মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬,
১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণে অধ্যাদেশ জারি করল সরকার

  • প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময় : ০১:২৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৭১ বার পড়া হয়েছে

আমাদের আত্রাই ডেস্ক:

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় যাত্রীসেবা নিশ্চিতকরণ, টিকিটিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং বিমান ভাড়া (ট্যারিফ) যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের এক গেজেটে এ তথ্য জানানো হয়েছে৷

গেজেট অনুযায়ী, ২০১৭ সালের মূল আইনের ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে এই নতুন অধ্যাদেশ কার্যকর করা হলো। সংশোধিত আইনে ‘যাত্রীসেবা’ শব্দগুচ্ছটি আইনের মূল শিরোনাম ও প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এখন থেকে যাত্রীদের নিরাপত্তা, সুবিধা এবং উপাত্ত সুরক্ষার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে আসবে। এ ছাড়া আইনে প্রথমবারের মতো ‘গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিস প্রোভাইডার’, ‘ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল’ এবং ‘সাধারণ বিক্রয় প্রতিনিধি (জিএসএ)’ এর সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ও কার্যাবলি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিমান ভাড়া ও বিভিন্ন চার্জ নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনতে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের ‘উপদেষ্টা পর্ষদ’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পর্ষদ দেশি ও বিদেশি এয়ার অপারেটর এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটরদের জন্য ফি, চার্জ, রয়্যালটি এবং ভাড়ার হার নির্ধারণের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবে।

এয়ার অপারেটরদের তাদের সকল রুটের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ভাড়ার তালিকা (ট্যারিফ) কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করতে হবে। কোনো রুটে কৃত্রিম সংকট বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিলে চেয়ারম্যান সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন।

নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো বিদেশি এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে তাকে নিজস্ব কার্যালয় স্থাপন করতে হবে অথবা শতভাগ বাংলাদেশি মালিকানাধীন সংস্থাকে সাধারণ বিক্রয় প্রতিনিধি (জিএসএ) হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। এ ছাড়া, কোনো এয়ার অপারেটর সরাসরি ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা বা জিএসএ হিসেবে কাজ করতে পারবে না, যা বাজারে অসম প্রতিযোগিতা রোধে সহায়ক হবে।

টিকিট বিক্রির ডিজিটাল মাধ্যম বা ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলগুলোকে (যেমন- অ্যাপ, ওয়েব পোর্টাল, জিডিএস) এখন থেকে কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন নিতে হবে। ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলে কৃত্রিম সংকট বা আসন ‘ব্লকিং’ রোধে চেয়ারম্যানের কাছে রিয়েল টাইম এক্সেস (তাৎক্ষণিক প্রবেশ) ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলের নিবন্ধন বাতিল বা স্থগিত করা যাবে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

আত্রাইয়ে অসহায় মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা ও ঢেউটিন বিতরণ

বিমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণে অধ্যাদেশ জারি করল সরকার

প্রকাশের সময় : ০১:২৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

আমাদের আত্রাই ডেস্ক:

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় যাত্রীসেবা নিশ্চিতকরণ, টিকিটিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং বিমান ভাড়া (ট্যারিফ) যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের এক গেজেটে এ তথ্য জানানো হয়েছে৷

গেজেট অনুযায়ী, ২০১৭ সালের মূল আইনের ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে এই নতুন অধ্যাদেশ কার্যকর করা হলো। সংশোধিত আইনে ‘যাত্রীসেবা’ শব্দগুচ্ছটি আইনের মূল শিরোনাম ও প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এখন থেকে যাত্রীদের নিরাপত্তা, সুবিধা এবং উপাত্ত সুরক্ষার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যে আসবে। এ ছাড়া আইনে প্রথমবারের মতো ‘গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সার্ভিস প্রোভাইডার’, ‘ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল’ এবং ‘সাধারণ বিক্রয় প্রতিনিধি (জিএসএ)’ এর সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ও কার্যাবলি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিমান ভাড়া ও বিভিন্ন চার্জ নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনতে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের ‘উপদেষ্টা পর্ষদ’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পর্ষদ দেশি ও বিদেশি এয়ার অপারেটর এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটরদের জন্য ফি, চার্জ, রয়্যালটি এবং ভাড়ার হার নির্ধারণের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবে।

এয়ার অপারেটরদের তাদের সকল রুটের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ভাড়ার তালিকা (ট্যারিফ) কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করতে হবে। কোনো রুটে কৃত্রিম সংকট বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিলে চেয়ারম্যান সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন।

নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো বিদেশি এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে তাকে নিজস্ব কার্যালয় স্থাপন করতে হবে অথবা শতভাগ বাংলাদেশি মালিকানাধীন সংস্থাকে সাধারণ বিক্রয় প্রতিনিধি (জিএসএ) হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। এ ছাড়া, কোনো এয়ার অপারেটর সরাসরি ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসা বা জিএসএ হিসেবে কাজ করতে পারবে না, যা বাজারে অসম প্রতিযোগিতা রোধে সহায়ক হবে।

টিকিট বিক্রির ডিজিটাল মাধ্যম বা ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলগুলোকে (যেমন- অ্যাপ, ওয়েব পোর্টাল, জিডিএস) এখন থেকে কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন নিতে হবে। ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলে কৃত্রিম সংকট বা আসন ‘ব্লকিং’ রোধে চেয়ারম্যানের কাছে রিয়েল টাইম এক্সেস (তাৎক্ষণিক প্রবেশ) ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলের নিবন্ধন বাতিল বা স্থগিত করা যাবে।