মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাণীনগরে নিকাহ রেজিস্ট্রারকে নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মোজাফফর হোসেনকে ‘ভুয়া কাজী’ আখ্যায়িত করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কাজী বেলাল হোসেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন মোজাফফর হোসেন।

রোববার বেলা ১১টায় উপজেলা সদরের এছাহক টাওয়ারের এম এস রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন কাজী বেলাল হোসেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।

বেলাল হোসেনের দাবি, অবৈধ কার্যক্রমের দায়ে ২০১১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মোজাফফর হোসেনের নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। এরপর ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৭ থেকে তাকে কাশিমপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, মোজাফফর হোসেন হাইকোর্ট বিভাগে পরপর দুইবার রিট মামলা দায়ের করলেও ২০২১ সালের ২২ জুন হাইকোর্ট বিভাগের ২০ নম্বর কোর্টে বিচারপতি নাইমা হায়দার চৌধুরী ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চ মামলা দুটি খারিজ করে দেন। পরে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেন। সেটিও ২০২৪ সালের ১২ মে খারিজ হয়ে যায় বলে দাবি করেন বেলাল।

বেলাল হোসেনের অভিযোগ, লাইসেন্স বাতিলের পর তার যাবতীয় রেজিস্টার ও নথিপত্র অফিসে জমা দেওয়ার আইনগত নির্দেশনা থাকলেও মোজাফফর হোসেন কোনো নথিপত্র জমা দেননি। এরপর থেকে তিনি ভুয়া ভলিউম ক্রয় করে অবৈধভাবে বিবাহ ও তালাকের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ধরনের কার্যক্রমের প্রতিবাদ করায় নিজের বসতবাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট এবং তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও করেন বেলাল হোসেন। এ ঘটনায় ওই সময় থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

বেলাল হোসেন আরও বলেন, মোজাফফর হোসেনের কথিত এসব কর্মকাণ্ডের কারণে নির্ধারিত এলাকার মানুষ বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত কাজে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন এবং সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানান কাজী বেলাল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে ছিলেন ছোট ভাই জালাল আহমেদ ও ছেলে ইমামুল মুত্তাকিন হোসেন।

তবে বেলাল হোসেনের করা অভিযোগগুলো মিথ্যা দাবি করে মোজাফফর হোসেন বলেন, ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত বেলাল হোসেন যা করেছেন এবং করছেন, সবই অবৈধ। বেলালের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে স্টে অর্ডারসহ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল চলমান রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

রাণীনগরে সড়কে গণছিনতাই, হাসুয়া-মোবাইল-টাকাসহ গ্রেপ্তার ২

রাণীনগরে নিকাহ রেজিস্ট্রারকে নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশের সময় : ০৮:৩২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার মোজাফফর হোসেনকে ‘ভুয়া কাজী’ আখ্যায়িত করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কাজী বেলাল হোসেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন মোজাফফর হোসেন।

রোববার বেলা ১১টায় উপজেলা সদরের এছাহক টাওয়ারের এম এস রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন কাজী বেলাল হোসেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।

বেলাল হোসেনের দাবি, অবৈধ কার্যক্রমের দায়ে ২০১১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মোজাফফর হোসেনের নিকাহ রেজিস্ট্রারের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। এরপর ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিচার শাখা-৭ থেকে তাকে কাশিমপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, মোজাফফর হোসেন হাইকোর্ট বিভাগে পরপর দুইবার রিট মামলা দায়ের করলেও ২০২১ সালের ২২ জুন হাইকোর্ট বিভাগের ২০ নম্বর কোর্টে বিচারপতি নাইমা হায়দার চৌধুরী ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চ মামলা দুটি খারিজ করে দেন। পরে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেন। সেটিও ২০২৪ সালের ১২ মে খারিজ হয়ে যায় বলে দাবি করেন বেলাল।

বেলাল হোসেনের অভিযোগ, লাইসেন্স বাতিলের পর তার যাবতীয় রেজিস্টার ও নথিপত্র অফিসে জমা দেওয়ার আইনগত নির্দেশনা থাকলেও মোজাফফর হোসেন কোনো নথিপত্র জমা দেননি। এরপর থেকে তিনি ভুয়া ভলিউম ক্রয় করে অবৈধভাবে বিবাহ ও তালাকের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ ধরনের কার্যক্রমের প্রতিবাদ করায় নিজের বসতবাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট এবং তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও করেন বেলাল হোসেন। এ ঘটনায় ওই সময় থানায় অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

বেলাল হোসেন আরও বলেন, মোজাফফর হোসেনের কথিত এসব কর্মকাণ্ডের কারণে নির্ধারিত এলাকার মানুষ বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত কাজে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন এবং সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানান কাজী বেলাল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে ছিলেন ছোট ভাই জালাল আহমেদ ও ছেলে ইমামুল মুত্তাকিন হোসেন।

তবে বেলাল হোসেনের করা অভিযোগগুলো মিথ্যা দাবি করে মোজাফফর হোসেন বলেন, ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত বেলাল হোসেন যা করেছেন এবং করছেন, সবই অবৈধ। বেলালের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে স্টে অর্ডারসহ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল চলমান রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।