
রেললাইনে ফাটল ও ট্রেনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একই দিনে দুই দফায় প্রায় সাত ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাজশাহীর সঙ্গে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন রুটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার লোকমানপুর ও রাজশাহীর হরিয়ান এলাকায় পৃথক দুটি ঘটনায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। এতে বিভিন্ন স্টেশনে ও পথে অন্তত ছয়টি ট্রেন আটকা পড়ে। দুর্ভোগে পড়েন কয়েক হাজার যাত্রী।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাগাতিপাড়ার লোকমানপুর স্টেশন পার হয়ে আড়ানী স্টেশনের কাছে রেললাইনে ফাটল দেখা দেয়। দুর্ঘটনা এড়াতে ওই পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে বনলতা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেসসহ ছয়টি ট্রেন আটকা পড়ে।
খবর পেয়ে রেলওয়ের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মেরামত কাজ শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রেললাইন মেরামত শেষ হলে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
তবে এর কিছুক্ষণ পরই আবারও বিপত্তি দেখা দেয়। পাবনা থেকে রাজশাহীগামী ঢালারচর এক্সপ্রেস বেলা সোয়া ১১টার দিকে হরিয়ান রেলওয়ে স্টেশনের কাছে পৌঁছালে একটি বগির চাকার স্প্রিং খুলে যায়। এতে ট্রেনটি লাইনের ওপর বিকল হয়ে পড়ে এবং ফের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
ট্রেনটি বিকল হওয়ার পর আতঙ্কিত হয়ে কয়েকজন যাত্রী ট্রেন থেকে নেমে পড়েন। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকল বগিটি মেরামতের কাজ শুরু করেন। প্রথমে ঈশ্বরদী থেকে রিলিফ ট্রেন পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয়ভাবেই প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় মেরামত সম্পন্ন করা হয়।
বেলা পৌনে ৩টার দিকে হরিয়ান এলাকায় রেললাইন সচল হলে রাজশাহীর সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন রুটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ বলেন, হরিয়ান স্টেশনের কাছে ঢালারচর এক্সপ্রেসের একটি বগি বিকল হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। মেরামত শেষে বর্তমানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
একই দিনে রেললাইনে ফাটল ও ট্রেনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুই দফায় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। অনেকে মাঝপথে ট্রেন থেকে নেমে বিকল্প পরিবহনে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
নাটোর প্রতিনিধি 








