বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬,
২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুষ না দেওয়ায় ঠিকাদারের হাত ভাঙার অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দায় কাজের বিল ছাড়ের জন্য ঘুষ দাবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক ঠিকাদারকে মারধর করে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ও তার সহযোগী মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদার হাসিবুল হাসান আব্দুল্লাহ। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত ঠিকাদার হাসিবুল হাসান আব্দুল্লাহ বলেন, তার প্রতিষ্ঠান সৈয়দা জাহানারা এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে ২০২৩ সালে আইইউআইডিপি প্রকল্পের আওতায় নগরকান্দা পৌর এলাকায় তিনটি সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করা হয়। কাজ শেষ হওয়ার পর প্রায় আট মাস আগে বিল অনুমোদন হলেও তা পরিশোধ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

হাসিবুলের অভিযোগ, বিল ছাড়ের জন্য পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির তার কাছে মোট বিলের ১৫ শতাংশ ঘুষ দাবি করেন। এর মধ্যে গত ১০ আগস্ট তিনি পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন। এরপর আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে বিল আটকে রেখে তাকে হয়রানি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ তার।

তিনি বলেন, বুধবার আটকে থাকা বিলের বিষয়ে কথা বলতে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে গেলে হুমায়ুন কবির ও তার সহযোগী মোসলেম উদ্দিন তার সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা জিআই পাইপ দিয়ে তাকে মারধর করেন। এতে তার এক হাত ভেঙে যায় বলে দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান আহত ঠিকাদার।

তবে ঠিকাদারের আনা ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ঠিকাদারের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় বিল পরিশোধ করা হয়নি। পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা ছিল, কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিল না দেওয়ার।

হুমায়ুন কবিরের দাবি, এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ঠিকাদার প্রথমে তাদের কক্ষে এসে হামলা চালান। তবে ঠিকাদারকে মারধর কিংবা জিআই পাইপ দিয়ে তার হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, ঠিকাদারের বিলের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। কাজের মধ্যে অসংগতি পাওয়ায় কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিল পরিশোধ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিকাদার কী কারণে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এ ধরনের মারধরের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ট্যাগ:

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

জনপ্রিয়

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নতুন নির্দেশনা, রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ সব মার্কেট-দোকান

ঘুষ না দেওয়ায় ঠিকাদারের হাত ভাঙার অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ১০:৩৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

ফরিদপুরের নগরকান্দায় কাজের বিল ছাড়ের জন্য ঘুষ দাবির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক ঠিকাদারকে মারধর করে হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ও তার সহযোগী মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদার হাসিবুল হাসান আব্দুল্লাহ। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত ঠিকাদার হাসিবুল হাসান আব্দুল্লাহ বলেন, তার প্রতিষ্ঠান সৈয়দা জাহানারা এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে ২০২৩ সালে আইইউআইডিপি প্রকল্পের আওতায় নগরকান্দা পৌর এলাকায় তিনটি সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করা হয়। কাজ শেষ হওয়ার পর প্রায় আট মাস আগে বিল অনুমোদন হলেও তা পরিশোধ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

হাসিবুলের অভিযোগ, বিল ছাড়ের জন্য পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির তার কাছে মোট বিলের ১৫ শতাংশ ঘুষ দাবি করেন। এর মধ্যে গত ১০ আগস্ট তিনি পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন। এরপর আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে বিল আটকে রেখে তাকে হয়রানি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ তার।

তিনি বলেন, বুধবার আটকে থাকা বিলের বিষয়ে কথা বলতে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে গেলে হুমায়ুন কবির ও তার সহযোগী মোসলেম উদ্দিন তার সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা জিআই পাইপ দিয়ে তাকে মারধর করেন। এতে তার এক হাত ভেঙে যায় বলে দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান আহত ঠিকাদার।

তবে ঠিকাদারের আনা ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ঠিকাদারের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় বিল পরিশোধ করা হয়নি। পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা ছিল, কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিল না দেওয়ার।

হুমায়ুন কবিরের দাবি, এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ঠিকাদার প্রথমে তাদের কক্ষে এসে হামলা চালান। তবে ঠিকাদারকে মারধর কিংবা জিআই পাইপ দিয়ে তার হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, ঠিকাদারের বিলের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। কাজের মধ্যে অসংগতি পাওয়ায় কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিল পরিশোধ না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিকাদার কী কারণে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এ ধরনের মারধরের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”