
গ্যাসের দাম বাড়িয়ে সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত দামের চেয়েও বেশি বাড়ানো হয়েছে এলপিজির দাম। এতে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের মুনাফা ও কমিশন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে ২৯ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, সরকার এমন সময়ে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানায়, যখন মানুষের পক্ষে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করা কঠিন হয়ে পড়ে। রাত প্রায় ১০টার দিকে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে প্রতিবাদ জানানো এবং মানুষের কথা তুলে ধরা রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও একবার রাত ১২টায় হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তখন সরকার ভেবেছিল, সকাল হওয়ার আগেই মানুষ বিষয়টি ভুলে যাবে।
এনসিপির এই নেতা জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩৬০ টাকা। সর্বশেষ দাম বাড়ানোর পর তা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকায়। অর্থাৎ প্রায় নয় মাসে দাম বেড়েছে ৭০০ টাকা।
তিনি বলেন, আগে ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থাকলেও বাজারে ক্রেতাদের ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিয়ে কিনতে হয়েছে। এখন নির্ধারিত দাম ২ হাজার ৬০ টাকা হওয়ায় বাজারে অনানুষ্ঠানিকভাবে সিলিন্ডারের দাম ৩ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সাধারণ মানুষের আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, এলপিজির দাম বৃদ্ধির প্রভাব অন্যান্য পণ্যের বাজারেও পড়বে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে। মানুষের আয় ও বেতন না বাড়লে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। একপর্যায়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে মানুষ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
এ সময় গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি আগামী চার দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, যেসব এলাকায় বাসাবাড়িতে নিয়মিত গ্যাস পাওয়া যায় না, সেখানে অনেক পরিবার রাতে কিংবা বিকেলে মাত্র এক ঘণ্টার জন্য গ্যাস পায়। এ সময় তারা রান্না করে রাখেন। কিন্তু চার দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকলে এসব পরিবারও বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার কিনবে।
তিনি বলেন, এর ফলে যেসব পরিবারের সিলিন্ডার ব্যবহারের প্রয়োজন ছিল না, তারাও একপ্রকার বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হবে। এতে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের জন্য নতুন বাজার তৈরি হবে। সরকার প্রস্তাবিত দামের চেয়েও বেশি দাম বাড়িয়ে সিন্ডিকেটের ব্যবসা ও কমিশন বৃদ্ধির সুযোগ করে দিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনের কথা জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী দিনে আরও বড় কর্মসূচি ঘোষণা করতে হতে পারে। যেভাবে জ্বালানির দাম বাড়ছে, তাতে রাজনৈতিক দল হিসেবে চুপ থাকার সুযোগ নেই।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এলপিজির দাম যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণে না আনা হলে এবং নির্ধারিত দামে সিলিন্ডারসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্য বিক্রি নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর ঘেরাও করার মতো কর্মসূচি দিতে হতে পারে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি এড়াতে দ্রুত জনগণের কথা শুনতে হবে। এলপিজি, অন্যান্য জ্বালানি পণ্য ও বিদ্যুতের দাম সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। এটাই তাদের দাবি।
আ.আ. ডেস্ক রিপোর্ট 











