
ঢাকার ধামরাইয়ে গভীর রাতে তিনটি বাড়ির প্রধান ফটকে কাফনের কাপড়, আতর, সাবান ও গলাকাটা মুরগি ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের বড় চন্দ্রাইল এলাকায় বুধবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির প্রধান ফটকে এসব সামগ্রী ঝুলতে দেখেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। এর আগে বুধবার রাতেও মোসলেহ উদ্দিনের বাড়ির গ্রিলে একটি ব্যাগ ঝুলতে দেখা যায়।
খবরটি ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। যেসব বাড়িতে এসব সামগ্রী ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, সেগুলোর মালিকরা হলেন—গত মাসে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মো. মোসলেহ উদ্দিন এবং তাঁর প্রতিবেশী মো. ওয়াহিদ ভূঁইয়া রিপন ও সেন্টু মিয়া।
ভুক্তভোগী মো. মোসলেহ উদ্দিন জানান, গত ২৪ অক্টোবর গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তাঁর বসতঘরে আগুন দেয়। সেই ঘটনার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে এমন আতঙ্কজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁদের।
তিনি বলেন, আগুনের ঘটনায় যারা তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করেছিলেন, তাঁদের বাড়িতেও এবার কাফনের কাপড় ও অন্যান্য সামগ্রী রেখে যাওয়া হয়েছে। এতে তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
মোসলেহ উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, বাড়ির পাশের জমি কেনাকে কেন্দ্র করে একটি মোবাইল নম্বর থেকে তাঁকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘ওই জমি আপনি কেন কিনলেন?’ এরপর থেকেই একের পর এক হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারা, কী উদ্দেশ্যে রাতের আঁধারে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে, তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি 












