
সৌদি আরবের রিয়াদের খোরদাম শহরে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১৩ প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডে আত্রাইয়ের বিভিন্ন গ্রামের এসব প্রবাসীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় শোকের মাতম চলছে। অনেক পরিবার এখনো সৌদি আরব থেকে স্বজনদের মৃত্যুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উপজেলার ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ ও নিহতদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামও আত্রাইয়ের ১৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহতদের পরিচয় যাচাই-বাছাইসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
প্রাথমিকভাবে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে মো. জালাল; ডুবাই গ্রামের বাদলের ছেলে মো. সুমন হোসেন ও চঞ্চলের ছেলে মো. হাসিবুল হাসান শুভ; গন্ডগোহালী গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মো. মোহন প্রামাণিক ও মো. সুমুন প্রামাণিক, জান্নারের ছেলে মো. রুবেল হোসেন এবং ফজলুর ছেলে মো. কলিউদ্দিন প্রামাণিক।
এ ছাড়া সাধনগর গ্রামের মো. সাগর হোসেন, উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে মো. ফরিদ শেখ, মাদবপুর গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে মো. মজিদুল ইসলাম, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা, মধ্যেবোয়ালিয়া গ্রামের মো. মিনহাজ এবং খরসতী গ্রামের মো. মহিদুল ইসলামের নামও প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন এবং ডুবাই গ্রামের তিনজন রয়েছেন। অন্য ছয়জন উপজেলার ছয়টি পৃথক গ্রামের বাসিন্দা।
জানা গেছে, জীবিকার সন্ধানে কয়েক বছর আগে এসব প্রবাসী সৌদি আরবে পাড়ি জমান। তাঁদের বেশির ভাগই রিয়াদের খোরদাম শহরের ওই সোফা তৈরির কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। পরে একে একে মৃত্যুর খবর আসতে শুরু করলে আত্রাইয়ের বিভিন্ন গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া।
নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 















