শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬,
৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৬টি পিলারে ফাটল, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পশ্চিম শশিকর ওয়াপদারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান। ভবনের পিলার ও দেয়ালে ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়া এবং কোথাও কোথাও রড বেরিয়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নে অবস্থিত ১৪৫ নম্বর পশ্চিম শশিকর ওয়াপদারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি একটি খালের পাড়ে অবস্থিত। ভবনের এক পাশে প্রবাহমান খাল। অন্যদিকে ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রায় ৩৬টি পিলারেই ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়ার চিহ্ন রয়েছে। কোনো কোনো স্থানে পলেস্তারা উঠে গিয়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে ছাদ ও দেয়াল চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। এতে ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ও আসবাবপত্র, ব্যাহত হয় পাঠদান।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ভবনটি নির্মাণের কয়েক বছর পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে তা বাড়লেও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাবে বিকল্প ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী‌রা জানায়, শ্রেণিকক্ষে বসে দেয়াল ও পিলারের ফাটল দেখলে তাদের ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। তারা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।

বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক বিমলা ঘটক বলেন, “ভবনের বর্তমান অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা সবসময় উদ্বিগ্ন থাকি। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে এবং স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

প্রধান শিক্ষক পূরবী সরকার বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল থাকায় ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় আপাতত বিকল্প ব্যবস্থাও করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে।”

অভিভাবকেরা জানান, বিদ্যালয়ের আশপাশে প্রায় তিন কিলোমিটারের মধ্যে অন্য কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। ফলে পিড়ারবাড়ী, নইয়ারবাড়ী, উত্তর শশিকর ও পশ্চিম শশিকর এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবনটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাঁদের।

এ বিষয়ে ডাসার উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, “বিদ্যালয়টি সম্পর্কে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে ভবনের বিমের কংক্রিট ধসে পড়তে দেখা গেছে। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনটি পুনর্নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।”

ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। উপজেলা প্রশাসনের কমিটির মাধ্যমে ভবনটি যাচাই-বাছাই করে ব্যবহার উপযোগিতা নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অবগত রয়েছেন। পরবর্তী পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এখানে শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৩ শতাংশ জমি রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ভবনটির কাঠামোগত অবস্থা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে বিকল্প স্থানে পাঠদানের ব্যবস্থা করে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক, যাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

ছয় মাস পানিতে ডুবে থাকে এলাকা, ভাসমান বেডে স্বপ্ন বুনছেন পিরোজপুরের নারীরা

৩৬টি পিলারে ফাটল, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৭:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পশ্চিম শশিকর ওয়াপদারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান। ভবনের পিলার ও দেয়ালে ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়া এবং কোথাও কোথাও রড বেরিয়ে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নে অবস্থিত ১৪৫ নম্বর পশ্চিম শশিকর ওয়াপদারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি একটি খালের পাড়ে অবস্থিত। ভবনের এক পাশে প্রবাহমান খাল। অন্যদিকে ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রায় ৩৬টি পিলারেই ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়ার চিহ্ন রয়েছে। কোনো কোনো স্থানে পলেস্তারা উঠে গিয়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলে ছাদ ও দেয়াল চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। এতে ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ও আসবাবপত্র, ব্যাহত হয় পাঠদান।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ভবনটি নির্মাণের কয়েক বছর পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে তা বাড়লেও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাবে বিকল্প ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী‌রা জানায়, শ্রেণিকক্ষে বসে দেয়াল ও পিলারের ফাটল দেখলে তাদের ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। তারা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।

বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক বিমলা ঘটক বলেন, “ভবনের বর্তমান অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা সবসময় উদ্বিগ্ন থাকি। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে এবং স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

প্রধান শিক্ষক পূরবী সরকার বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল থাকায় ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় আপাতত বিকল্প ব্যবস্থাও করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে।”

অভিভাবকেরা জানান, বিদ্যালয়ের আশপাশে প্রায় তিন কিলোমিটারের মধ্যে অন্য কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। ফলে পিড়ারবাড়ী, নইয়ারবাড়ী, উত্তর শশিকর ও পশ্চিম শশিকর এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবনটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাঁদের।

এ বিষয়ে ডাসার উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, “বিদ্যালয়টি সম্পর্কে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে ভবনের বিমের কংক্রিট ধসে পড়তে দেখা গেছে। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনটি পুনর্নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।”

ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। উপজেলা প্রশাসনের কমিটির মাধ্যমে ভবনটি যাচাই-বাছাই করে ব্যবহার উপযোগিতা নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অবগত রয়েছেন। পরবর্তী পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এখানে শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৩ শতাংশ জমি রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ভবনটির কাঠামোগত অবস্থা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে বিকল্প স্থানে পাঠদানের ব্যবস্থা করে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক, যাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে।