শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬,
১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদির আগুনে নিহত আত্রাইয়ের ৭ প্রবাসীর একসঙ্গে জানাজা, নিজ গ্রামে দাফন সম্পন্ন 

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে নিহত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাত প্রবাসীর জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে তাঁদের মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে নেওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা আবারও জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করেন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০টার দিকে আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ মাঠে নিহত সাতজনের সম্মিলিত জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহতদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

জানাজার আগে থেকেই কলেজ মাঠে স্বজন ও স্থানীয়দের ভিড় জমে। প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। একসঙ্গে সাতটি মরদেহ দেখে পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও পরিচয় শনাক্ত হওয়া নয়জনের মরদেহ দেশে পৌঁছায়। তাঁদের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। অপর দুজনের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা ও রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায়।

আত্রাই উপজেলার নিহত সাতজন হলেন, আত্রাই উপজেলার গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দিনের ছেলে ফরিদ উদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের তমিজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল।

অপর দুজন হলেন, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার নলডাঙ্গা গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মরুগ্রাম গ্রামের কলিমুদ্দিন মাঝির ছেলে শ্যামল উদ্দিন মাঝি।

আত্রাই উপজেলার সাতজনের মরদেহ প্রশাসনের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে আত্রাইয়ে পৌঁছায়।

শুক্রবার সকালে মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ মাঠে তাঁদের সম্মিলিত জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

জানাজা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর স্বজনরা মরদেহ নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। বাড়িতে পৌঁছানোর পর জোহরের নামাজের পর পারিবারিকভাবে তাঁদের আবার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়।

নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোঃ রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, নিহতদের পরিবারকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও তাঁদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বাকি মরদেহগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর করতে খালে নেমে পড়লেন এমপি

সৌদির আগুনে নিহত আত্রাইয়ের ৭ প্রবাসীর একসঙ্গে জানাজা, নিজ গ্রামে দাফন সম্পন্ন 

প্রকাশের সময় : ০৪:০১:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে নিহত নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাত প্রবাসীর জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে তাঁদের মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে নেওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা আবারও জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করেন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল সোয়া ১০টার দিকে আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ মাঠে নিহত সাতজনের সম্মিলিত জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহতদের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

জানাজার আগে থেকেই কলেজ মাঠে স্বজন ও স্থানীয়দের ভিড় জমে। প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। একসঙ্গে সাতটি মরদেহ দেখে পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও পরিচয় শনাক্ত হওয়া নয়জনের মরদেহ দেশে পৌঁছায়। তাঁদের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। অপর দুজনের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা ও রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায়।

আত্রাই উপজেলার নিহত সাতজন হলেন, আত্রাই উপজেলার গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দিনের ছেলে ফরিদ উদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের তমিজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল।

অপর দুজন হলেন, নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার নলডাঙ্গা গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মরুগ্রাম গ্রামের কলিমুদ্দিন মাঝির ছেলে শ্যামল উদ্দিন মাঝি।

আত্রাই উপজেলার সাতজনের মরদেহ প্রশাসনের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে আত্রাইয়ে পৌঁছায়।

শুক্রবার সকালে মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল সরকারি কলেজ মাঠে তাঁদের সম্মিলিত জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

জানাজা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর স্বজনরা মরদেহ নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। বাড়িতে পৌঁছানোর পর জোহরের নামাজের পর পারিবারিকভাবে তাঁদের আবার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়।

নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোঃ রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, নিহতদের পরিবারকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও তাঁদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বাকি মরদেহগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।