শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬,
২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মান্দায় মাছ চাষিকে চাঁদার চাপ, পরে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগ

নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে সরকারি লিজ নেওয়া একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৮ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদার দাবি পূরণ না করায় এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পুকুরের লিজগ্রহীতারা। এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মনোহরপুর মৌজার ২১৯ নম্বর দাগের প্রায় ৭০ শতক আয়তনের সরকারি পুকুরটি চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল তানইল-মনোহরপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড লিজ নেয়। পরে সমিতির অনুমতিক্রমে মো. আনোয়ার হোসেন সেখানে মাছ চাষ শুরু করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি পুকুরটি ছেড়ে দিতে অথবা ২ লাখ টাকা চাঁদা দিতে চাপ সৃষ্টি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ আগস্ট রাতের কোনো এক সময় পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়। সকালে পুকুরজুড়ে মাছ ভেসে উঠতে দেখে তাদের প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এর আগে গত ২৯ জুলাই বৈদ্যপুর বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুকুরের দেখভালের দায়িত্বে থাকা আনোয়ার হোসেনকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। সেই ঘটনার জের ধরেই মাছ নিধনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন ভুক্তভোগীরা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইয়াসিন আলী ও আজিজুল হক। তাদের দাবি, পুকুরে বিষ প্রয়োগ বা মাছ মারা যাওয়ার ঘটনায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
২ নম্বর ভালাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর গ্রাম পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে পুকুরে বিষ প্রয়োগের কারণে প্রচুর মাছ মারা যাওয়ার বিষয়টি সত্য বলে জানা গেছে। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খোরশেদ আলম বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

মান্দায় মাছ চাষিকে চাঁদার চাপ, পরে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগ

মান্দায় মাছ চাষিকে চাঁদার চাপ, পরে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধনের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৫:০১:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে সরকারি লিজ নেওয়া একটি পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৮ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদার দাবি পূরণ না করায় এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পুকুরের লিজগ্রহীতারা। এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মনোহরপুর মৌজার ২১৯ নম্বর দাগের প্রায় ৭০ শতক আয়তনের সরকারি পুকুরটি চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল তানইল-মনোহরপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড লিজ নেয়। পরে সমিতির অনুমতিক্রমে মো. আনোয়ার হোসেন সেখানে মাছ চাষ শুরু করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি পুকুরটি ছেড়ে দিতে অথবা ২ লাখ টাকা চাঁদা দিতে চাপ সৃষ্টি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ আগস্ট রাতের কোনো এক সময় পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয়। সকালে পুকুরজুড়ে মাছ ভেসে উঠতে দেখে তাদের প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এর আগে গত ২৯ জুলাই বৈদ্যপুর বাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুকুরের দেখভালের দায়িত্বে থাকা আনোয়ার হোসেনকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। সেই ঘটনার জের ধরেই মাছ নিধনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন ভুক্তভোগীরা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইয়াসিন আলী ও আজিজুল হক। তাদের দাবি, পুকুরে বিষ প্রয়োগ বা মাছ মারা যাওয়ার ঘটনায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
২ নম্বর ভালাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর গ্রাম পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে পুকুরে বিষ প্রয়োগের কারণে প্রচুর মাছ মারা যাওয়ার বিষয়টি সত্য বলে জানা গেছে। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খোরশেদ আলম বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।