মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬,
১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরিণ শিকারের ফাঁদে আটকা পড়েছে বাঘ

চোরা শিকারিদের পাতা হরিণ শিকারের ফাঁদে আটকে পড়েছে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার। ছবি : সংগৃহীত

সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে এবার আটকা পড়েছে বনের রাজা রয়েল বেঙ্গল টাইগার। বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বৈদ্ধমারী সংলগ্ন সুন্দরবনের শরকির খাল এলাকার বনে এই ঘটনা ঘটে। আটকে পড়া বাঘটিকে উদ্ধারে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আজ (রোববার) সকালে অভিযান শুরু করবে বন বিভাগ।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক দীপন চন্দ্র দাস জানান, মোংলার বৈদ্ধমারী ও জয়মনি এলাকার মাঝামাঝি শরকির খাল পাড়ের বনাঞ্চলে চোরা শিকারিরা হরিণ শিকারের জন্য ফাঁদ পেতেছিল। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরের পর খবর আসে, সেই ফাঁদেই একটি বাঘ আটকে পড়েছে।

খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং সত্যতা নিশ্চিত করেন। বাঘটি বনের ভেতরে খাল পাড় থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার গভীরে আটকে রয়েছে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, বাঘটির নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষায় পুরো এলাকা ইতিমধ্যে কর্ডন বা ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। যাতে কোনো উৎসুক জনতা বাঘটির কাছাকাছি যেতে না পারে। শনিবার গভীর রাতে এলাকায় ফাঁকা গুলি ছোড়ার পরিকল্পনা রয়েছে বন বিভাগের; যাতে গুলির শব্দে বাঘটি আতঙ্কিত হয়ে বা নিজে থেকে চেষ্টা করে ফাঁদ থেকে বেরিয়ে দূরে সরে যেতে পারে।

বাঘটি নিরাপদে উদ্ধারে ঢাকা থেকে বন বিভাগের অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি সার্জন (পশু চিকিৎসক) আনা হচ্ছে। রোববার সকালে তিনি পৌঁছানোর পর মূল উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হবে।

বন বিভাগ জানায়, প্রয়োজন হলে বাঘটিকে অচেতন করতে ‘ট্র্যাঙ্কুলাইজার গান’ ব্যবহার করা হবে। ট্র্যাঙ্কুলাইজারের মাধ্যমে বাঘটিকে আধা ঘণ্টা অচেতন রেখে ফাঁদ থেকে মুক্ত করা হবে।

সহকারী বনসংরক্ষক আরও জানান, বাঘটি যদি অন্য কোনোভাবে আঘাতপ্রাপ্ত বা অসুস্থ হয়ে থাকে, তবে সেটিকে উদ্ধার করে লোহার খাঁচায় বন্দি করা হবে। পরবর্তী চিকিৎসার জন্য সেটিকে খুলনা বা ঢাকায় বন বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে পাঠানোর সব প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

এদিকে বনে বাঘ আটকে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যা থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা বনের কিনারায় ভিড় করতে শুরু করেন। তবে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ দলের সদস্যরা ওই এলাকায় কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। বাঘটির সুরক্ষায় বন কর্মীরা সেখানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

হৃদপিণ্ডে ছিদ্র ও খাদ্যনালী ব্লক: বাঁচতে চায় ১৩ মাসের শিশু অর্পিতা

হরিণ শিকারের ফাঁদে আটকা পড়েছে বাঘ

প্রকাশের সময় : ০৯:১০:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে হরিণ শিকারিদের পাতা ফাঁদে এবার আটকা পড়েছে বনের রাজা রয়েল বেঙ্গল টাইগার। বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার বৈদ্ধমারী সংলগ্ন সুন্দরবনের শরকির খাল এলাকার বনে এই ঘটনা ঘটে। আটকে পড়া বাঘটিকে উদ্ধারে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আজ (রোববার) সকালে অভিযান শুরু করবে বন বিভাগ।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক দীপন চন্দ্র দাস জানান, মোংলার বৈদ্ধমারী ও জয়মনি এলাকার মাঝামাঝি শরকির খাল পাড়ের বনাঞ্চলে চোরা শিকারিরা হরিণ শিকারের জন্য ফাঁদ পেতেছিল। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরের পর খবর আসে, সেই ফাঁদেই একটি বাঘ আটকে পড়েছে।

খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং সত্যতা নিশ্চিত করেন। বাঘটি বনের ভেতরে খাল পাড় থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার গভীরে আটকে রয়েছে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, বাঘটির নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষায় পুরো এলাকা ইতিমধ্যে কর্ডন বা ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। যাতে কোনো উৎসুক জনতা বাঘটির কাছাকাছি যেতে না পারে। শনিবার গভীর রাতে এলাকায় ফাঁকা গুলি ছোড়ার পরিকল্পনা রয়েছে বন বিভাগের; যাতে গুলির শব্দে বাঘটি আতঙ্কিত হয়ে বা নিজে থেকে চেষ্টা করে ফাঁদ থেকে বেরিয়ে দূরে সরে যেতে পারে।

বাঘটি নিরাপদে উদ্ধারে ঢাকা থেকে বন বিভাগের অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি সার্জন (পশু চিকিৎসক) আনা হচ্ছে। রোববার সকালে তিনি পৌঁছানোর পর মূল উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হবে।

বন বিভাগ জানায়, প্রয়োজন হলে বাঘটিকে অচেতন করতে ‘ট্র্যাঙ্কুলাইজার গান’ ব্যবহার করা হবে। ট্র্যাঙ্কুলাইজারের মাধ্যমে বাঘটিকে আধা ঘণ্টা অচেতন রেখে ফাঁদ থেকে মুক্ত করা হবে।

সহকারী বনসংরক্ষক আরও জানান, বাঘটি যদি অন্য কোনোভাবে আঘাতপ্রাপ্ত বা অসুস্থ হয়ে থাকে, তবে সেটিকে উদ্ধার করে লোহার খাঁচায় বন্দি করা হবে। পরবর্তী চিকিৎসার জন্য সেটিকে খুলনা বা ঢাকায় বন বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে পাঠানোর সব প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

এদিকে বনে বাঘ আটকে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যা থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা বনের কিনারায় ভিড় করতে শুরু করেন। তবে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ দলের সদস্যরা ওই এলাকায় কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। বাঘটির সুরক্ষায় বন কর্মীরা সেখানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।