
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার নতুন বাজার থেকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) প্রথম গেট পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এখন দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য বড় বড় খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে পুরো সড়কটি পরিণত হয় জলাবদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। কোথাও তৈরি হয়েছে গভীর গর্ত, কোথাও আবার উঠে গেছে পিচ। ফলে যানবাহন ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃষ্টি হলে সড়কের খানাখন্দ পানিতে তলিয়ে যায়। তখন গর্তের গভীরতা বোঝার উপায় থাকে না। ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচলের কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে।
শুধু যোগাযোগের ক্ষেত্রেই নয়, সড়কটির বেহাল দশার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও। সড়কের দুই পাশে রয়েছে পাঁচটি ব্যাংক, একাধিক এটিএম বুথ এবং শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু রাস্তার দুরবস্থার কারণে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ব্যবসায়ী ফয়সাল মৃধা ও নেছার উদ্দিন বলেন, রাস্তা খারাপ হওয়ায় দোকানে কাস্টমার আসতে চায় না। আমাদের বেচাকেনায় ধস নেমেছে। যা আয় হয়, তা দিয়ে ঘরভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতেই কষ্ট হচ্ছে।
পথচারী সোহাগ মৃধা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তাটির অবস্থা খারাপ। এই সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় মাঝেমধ্যে বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। তাই দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
অটোচালক লিটন ও নুরুল ইসলাম জানান, এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করলে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। জরুরি রোগী নিয়েও ঠিকমতো যাতায়াত করা যায় না। যাত্রীরাও এই পথে যেতে অনাগ্রহী।
পবিপ্রবির এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গেটের সামনের রাস্তার এমন অবস্থা সত্যিই দুঃখজনক। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় শিক্ষার্থী ও পথচারীদের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর মোহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন, “রাস্তাটির বিষয়ে আমরা অবগত। দ্রুত সংস্কারের জন্য এলজিইডি ও রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই কাজ শুরু হবে।”
এদিকে, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসানে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, পথচারী ও এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির দ্রুত সংস্কার হলে একদিকে যেমন নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে প্রাণ ফিরে পাবে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও।
দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 


















