মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ভাঙা সেতুতেই ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, এক বছরেও হয়নি সংস্কার

আত্রাইয়ে রতনডারি খালের সেতুতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা 

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ১১:৪২:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাহাগোলা ইউনিয়নের তারাটিয়া-ছোটডাঙ্গা বাজার এলাকায় রতনডারি খালের ওপর নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রায় এক বছর আগে সেতুটির মাঝখানের অংশ ভেঙে ধসে গেলেও এখনো তা সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি।

ফলে বাধ্য হয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার করছেন কয়েকটি গ্রামের মানুষ। এতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। পুরো সেতুটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় যেকোনো সময় এটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১৪ বছর আগে উপজেলা পরিষদের বরাদ্দে রতনডারি খালের ওপর সরু এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটি দিয়ে উচুল, কাশিমপুর, ঝনঝনিয়া, ছোটডাঙ্গাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন। কিন্তু প্রায় এক বছর আগে সেতুটির মাঝখানের অংশ ভেঙে ধসে যায়। পরে স্থানীয়রা কাঠের পাটাতন বসিয়ে কোনো রকমে চলাচলের ব্যবস্থা করেন।

তবে বর্তমানে সেতুটির অধিকাংশ জায়গাতেই ভাঙন ধরেছে। ফলে পথচারী, ভ্যানচালক ও কৃষকদের প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হচ্ছে।

স্থানীয় এছাহক সরকার বলেন, খালের উত্তর মাঠে আমাদের কৃষিজমি রয়েছে। ধান কেটে ঘরে তোলা কিংবা এপার থেকে ওপারে বিভিন্ন মালামাল নেওয়ার সময় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। গত সপ্তাহে লিটন নামে একজনের প্রায় এক লাখ টাকা দামের একটি গরু সেতুর ভাঙা অংশে পড়ে গিয়ে পা ভেঙে যায়।

ছোটডাঙ্গা গ্রামের ভ্যানচালক গকুল হোসেন বলেন, সিমেন্ট বোঝাই করে ভ্যান নিয়ে সেতু পার হওয়ার সময় উল্টে খালের মধ্যে পড়ে যাই। এতে সবগুলো সিমেন্ট নষ্ট হয়ে যায়। সেতুর এমন নাজুক পরিস্থিতি হয়েছে যে, যেকোনো সময় পুরো সেতু ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ছোটডাঙ্গা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মিল্টন হোসেন জানান, সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে সেতুটি পরিদর্শন ও তদন্ত করে গেছেন।

সাহাগোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন, উপজেলা পরিষদের বরাদ্দ থেকে প্রায় ১৪ বছর আগে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য বেশ কয়েকটি আবেদন দিয়েছি। কিন্তু দীর্ঘ এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা হয়নি।

এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী নিতিষ কুমার সরকার বলেন, নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রকল্প আকারে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প পাস এবং বরাদ্দ আসলেই নতুন করে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

এসি মেরামতের কথা বলে ডেকে নিয়ে ছিনতাই, নওগাঁয় গ্রেপ্তার ২

ভাঙা সেতুতেই ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, এক বছরেও হয়নি সংস্কার

আত্রাইয়ে রতনডারি খালের সেতুতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা 

প্রকাশের সময় : ১১:৪২:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাহাগোলা ইউনিয়নের তারাটিয়া-ছোটডাঙ্গা বাজার এলাকায় রতনডারি খালের ওপর নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রায় এক বছর আগে সেতুটির মাঝখানের অংশ ভেঙে ধসে গেলেও এখনো তা সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি।

ফলে বাধ্য হয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার করছেন কয়েকটি গ্রামের মানুষ। এতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। পুরো সেতুটির বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় যেকোনো সময় এটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১৪ বছর আগে উপজেলা পরিষদের বরাদ্দে রতনডারি খালের ওপর সরু এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটি দিয়ে উচুল, কাশিমপুর, ঝনঝনিয়া, ছোটডাঙ্গাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ নিয়মিত চলাচল করেন। কিন্তু প্রায় এক বছর আগে সেতুটির মাঝখানের অংশ ভেঙে ধসে যায়। পরে স্থানীয়রা কাঠের পাটাতন বসিয়ে কোনো রকমে চলাচলের ব্যবস্থা করেন।

তবে বর্তমানে সেতুটির অধিকাংশ জায়গাতেই ভাঙন ধরেছে। ফলে পথচারী, ভ্যানচালক ও কৃষকদের প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হচ্ছে।

স্থানীয় এছাহক সরকার বলেন, খালের উত্তর মাঠে আমাদের কৃষিজমি রয়েছে। ধান কেটে ঘরে তোলা কিংবা এপার থেকে ওপারে বিভিন্ন মালামাল নেওয়ার সময় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। গত সপ্তাহে লিটন নামে একজনের প্রায় এক লাখ টাকা দামের একটি গরু সেতুর ভাঙা অংশে পড়ে গিয়ে পা ভেঙে যায়।

ছোটডাঙ্গা গ্রামের ভ্যানচালক গকুল হোসেন বলেন, সিমেন্ট বোঝাই করে ভ্যান নিয়ে সেতু পার হওয়ার সময় উল্টে খালের মধ্যে পড়ে যাই। এতে সবগুলো সিমেন্ট নষ্ট হয়ে যায়। সেতুর এমন নাজুক পরিস্থিতি হয়েছে যে, যেকোনো সময় পুরো সেতু ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ছোটডাঙ্গা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মিল্টন হোসেন জানান, সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে সেতুটি পরিদর্শন ও তদন্ত করে গেছেন।

সাহাগোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন, উপজেলা পরিষদের বরাদ্দ থেকে প্রায় ১৪ বছর আগে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য বেশ কয়েকটি আবেদন দিয়েছি। কিন্তু দীর্ঘ এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা হয়নি।

এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী নিতিষ কুমার সরকার বলেন, নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রকল্প আকারে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প পাস এবং বরাদ্দ আসলেই নতুন করে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।