শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬,
১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর করতে খালে নেমে পড়লেন এমপি

দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে থাকা ময়মনসিংহের তারাকান্দার কয়েকটি গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবার পানিতে নামলেন ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের পঙ্গুয়াই খালে নেমে নিজ হাতে কচুরিপানা পরিষ্কার করেন তিনি।

সংসদ সদস্যকে পানিতে নেমে খাল পরিষ্কার করতে দেখে স্থানীয় শতাধিক মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে যোগ দেন। সম্মিলিত উদ্যোগে খালের বিভিন্ন অংশ থেকে কচুরিপানা অপসারণ করা হলে ধীরে ধীরে আশপাশের পানি খালে নামতে শুরু করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু কচুরিপানাই নয়, খালের পানিপ্রবাহের শেষ প্রান্তে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় প্রায় সাত থেকে আট বছর ধরে এ অঞ্চলে জলাবদ্ধতার সমস্যা চলছে। কাকনী ইউনিয়নের ডিমুর বিল থেকে পঙ্গুয়াই খাল হয়ে পানি কাকনী খালে এবং পরে দিয়ারা নদীতে গিয়ে পড়ত। কিন্তু কাকনী খালের সম্মুখভাগের কিছু জমি নিয়ে বিরোধের কারণে পানিপ্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর থেকে পঙ্গুয়াই খালে কচুরিপানা জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় দুয়াই, বরুয়াই, তিলাটিয়া, পারতলা, দন্তা, তিতপুর, সুতিয়াপয়ারী, মাটিচাপুর ও কাকনী গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবার জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে পড়ে। দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শত শত একর ফসলি জমিও।

পঙ্গুয়াই গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, “জলাবদ্ধতার কারণে বছরের দীর্ঘ সময় আমাদের এলাকার শত শত একর জমি পানির নিচে থাকে। কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এমপি নিজে পানিতে নেমে খাল পরিষ্কার করায় আমরা আশাবাদী, এবার হয়তো সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ হবে।

তিনি জানান, কচুরিপানা পরিষ্কারের পর আশপাশের পানি খালে নামতে শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, কচুরিপানা পরিষ্কার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। খালটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে পানিপ্রবাহের পুরোনো পথ সচল করতে হবে।

একই গ্রামের মোশাররফ হোসেন বলেন, খালটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে কাকনী বিলের সঙ্গে সংযোগ করা গেলে শুধু জলাবদ্ধতাই দূর হবে না, কৃষিকাজেও বড় পরিবর্তন আসবে। বিষয়টি আমরা এমপিকে জানিয়েছিলাম। তিনি আজ সরেজমিনে এসে কাজ শুরু করেছেন।

সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, একসময় দেশের কৃষি, মৎস্য ও গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল খাল। দখল, ভরাট ও কচুরিপানার কারণে অনেক খাল নাব্যতা হারিয়েছে। এতে পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর না করে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে আমরা খালগুলো সচল করতে পারি। খালকে দখল ও দূষণমুক্ত রাখতে স্থানীয় মানুষকেও দায়িত্ব নিতে হবে।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পঙ্গুয়াই খালের শেষ প্রান্তে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির কারণে সৃষ্ট বাধা দূর করতে নিজেই জমি কিনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংসদ সদস্য। পরে খালটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে কাকনী বিলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা গেলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির পাশাপাশি কৃষি, বসতবাড়ি ও স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর করতে খালে নেমে পড়লেন এমপি

দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর করতে খালে নেমে পড়লেন এমপি

প্রকাশের সময় : ১০:১৪:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে থাকা ময়মনসিংহের তারাকান্দার কয়েকটি গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবার পানিতে নামলেন ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের পঙ্গুয়াই খালে নেমে নিজ হাতে কচুরিপানা পরিষ্কার করেন তিনি।

সংসদ সদস্যকে পানিতে নেমে খাল পরিষ্কার করতে দেখে স্থানীয় শতাধিক মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে যোগ দেন। সম্মিলিত উদ্যোগে খালের বিভিন্ন অংশ থেকে কচুরিপানা অপসারণ করা হলে ধীরে ধীরে আশপাশের পানি খালে নামতে শুরু করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু কচুরিপানাই নয়, খালের পানিপ্রবাহের শেষ প্রান্তে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় প্রায় সাত থেকে আট বছর ধরে এ অঞ্চলে জলাবদ্ধতার সমস্যা চলছে। কাকনী ইউনিয়নের ডিমুর বিল থেকে পঙ্গুয়াই খাল হয়ে পানি কাকনী খালে এবং পরে দিয়ারা নদীতে গিয়ে পড়ত। কিন্তু কাকনী খালের সম্মুখভাগের কিছু জমি নিয়ে বিরোধের কারণে পানিপ্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর থেকে পঙ্গুয়াই খালে কচুরিপানা জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় দুয়াই, বরুয়াই, তিলাটিয়া, পারতলা, দন্তা, তিতপুর, সুতিয়াপয়ারী, মাটিচাপুর ও কাকনী গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবার জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে পড়ে। দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শত শত একর ফসলি জমিও।

পঙ্গুয়াই গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক বলেন, “জলাবদ্ধতার কারণে বছরের দীর্ঘ সময় আমাদের এলাকার শত শত একর জমি পানির নিচে থাকে। কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এমপি নিজে পানিতে নেমে খাল পরিষ্কার করায় আমরা আশাবাদী, এবার হয়তো সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ হবে।

তিনি জানান, কচুরিপানা পরিষ্কারের পর আশপাশের পানি খালে নামতে শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, কচুরিপানা পরিষ্কার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। খালটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে পানিপ্রবাহের পুরোনো পথ সচল করতে হবে।

একই গ্রামের মোশাররফ হোসেন বলেন, খালটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে কাকনী বিলের সঙ্গে সংযোগ করা গেলে শুধু জলাবদ্ধতাই দূর হবে না, কৃষিকাজেও বড় পরিবর্তন আসবে। বিষয়টি আমরা এমপিকে জানিয়েছিলাম। তিনি আজ সরেজমিনে এসে কাজ শুরু করেছেন।

সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, একসময় দেশের কৃষি, মৎস্য ও গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল খাল। দখল, ভরাট ও কচুরিপানার কারণে অনেক খাল নাব্যতা হারিয়েছে। এতে পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর না করে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে আমরা খালগুলো সচল করতে পারি। খালকে দখল ও দূষণমুক্ত রাখতে স্থানীয় মানুষকেও দায়িত্ব নিতে হবে।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পঙ্গুয়াই খালের শেষ প্রান্তে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির কারণে সৃষ্ট বাধা দূর করতে নিজেই জমি কিনে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংসদ সদস্য। পরে খালটি কাকনী ব্রিজ পর্যন্ত খনন করে কাকনী বিলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা গেলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তির পাশাপাশি কৃষি, বসতবাড়ি ও স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।