
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার শান্তনা ও শান্ত ইসলাম দম্পতির ঘরে যমজ সন্তান আসার অপেক্ষায় ছিল পুরো পরিবার। দুই সন্তানের মুখ দেখার স্বপ্নে দিন গুনছিলেন তারা। কিন্তু সন্তান প্রসবের পর সেই আনন্দ রূপ নিয়েছে উদ্বেগ ও রহস্যে। পরিবারের দাবি, দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে যমজ সন্তান থাকার কথা জানানো হলেও সিজারের পর তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে মাত্র একটি কন্যাশিশু। অপর নবজাতকের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে পরিবারে।
বৃহস্পতিবার (গতকাল) বিকেল ৫টার দিকে নওগাঁ শহরের বলাকা নামের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে নওগাঁ সদর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী শান্ত ইসলাম।
শান্ত ইসলামের অভিযোগ, তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গত ১২ ও ২১ অক্টোবর পৃথক দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। প্রথমে জয়পুরহাট জেলার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিবেদনে দুটি জীবিত ভ্রূণের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে ২১ অক্টোবর নওগাঁ শহরের রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করা আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদনেও দুটি জীবিত ভ্রূণের কথা বলা হয়।
তিনি জানান, আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পর চিকিৎসক ডা. দিনাও তাদের যমজ সন্তান হওয়ার কথা জানান। পরে চিকিৎসক ডা. মাহফুজা খাতুনের পরামর্শে যমজ সন্তান হওয়ার কারণে স্বাভাবিক প্রসবের পরিবর্তে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকেলে তার স্ত্রীকে বলাকা ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। পরে ওই চিকিৎসকের অধীনেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেন শান্তনা।
তবে অস্ত্রোপচারের পর পরিবারের হাতে একটি কন্যাশিশু তুলে দেওয়া হলেও অপর নবজাতকের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন শান্ত ইসলাম। তার দাবি, অপর সন্তানের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। বরং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাদের আর্থিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রসূতি শান্তনা আক্তারও অভিযোগ করেন, আল্ট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছিলেন, তার গর্ভে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর তাকে শুধু একটি কন্যাশিশু দেখানো হয়। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে তারা প্রতিবাদ করেন। এ সময় অস্ত্রোপচারের পর তার পেটের কাটা অংশ সেলাই না করে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ফেলে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, রি-লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাম করা চিকিৎসক ডা. দিনা বলেন, তিনি সর্বশেষ যে আল্ট্রাসনোগ্রামটি করেছিলেন, সেখানে মেশিনে যেভাবে দেখা গেছে, সেভাবেই রোগীকে জানিয়েছেন। তবে ভুল হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। অনেক সময় মেশিনে একটি শিশুর মাথা দুটি দেখা যেতে পারে। সে কারণেই তিনি যমজ সন্তানের কথা বলেছিলেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি শিশুর জন্ম হওয়ায় তার ধারণা, আল্ট্রাসনোগ্রামে ভুল হয়ে থাকতে পারে।
এ ঘটনায় পরিবারটির প্রধান দাবি, আল্ট্রাসনোগ্রামের প্রতিবেদন, অস্ত্রোপচারের নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা হোক। পাশাপাশি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপর নবজাতকের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
নিজস্ব নিজস্ব প্রতিবেদক 


















