মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬,
১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিষিদ্ধ ঘনচিনি, মেয়াদোত্তীর্ণ রং-ফ্লেভার জব্দ; সরিষার তেলে ক্যানোলা মেশানোর অভিযোগ

নওগাঁয় ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান, ৩ প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

নওগাঁয় নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় নিষিদ্ধ ও অননুমোদিত খাদ্য উপকরণ, মেয়াদোত্তীর্ণ রং ও ফ্লেভারসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।

সোমবার (২৪ আগস্ট) নওগাঁ সদর উপজেলার মিষ্টি পট্টি, পুরাতন মাছ বাজার ও বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন নওগাঁ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অভিষেক কান্তি বর্মন এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় আনসার ব্যাটালিয়নের একটি দল ও সংশ্লিষ্ট সাপোর্ট স্টাফরা অভিযানে সহযোগিতা করেন।

অভিযানকালে মিষ্টি পট্টি ও পুরাতন মাছ বাজার এলাকার মেসার্স দত্ত স্টোরে নিষিদ্ধ ঘনচিনি (সোডিয়াম সাইক্লামেট) ও হাইড্রোজ সংরক্ষণ ও বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে অননুমোদিত ও মেয়াদোত্তীর্ণ রং-ফ্লেভার এবং লেবেলবিহীন রং ও অ্যামোনিয়াম সালফেট সংরক্ষণ ও বিক্রির বিষয়ও কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

অন্যদিকে বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় জিলানী অয়েল মিল ও সুমন অয়েল মিলে অভিযান চালিয়ে সরিষার সঙ্গে ক্যানোলা মিশিয়ে তা সরিষার তেল হিসেবে উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া তেলের বোতলে মেয়াদ, ব্যাচ নম্বর, উৎপাদনের তারিখ ও নির্ধারিত মূল্য উল্লেখ না থাকার বিষয়টিও ধরা পড়ে।

এসব অনিয়ম নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর পরিপন্থী হওয়ায় মেসার্স দত্ত স্টোরকে ১ লাখ টাকা, জিলানী অয়েল মিলকে ১০ হাজার টাকা এবং সুমন অয়েল মিলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়েছে।

অভিযান শেষে জব্দ করা অননুমোদিত ও মেয়াদোত্তীর্ণ রং, ফ্লেভার, সোডিয়াম সাইক্লামেট, হাইড্রোজ ও অ্যামোনিয়াম সালফেট জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানকারী কর্তৃপক্ষ জানায়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা করা হবে বলেও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত এবং খাদ্যে ভেজাল ও অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

পত্নীতলায় ভুটভুটি উল্টে নিহত ১, চালক গুরুতর আহত

নিষিদ্ধ ঘনচিনি, মেয়াদোত্তীর্ণ রং-ফ্লেভার জব্দ; সরিষার তেলে ক্যানোলা মেশানোর অভিযোগ

নওগাঁয় ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান, ৩ প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

প্রকাশের সময় : ১০:৫১:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

নওগাঁয় নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় নিষিদ্ধ ও অননুমোদিত খাদ্য উপকরণ, মেয়াদোত্তীর্ণ রং ও ফ্লেভারসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।

সোমবার (২৪ আগস্ট) নওগাঁ সদর উপজেলার মিষ্টি পট্টি, পুরাতন মাছ বাজার ও বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন নওগাঁ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অভিষেক কান্তি বর্মন এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। এ সময় আনসার ব্যাটালিয়নের একটি দল ও সংশ্লিষ্ট সাপোর্ট স্টাফরা অভিযানে সহযোগিতা করেন।

অভিযানকালে মিষ্টি পট্টি ও পুরাতন মাছ বাজার এলাকার মেসার্স দত্ত স্টোরে নিষিদ্ধ ঘনচিনি (সোডিয়াম সাইক্লামেট) ও হাইড্রোজ সংরক্ষণ ও বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে অননুমোদিত ও মেয়াদোত্তীর্ণ রং-ফ্লেভার এবং লেবেলবিহীন রং ও অ্যামোনিয়াম সালফেট সংরক্ষণ ও বিক্রির বিষয়ও কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

অন্যদিকে বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় জিলানী অয়েল মিল ও সুমন অয়েল মিলে অভিযান চালিয়ে সরিষার সঙ্গে ক্যানোলা মিশিয়ে তা সরিষার তেল হিসেবে উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া তেলের বোতলে মেয়াদ, ব্যাচ নম্বর, উৎপাদনের তারিখ ও নির্ধারিত মূল্য উল্লেখ না থাকার বিষয়টিও ধরা পড়ে।

এসব অনিয়ম নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর পরিপন্থী হওয়ায় মেসার্স দত্ত স্টোরকে ১ লাখ টাকা, জিলানী অয়েল মিলকে ১০ হাজার টাকা এবং সুমন অয়েল মিলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়েছে।

অভিযান শেষে জব্দ করা অননুমোদিত ও মেয়াদোত্তীর্ণ রং, ফ্লেভার, সোডিয়াম সাইক্লামেট, হাইড্রোজ ও অ্যামোনিয়াম সালফেট জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানকারী কর্তৃপক্ষ জানায়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা করা হবে বলেও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত এবং খাদ্যে ভেজাল ও অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।