রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ড্রেজিং শেষ, তবুও ফেরিশূন্য চিলমারী–রৌমারী নৌরুট

কুড়িগ্রামের চিলমারী–রৌমারী নৌরুটে নাব্যতা সংকট কাটলেও এখনো ফেরি চলাচল শুরু হয়নি। গত তিন মাসে মেরামত ও নাব্যতা সংকটের কারণ দেখিয়ে পর্যায়ক্রমে বেগম সুফিয়া কামাল, কুঞ্জলতা ও কদম এই তিনটি ফেরি সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে ফেরিশূন্য হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুট।

ফলে ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে বিচ্ছিন্ন রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষসহ পণ্যবাহী যানবাহনের চালক, ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

জানা গেছে, গত ১৪ আগস্ট নাব্যতা সংকটের কারণে এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে ১৪ জুলাই কুঞ্জলতা ও ২ সেপ্টেম্বর কদম ফেরি মেরামতের জন্য নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়। আর বেগম সুফিয়া কামাল ফেরিটি ২০২৩ সালের নভেম্বরেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

নৌপথ সচল রাখতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) গত ২৫ জুলাই থেকে চিলমারী নৌবন্দর ঘাট, রৌমারী ঘাট ও খেরুয়ারচর থেকে দুই বিঘা চর পর্যন্ত এলাকায় ড্রেজিং শুরু করে। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ড্রেজিং শেষ হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, বর্তমানে ফেরি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় পানির গভীরতা রয়েছে এবং নাব্যতা ধরে রাখতে সংরক্ষণমূলক ড্রেজিংও চলছে।
তবে নৌপথ চলাচলের উপযোগী হলেও ফেরি না থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে রুটটি। এতে ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে।

ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট এলাকার ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, ফেরি বন্ধ থাকায় ঢাকায় পণ্য নিতে পারছেন না। বিকল্প পথে যেতে হলে সময় ও খরচ দুটোই বাড়বে।
চিলমারী নৌবন্দরের যাত্রী আকবর আলী ও রোকন মিয়া দ্রুত ফেরি চলাচল শুরুর দাবি জানান।

বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) সমীর চন্দ্র পাল বলেন, চিলমারী–রৌমারী নৌরুটে ফেরি সার্ভিস চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। ড্রেজিংয়ের পর চ্যানেল সচল রাখা এবং নিয়মিত ফেরি চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে একটি সূত্রের দাবি, কুঞ্জলতা ফেরির ডকিং মেরামত শেষ হলেও সেটিকে চিলমারী নৌবন্দরে না পাঠিয়ে ভোলা-লক্ষ্মীপুর অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। তবে এ তথ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী নদীবন্দরের ম্যানেজার (বাণিজ্য) আতিক সোহেল আকাশ জানান, খনন বিভাগের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মেরিন অফিসার ও পাইলট বিভাগ পানির গভীরতা পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে ফেরি পাঠানোর জন্যও চিঠি দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চিলমারী–রৌমারী নৌরুটে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়। প্রতি ট্রিপে কুঞ্জলতা ৮–৯টি, বেগম সুফিয়া কামাল ১২–১৩টি এবং কদম ৮–৯টি পণ্যবাহী যান পারাপার করতে সক্ষম ছিল। তবে ফেরিগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর নৌরুটটি বর্তমানে কার্যত ফেরিশূন্য।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

ভালো দামে পাট বিক্রি, নওগাঁর কৃষকের মুখে হাসি

ড্রেজিং শেষ, তবুও ফেরিশূন্য চিলমারী–রৌমারী নৌরুট

প্রকাশের সময় : ০৬:৫২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুড়িগ্রামের চিলমারী–রৌমারী নৌরুটে নাব্যতা সংকট কাটলেও এখনো ফেরি চলাচল শুরু হয়নি। গত তিন মাসে মেরামত ও নাব্যতা সংকটের কারণ দেখিয়ে পর্যায়ক্রমে বেগম সুফিয়া কামাল, কুঞ্জলতা ও কদম এই তিনটি ফেরি সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে ফেরিশূন্য হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুট।

ফলে ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে বিচ্ছিন্ন রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষসহ পণ্যবাহী যানবাহনের চালক, ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

জানা গেছে, গত ১৪ আগস্ট নাব্যতা সংকটের কারণে এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে ১৪ জুলাই কুঞ্জলতা ও ২ সেপ্টেম্বর কদম ফেরি মেরামতের জন্য নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়। আর বেগম সুফিয়া কামাল ফেরিটি ২০২৩ সালের নভেম্বরেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

নৌপথ সচল রাখতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) গত ২৫ জুলাই থেকে চিলমারী নৌবন্দর ঘাট, রৌমারী ঘাট ও খেরুয়ারচর থেকে দুই বিঘা চর পর্যন্ত এলাকায় ড্রেজিং শুরু করে। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ড্রেজিং শেষ হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, বর্তমানে ফেরি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় পানির গভীরতা রয়েছে এবং নাব্যতা ধরে রাখতে সংরক্ষণমূলক ড্রেজিংও চলছে।
তবে নৌপথ চলাচলের উপযোগী হলেও ফেরি না থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে রুটটি। এতে ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে।

ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট এলাকার ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, ফেরি বন্ধ থাকায় ঢাকায় পণ্য নিতে পারছেন না। বিকল্প পথে যেতে হলে সময় ও খরচ দুটোই বাড়বে।
চিলমারী নৌবন্দরের যাত্রী আকবর আলী ও রোকন মিয়া দ্রুত ফেরি চলাচল শুরুর দাবি জানান।

বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) সমীর চন্দ্র পাল বলেন, চিলমারী–রৌমারী নৌরুটে ফেরি সার্ভিস চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। ড্রেজিংয়ের পর চ্যানেল সচল রাখা এবং নিয়মিত ফেরি চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে একটি সূত্রের দাবি, কুঞ্জলতা ফেরির ডকিং মেরামত শেষ হলেও সেটিকে চিলমারী নৌবন্দরে না পাঠিয়ে ভোলা-লক্ষ্মীপুর অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। তবে এ তথ্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিআইডব্লিউটিসির চিলমারী নদীবন্দরের ম্যানেজার (বাণিজ্য) আতিক সোহেল আকাশ জানান, খনন বিভাগের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মেরিন অফিসার ও পাইলট বিভাগ পানির গভীরতা পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে ফেরি পাঠানোর জন্যও চিঠি দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চিলমারী–রৌমারী নৌরুটে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়। প্রতি ট্রিপে কুঞ্জলতা ৮–৯টি, বেগম সুফিয়া কামাল ১২–১৩টি এবং কদম ৮–৯টি পণ্যবাহী যান পারাপার করতে সক্ষম ছিল। তবে ফেরিগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর নৌরুটটি বর্তমানে কার্যত ফেরিশূন্য।