্রাই উপজেলার শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পাঠদানের মান বাড়ানো, শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। অন্যথায় আগামী দিনেও এমন হতাশাজনক ফলাফলের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

নওগাঁ পুলিশের ডিজিটাল প্রযুক্তিতে নাটোর থেকে চুরি হওয়া ভ্যান উদ্ধার, পিতা-পুত্র গ্রেপ্তার

আত্রাইয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ শূন্য, পাসের হার মাত্র ১৮.৭০ শতাংশ

প্রকাশের সময় : ০৬:২৪:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম হতাশাজনক চিত্র। উপজেলার সাতটি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৮১৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১৫৩ জন। এতে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, সাতটি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, উপজেলার সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ থেকে সর্বোচ্চ ৯২ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। এছাড়া আত্রাই মহিলা কলেজ থেকে ২০ জন, বান্দাইখাড়া কলেজ থেকে ১৯ জন, পাইকরা বড়াইকুড়ি কলেজ থেকে ১৬ জন, কচিরউদ্দিন দেওয়ান মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৩ জন, বড়শিমলা মহিলা কলেজ থেকে ২ জন এবং শুটকিগাছা কে ডি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার সাতটি কলেজের কোনো প্রতিষ্ঠান থেকেই জিপিএ-৫ অর্জনের খবর পাওয়া যায়নি। সামগ্রিকভাবে পাসের হার এত কম হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এমন ফলাফলের পেছনে শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, পাঠদানের পরিবেশ, অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তিসহ বিভিন্ন কারণকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল পর্যালোচনা করে দুর্বলতার কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রায়হান-উল কবীর বলেন, শিক্ষার্থীদের কলেজে উপস্থিতির হার কম, অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতার অভাব এবং শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তির কারণে এমন ফলাফল হয়েছে। তবে আগামীতে এ ধরনের পরিস্থিতি থাকবে না বলে আমরা আশা করছি। শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আশা করছি, আগামীতে ফলাফল অনেক ভালো হবে।

অন্যদিকে, আত্রাই মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জিয়াউল হক বলেন, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকত না। তারা বাড়িতে বসে পড়াশোনা করবে বলে আমাদের জানাত। তবে ফলাফল খারাপ হওয়ায় আমরা ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সভা করেছি এবং বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আশা করছি, আগামীতে পরীক্ষার ফলাফল আরও ভালো হবে।

সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের মতে, আত্রাই উপজেলার শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পাঠদানের মান বাড়ানো, শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। অন্যথায় আগামী দিনেও এমন হতাশাজনক ফলাফলের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।