বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬,
২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিত্যক্ত আঙিনায় আনারকলি চাষ, ভাগ্য বদলের স্বপ্ন সোহেলের

মাত্র ৮০০ টাকা পুঁজি নিয়ে বিদেশি ফল প্যাশন ফ্রুট, স্থানীয়ভাবে ‘আনারকলি’ নামে পরিচিত, চাষ শুরু করে সাড়া ফেলেছেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল আকন্দ। বাড়ির পরিত্যক্ত আঙিনায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা সেই চাষে এখন গাছে গাছে ধরেছে ফল। আনারকলি চাষ ও চারা উৎপাদন বাড়িয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

সোহেল আকন্দ ভূঞাপুর পৌর শহরের বামনহাটা গ্রামের মৃত আবুল কালাম আকন্দের ছেলে।

জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে কক্সবাজারের চকরিয়ার এক চাষির কাছ থেকে মাত্র ৮০০ টাকায় কয়েকটি আনারকলি গাছের চারা সংগ্রহ করেন সোহেল। এরপর বাড়ির পরিত্যক্ত জায়গায় শুরু করেন পরীক্ষামূলক চাষ। শুরুতে ফলন নিয়ে নানা সমস্যায় পড়লেও কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অন্য চাষিদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নিয়মিত পরিচর্যা করতে থাকেন তিনি। বর্তমানে তার আনারকলি গাছে থোকায় থোকায় ফল ধরেছে।

আকারভেদে প্রতিটি আনারকলি ৩০ থেকে ৬০ টাকা এবং প্রতি কেজি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন সোহেল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে ফল বিক্রি করছেন। স্থানীয় ক্রেতারাও তার বাড়িতে এসে ফল কিনছেন।

আনারকলি চাষের পাশাপাশি বাড়ির উঠানে গড়ে তুলেছেন একটি ছোট নার্সারি। সেখানে বিভিন্ন ধরনের ফলজ ও বনজ গাছের চারা উৎপাদন করছেন তিনি।

সোহেল আকন্দ বলেন, কক্সবাজারে গিয়ে প্রথম আনারকলি ফলের স্বাদ নেন তিনি। ফলটি ভালো লাগার পর নিজ এলাকায় চাষের চিন্তা করেন। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করে বিশ্বস্ত নার্সারি থেকে ভালো জাতের চারা সংগ্রহ করেন।

তিনি বলেন, “প্রথম দিকে আনারকলি গাছ সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা ছিল না। গাছে ফুল এলেও ঝরে পড়ত। পরে বিভিন্নজনের পরামর্শ নিয়ে পরিচর্যা ও যত্ন নিতে থাকি। এখন গাছে প্রচুর ফল আসছে। অনেকেই ফেসবুকে যোগাযোগ করে ফল কিনতে চাচ্ছেন।”

সোহেল জানান, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তিনি তিনটি আনারকলি চারা রোপণ করেন। জুলাই থেকে গাছে ফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ফলটির চাহিদাও তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আনারকলি চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

নিজের উদ্যোক্তা হওয়ার কারণ জানিয়ে সোহেল বলেন, “বিদেশ যাওয়ার আশায় এবং চাকরির পেছনে ঘুরতে গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে অনেক টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এখন নিজে কিছু করার চিন্তা থেকেই কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বলেন, সোহেল অল্প পরিসরে আনারকলি চাষ শুরু করলেও তার বাগানে ভালো ফলন এসেছে। স্থানীয় বাজারেও ফলটির চাহিদা রয়েছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে সোহেল এই চাষ আরও সম্প্রসারণ করতে পারবেন এবং অন্য বেকার যুবকরাও এ কাজে উৎসাহিত হতে পারেন।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আখতার হোসেন বলেন, তাদের এলাকায় আগে এ ফলের চাষ তিনি দেখেননি। সোহেলের বাগানে এসে ফল দেখে এবং খেয়ে ভালো লেগেছে। তার মতে, সোহেল শুধু ফল উৎপাদন নয়, চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নিলে এলাকায় আনারকলি চাষ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ভূঞাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, পৌরসভার বামনহাটা গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল নিজ বাড়ির উঠানে প্রায় অর্ধশতক জায়গায় প্যাশন ফ্রুট বা আনারকলির বাগান করেছেন। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিনে বাগান পরিদর্শন করেছেন। তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে আনারকলির বাগান সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে শীতের খাদ্যতালিকায় রাখুন এসব খাবার

পরিত্যক্ত আঙিনায় আনারকলি চাষ, ভাগ্য বদলের স্বপ্ন সোহেলের

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৪:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

মাত্র ৮০০ টাকা পুঁজি নিয়ে বিদেশি ফল প্যাশন ফ্রুট, স্থানীয়ভাবে ‘আনারকলি’ নামে পরিচিত, চাষ শুরু করে সাড়া ফেলেছেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল আকন্দ। বাড়ির পরিত্যক্ত আঙিনায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা সেই চাষে এখন গাছে গাছে ধরেছে ফল। আনারকলি চাষ ও চারা উৎপাদন বাড়িয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

সোহেল আকন্দ ভূঞাপুর পৌর শহরের বামনহাটা গ্রামের মৃত আবুল কালাম আকন্দের ছেলে।

জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে কক্সবাজারের চকরিয়ার এক চাষির কাছ থেকে মাত্র ৮০০ টাকায় কয়েকটি আনারকলি গাছের চারা সংগ্রহ করেন সোহেল। এরপর বাড়ির পরিত্যক্ত জায়গায় শুরু করেন পরীক্ষামূলক চাষ। শুরুতে ফলন নিয়ে নানা সমস্যায় পড়লেও কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অন্য চাষিদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নিয়মিত পরিচর্যা করতে থাকেন তিনি। বর্তমানে তার আনারকলি গাছে থোকায় থোকায় ফল ধরেছে।

আকারভেদে প্রতিটি আনারকলি ৩০ থেকে ৬০ টাকা এবং প্রতি কেজি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন সোহেল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে অর্ডার নিয়ে ফল বিক্রি করছেন। স্থানীয় ক্রেতারাও তার বাড়িতে এসে ফল কিনছেন।

আনারকলি চাষের পাশাপাশি বাড়ির উঠানে গড়ে তুলেছেন একটি ছোট নার্সারি। সেখানে বিভিন্ন ধরনের ফলজ ও বনজ গাছের চারা উৎপাদন করছেন তিনি।

সোহেল আকন্দ বলেন, কক্সবাজারে গিয়ে প্রথম আনারকলি ফলের স্বাদ নেন তিনি। ফলটি ভালো লাগার পর নিজ এলাকায় চাষের চিন্তা করেন। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করে বিশ্বস্ত নার্সারি থেকে ভালো জাতের চারা সংগ্রহ করেন।

তিনি বলেন, “প্রথম দিকে আনারকলি গাছ সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা ছিল না। গাছে ফুল এলেও ঝরে পড়ত। পরে বিভিন্নজনের পরামর্শ নিয়ে পরিচর্যা ও যত্ন নিতে থাকি। এখন গাছে প্রচুর ফল আসছে। অনেকেই ফেসবুকে যোগাযোগ করে ফল কিনতে চাচ্ছেন।”

সোহেল জানান, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তিনি তিনটি আনারকলি চারা রোপণ করেন। জুলাই থেকে গাছে ফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ফলটির চাহিদাও তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আনারকলি চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

নিজের উদ্যোক্তা হওয়ার কারণ জানিয়ে সোহেল বলেন, “বিদেশ যাওয়ার আশায় এবং চাকরির পেছনে ঘুরতে গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়ে অনেক টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এখন নিজে কিছু করার চিন্তা থেকেই কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বলেন, সোহেল অল্প পরিসরে আনারকলি চাষ শুরু করলেও তার বাগানে ভালো ফলন এসেছে। স্থানীয় বাজারেও ফলটির চাহিদা রয়েছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে সোহেল এই চাষ আরও সম্প্রসারণ করতে পারবেন এবং অন্য বেকার যুবকরাও এ কাজে উৎসাহিত হতে পারেন।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আখতার হোসেন বলেন, তাদের এলাকায় আগে এ ফলের চাষ তিনি দেখেননি। সোহেলের বাগানে এসে ফল দেখে এবং খেয়ে ভালো লেগেছে। তার মতে, সোহেল শুধু ফল উৎপাদন নয়, চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নিলে এলাকায় আনারকলি চাষ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ভূঞাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, পৌরসভার বামনহাটা গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা সোহেল নিজ বাড়ির উঠানে প্রায় অর্ধশতক জায়গায় প্যাশন ফ্রুট বা আনারকলির বাগান করেছেন। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিনে বাগান পরিদর্শন করেছেন। তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে আনারকলির বাগান সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে।