সোমবার, ২৫ মে ২০২৬,
১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একযোগে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ৩৬০০ তরুণ-তরুণী

দেশের ৪৮ জেলার শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী তরুণ–তরুণীদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তিন মাস মেয়াদি এ প্রশিক্ষণ কোর্সের পঞ্চম ব্যাচ শুরু হয়েছে। এ ধাপে প্রশিক্ষণ পাবেন ৩ হাজার ৬০০ জন তরুণ ও তরুণী।

রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। এ সময় দেশের ৪৮ জেলার প্রশিক্ষণার্থীরা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত ছিলেন।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পের আওতায় এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড। দেশের আটটি বিভাগের ৪৮ জেলায় একযোগে কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আগে চারটি ব্যাচে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী, কমপক্ষে এইচএসসি বা সমমান পাস কর্মপ্রত্যাশী যুব ও যুব নারীরা এ প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. আসিফ নজরুল প্রকল্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণার্থীদের অগ্রগতি সম্পর্কে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের বেকারত্ব কমানো এবং প্রতারণা এড়াতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ২০০ জন প্রশিক্ষণার্থী এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন—এ তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এ সংখ্যা আরও বহুগুণ বাড়ানো প্রয়োজন। তাঁর মতে, হাজার নয়, লাখো তরুণকে এমন প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে পারলেই কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ যেন শুধু প্রকল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা যাচাই করে মূল ধারায় যুক্ত করে এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২৯৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৮ হাজার ৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে ৪৮ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। এ পর্যন্ত চারটি কোয়ার্টারে মোট ১০ হাজার ৮০০ জন যুব ও যুব নারী সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন।

প্রশিক্ষণে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংলিশ, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফট স্কিল, স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিকস ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং বিষয়ে হাতে–কলমে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান।

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

হৃদপিণ্ডে ছিদ্র ও খাদ্যনালী ব্লক: বাঁচতে চায় ১৩ মাসের শিশু অর্পিতা

একযোগে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ৩৬০০ তরুণ-তরুণী

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের ৪৮ জেলার শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী তরুণ–তরুণীদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তিন মাস মেয়াদি এ প্রশিক্ষণ কোর্সের পঞ্চম ব্যাচ শুরু হয়েছে। এ ধাপে প্রশিক্ষণ পাবেন ৩ হাজার ৬০০ জন তরুণ ও তরুণী।

রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। এ সময় দেশের ৪৮ জেলার প্রশিক্ষণার্থীরা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত ছিলেন।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পের আওতায় এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড। দেশের আটটি বিভাগের ৪৮ জেলায় একযোগে কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আগে চারটি ব্যাচে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী, কমপক্ষে এইচএসসি বা সমমান পাস কর্মপ্রত্যাশী যুব ও যুব নারীরা এ প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. আসিফ নজরুল প্রকল্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষণার্থীদের অগ্রগতি সম্পর্কে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের বেকারত্ব কমানো এবং প্রতারণা এড়াতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ২০০ জন প্রশিক্ষণার্থী এই প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন—এ তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এ সংখ্যা আরও বহুগুণ বাড়ানো প্রয়োজন। তাঁর মতে, হাজার নয়, লাখো তরুণকে এমন প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে পারলেই কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ যেন শুধু প্রকল্পের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা যাচাই করে মূল ধারায় যুক্ত করে এসব কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২৯৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৮ হাজার ৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে ৪৮ জেলায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। এ পর্যন্ত চারটি কোয়ার্টারে মোট ১০ হাজার ৮০০ জন যুব ও যুব নারী সফলভাবে প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন।

প্রশিক্ষণে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংলিশ, ডিজিটাল মার্কেটিং, সফট স্কিল, স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং, গ্রাফিকস ডিজাইন ও ভিডিও এডিটিং বিষয়ে হাতে–কলমে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান।