
ভোক্তাদের জন্য আবারও বাড়ল তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম। নভেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নতুন এ মূল্য ঘোষণা করা হয়। নির্ধারিত নতুন দাম আজ রাত ৮টা থেকে কার্যকর হবে।
নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজির দাম পড়বে ১৭১ টাকা ৬৮ পয়সা। এর আগে অক্টোবর মাসে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। অর্থাৎ, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে রান্নার গ্যাস কিনতে ভোক্তাদের অতিরিক্ত ২২৩ টাকা গুনতে হবে।
বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, ১২ কেজির পাশাপাশি সাড়ে ৫ কেজি থেকে ৪৫ কেজি পর্যন্ত বিভিন্ন ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকার পর সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির দামও বাড়ানো হয়েছে। সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে এলপিজির দাম বাড়ায় সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে নতুন করে ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে আগে থেকেই বাজারে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে। খুচরা পর্যায়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নতুন করে দাম বাড়ায় বাজারে এর প্রভাব আরও পড়তে পারে।
এলপিজি আমদানিকারকদের দাবি, তারা বিইআরসির নির্ধারিত দামেই গ্যাস বিক্রি করছেন। তবে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের একটি অংশ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছে বলে অভিযোগ তাদের।
গত বৃহস্পতিবার বিইআরসির আয়োজিত গণশুনানিতে এলপিজি ব্যবসার বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারা। এ সময় ১২ কেজির সিলিন্ডারে বিদ্যমান ২০০ টাকা কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। ওমেরা ৪৭৮ টাকা, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা, ডেল্টা ৩৬০ টাকা এবং মেঘনা গ্রুপ ৩০০ টাকা কমিশন নির্ধারণের প্রস্তাব করে।
ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বড় জাহাজে এলপিজি আমদানি করে কুতুবদিয়া পর্যন্ত আনা হয়। সেখান থেকে লাইটারেজ জাহাজ ও সড়কপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে পরিবহনসহ বিভিন্ন খরচ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি এলপিজি ব্যবসা পরিচালনায় ৩১ ধরনের লাইসেন্স নিতে হয় বলেও দাবি করেন তারা।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবারের মতো এলপিজির মূল্য নির্ধারণের সময় ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ৯৭৫ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকায়।
এলপিজি তৈরির প্রধান উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো এসব উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে, যা সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত। এই মূল্য এবং আমদানি ব্যয়সহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দেশের বাজারে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 








