
শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চালু করা হয়েছিল ‘সততা স্টোর’। কিন্তু নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় বরাদ্দ পাওয়া ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেই বন্ধ রয়েছে এ কার্যক্রম। কোথাও স্টোরের জন্য কক্ষ থাকলেও নেই প্রয়োজনীয় পণ্য ও নিয়মিত কার্যক্রম। ফলে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা চর্চার এই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সাল থেকে আত্রাই উপজেলায় সততা স্টোর কার্যক্রম চালু হয়। এ কার্যক্রমের আওতায় উপজেলার ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।

সততা স্টোরের মূল উদ্দেশ্য ছিল, শিক্ষার্থীরা নিজেরাই প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও খাবার কিনবে এবং নির্ধারিত মূল্য নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যাবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার চর্চা গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল।
আহসানুল্লাহ মেমোরিয়াল মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: ইসমাইল হোসেন বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময় সততা স্টোরের কোনো কিছুই পাইনি। তবে আগামীতে এটি চালুর চেষ্টা করব।
বাঁকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোছা: তাসলিমা খাতুন বলেন, করোনাকালীন সময়ে বরাদ্দের টাকায় কেনা কিছু মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত সততার পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে নতুন করে আবারও সততা স্টোর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আত্রাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আবুহেনা মোস্তফা কামাল বলেন, প্রতিষ্ঠানের কাজ শেষ হলে আবার সততা স্টোর চালু করা হবে।
শলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, টেস্ট পরীক্ষা চলায় আপাতত স্টোর বন্ধ রয়েছে। পরীক্ষা শেষে আবার চালু করা হবে। তবে সরেজমিনে গিয়ে স্টোরটিতে মাত্র দুই থেকে তিনশ টাকার মালামাল পাওয়া গেছে।
আত্রাই পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজীমুদ্দীন সরদার বলেন, করোনাকালীন সময়ে স্টোরের মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। পরবর্তীতে কক্ষসংকটের কারণে স্টোরটি বন্ধ রয়েছে।
শিক্ষার্থীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা স্টোরের নামে শুধু একটি কক্ষ বরাদ্দ রয়েছে। সেখানে কোনো কার্যক্রম নেই। অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জানান, স্টোরে কয়েক টাকার পটেটো চিপস ছাড়া আর তেমন কোনো খাবার পাওয়া যায় না। ভালো মানের খাবার পাওয়ার সুযোগ নেই। এ ছাড়া বেশিরভাগ সময় সততা স্টোরের কক্ষ তালাবদ্ধ থাকে।

অভিভাবকদের মতে, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও সততার শিক্ষা দিতে সততা স্টোর একটি ভালো উদ্যোগ। তবে দীর্ঘদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলে এর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। তাই দ্রুত এসব স্টোর পুনরায় চালু করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সততা স্টোর বন্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়মবহির্ভূতভাবে এটি বন্ধ রাখলে বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 












