মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক যুগেও জোটেনি বিদ্যুৎ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে ধামইরহাটের স্বাস্থ্যসেবা

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। একসময় স্থানীয় মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎহীন থাকায় এখন নানা সংকটে জর্জরিত কেন্দ্রটি। প্রায় ১২ বছর ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় তীব্র গরমে অস্বস্তিকর পরিবেশেই দায়িত্ব পালন করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। একই সঙ্গে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সমস্যাটি চললেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। দিনের আলো কমে এলে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় কাজকর্ম ব্যাহত হয়। গরমের সময় বিদ্যুৎবিহীন কক্ষে অবস্থান করা যেমন কষ্টকর, তেমনি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেরও পোহাতে হয় বাড়তি দুর্ভোগ।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হওয়া সত্ত্বেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সেখানেই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্রে কর্মরত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) নুরুন্নাহার ২০১৫ সালে যোগদানের পর থেকেই বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, “২০১৫ সালে এখানে পোস্টিং হওয়ার সময়ও বিদ্যুৎ ছিল না। এর আগেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল বলে জেনেছি। জমিজমা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘদিনেও সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।”

দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “তীব্র গরমে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ি। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এভাবেই প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। রোগীরাও বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়টি জানতে চান। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখলে আমাদের দুর্ভোগ কমবে।”

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় এক গৃহবধূ বলেন, “অসুস্থ মানুষকে নিয়ে এসে এখানে গরমের মধ্যে বসে থাকা খুব কষ্টকর। বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।”

স্থানীয় এক বৃদ্ধার ভাষ্য, “চিকিৎসা নিতে এসে মনে হয় অনেক পুরোনো কোনো হাসপাতালে এসেছি। এত বছরেও বিদ্যুতের ব্যবস্থা হয়নি এটা সত্যিই দুঃখজনক।”

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ, প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

এসি মেরামতের কথা বলে ডেকে নিয়ে ছিনতাই, নওগাঁয় গ্রেপ্তার ২

এক যুগেও জোটেনি বিদ্যুৎ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে ধামইরহাটের স্বাস্থ্যসেবা

প্রকাশের সময় : ১১:২৩:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। একসময় স্থানীয় মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎহীন থাকায় এখন নানা সংকটে জর্জরিত কেন্দ্রটি। প্রায় ১২ বছর ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় তীব্র গরমে অস্বস্তিকর পরিবেশেই দায়িত্ব পালন করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। একই সঙ্গে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সমস্যাটি চললেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। দিনের আলো কমে এলে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় কাজকর্ম ব্যাহত হয়। গরমের সময় বিদ্যুৎবিহীন কক্ষে অবস্থান করা যেমন কষ্টকর, তেমনি চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদেরও পোহাতে হয় বাড়তি দুর্ভোগ।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হওয়া সত্ত্বেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সেখানেই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্রে কর্মরত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) নুরুন্নাহার ২০১৫ সালে যোগদানের পর থেকেই বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, “২০১৫ সালে এখানে পোস্টিং হওয়ার সময়ও বিদ্যুৎ ছিল না। এর আগেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল বলে জেনেছি। জমিজমা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘদিনেও সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।”

দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “তীব্র গরমে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ি। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন এভাবেই প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। রোগীরাও বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়টি জানতে চান। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখলে আমাদের দুর্ভোগ কমবে।”

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা স্থানীয় এক গৃহবধূ বলেন, “অসুস্থ মানুষকে নিয়ে এসে এখানে গরমের মধ্যে বসে থাকা খুব কষ্টকর। বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।”

স্থানীয় এক বৃদ্ধার ভাষ্য, “চিকিৎসা নিতে এসে মনে হয় অনেক পুরোনো কোনো হাসপাতালে এসেছি। এত বছরেও বিদ্যুতের ব্যবস্থা হয়নি এটা সত্যিই দুঃখজনক।”

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ, প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।