শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬,
১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্বস্তিতে ক্রেতারা, ৪০০ টাকায় কাঁচামরিচ; বাড়ছে পেঁয়াজ, ডিম ও সবজির দাম

টানা বৃষ্টি ও দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বন্যার প্রভাব কাটতে না কাটতেই অস্থির হয়ে উঠেছে রাজধানীর কাঁচাবাজার। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে কাঁচামরিচের। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী পেঁয়াজ, ডিম ও অধিকাংশ সবজির দামও। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০০ টাকায়। ১০০ গ্রাম ৪০ টাকা এবং ২৫০ গ্রাম ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও বেশি পরিমাণে কিনলে কেজিতে ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত কম রাখা হচ্ছে।

সেগুনবাগিচা বাজারের বিক্রেতা বুলু মিয়া জানান, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও তার আগের সপ্তাহে দাম ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে।

পেঁয়াজের বাজারেও বেড়েছে দাম। দেড় থেকে দুই সপ্তাহ আগেও দেশি পেঁয়াজের কেজি ছিল ৪০-৪৫ টাকা। বর্তমানে মানভেদে তা বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায়।

শান্তিনগর বাজারের বিক্রেতা এনামুল হক বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ভালো মানের পাবনার পেঁয়াজ এখন ৬৫ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। পেঁপে, ঢ্যাঁড়স ও পটল ছাড়া অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকার আশেপাশে বা তারও বেশি। লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৫০ টাকা, গোল বেগুন ১৮০ টাকা এবং সাদা বেগুন ১৪০ টাকা কেজি দরে। তবে ধুন্দল ও পটলের দাম কিছুটা কমে ৬০-৮০ টাকায় নেমে এসেছে।

এছাড়া করলা বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা, বরবটি ১১০-১৩০ টাকা, কচুরমুখী ৮০-১০০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৯০-১০০ টাকা কেজি দরে।

সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েকটি সবজির দাম সামান্য কমলেও বেগুনসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম আবার বেড়েছে।

এদিকে ডিমের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ফার্মের ডিম বর্তমানে ডজনপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা। এক মাস আগে একই ডিমের দাম ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা।

তবে মুরগির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিকূল আবহাওয়া, সরবরাহ সংকট এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবেই নিত্যপণ্যের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে সংসারের খরচ সামলানো দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

অস্বস্তিতে ক্রেতারা, ৪০০ টাকায় কাঁচামরিচ; বাড়ছে পেঁয়াজ, ডিম ও সবজির দাম

অস্বস্তিতে ক্রেতারা, ৪০০ টাকায় কাঁচামরিচ; বাড়ছে পেঁয়াজ, ডিম ও সবজির দাম

প্রকাশের সময় : ০৩:৪৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

টানা বৃষ্টি ও দেশের কয়েকটি অঞ্চলে বন্যার প্রভাব কাটতে না কাটতেই অস্থির হয়ে উঠেছে রাজধানীর কাঁচাবাজার। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে কাঁচামরিচের। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী পেঁয়াজ, ডিম ও অধিকাংশ সবজির দামও। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০০ টাকায়। ১০০ গ্রাম ৪০ টাকা এবং ২৫০ গ্রাম ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও বেশি পরিমাণে কিনলে কেজিতে ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত কম রাখা হচ্ছে।

সেগুনবাগিচা বাজারের বিক্রেতা বুলু মিয়া জানান, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও তার আগের সপ্তাহে দাম ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে।

পেঁয়াজের বাজারেও বেড়েছে দাম। দেড় থেকে দুই সপ্তাহ আগেও দেশি পেঁয়াজের কেজি ছিল ৪০-৪৫ টাকা। বর্তমানে মানভেদে তা বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায়।

শান্তিনগর বাজারের বিক্রেতা এনামুল হক বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ভালো মানের পাবনার পেঁয়াজ এখন ৬৫ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। পেঁপে, ঢ্যাঁড়স ও পটল ছাড়া অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকার আশেপাশে বা তারও বেশি। লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৫০ টাকা, গোল বেগুন ১৮০ টাকা এবং সাদা বেগুন ১৪০ টাকা কেজি দরে। তবে ধুন্দল ও পটলের দাম কিছুটা কমে ৬০-৮০ টাকায় নেমে এসেছে।

এছাড়া করলা বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৪০ টাকা, বরবটি ১১০-১৩০ টাকা, কচুরমুখী ৮০-১০০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৯০-১০০ টাকা কেজি দরে।

সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েকটি সবজির দাম সামান্য কমলেও বেগুনসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম আবার বেড়েছে।

এদিকে ডিমের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ফার্মের ডিম বর্তমানে ডজনপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা। এক মাস আগে একই ডিমের দাম ছিল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা।

তবে মুরগির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিকূল আবহাওয়া, সরবরাহ সংকট এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবেই নিত্যপণ্যের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে সংসারের খরচ সামলানো দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে।