মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,
২৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নেওয়া যাবে, গোপন কক্ষে ছবি নয়: ইসি

নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে নির্দেশনা সংশোধনের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংস্থাটি বলেছে, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নেওয়া যাবে, তবে গোপন কক্ষের ছবি তোলা যাবে না।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে নিজ দফতরের সামনে সাংবাদিকেদর নানা প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

তার ভাষায়, ‘ভোটার, প্রার্থী, তাদের এজেন্ট, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে গোপন কক্ষে, যেখানে ব্যালটে সিল দেওয়া হয়, সেখানে কোনো ছবি তোলা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ব্যবহারে যে সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছিল, সেটি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি পরিষ্কার করতেই পরিপত্র সংশোধন করা হচ্ছে।’

ইসি সচিব জানান, ‘কিছু ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। পোলিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে মোবাইল রাখা যাবে না। এ বিষয়টি ‘ফিল্টার’ করে চূড়ান্ত নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘ভোটার ও সংবাদকর্মীদের মূল প্রশ্ন ছিল— তারা মোবাইল নিয়ে কেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন কি না। এ বিষয়ে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট, তারা মোবাইল নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন, তবে গোপন কক্ষে ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।’

আখতার আহমেদ বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটার পর থেকে সব ধরনের নির্বাচনি প্রচারণা বন্ধ থাকবে। বড় আকারের মিছিল, সভা ও শোডাউন বন্ধ থাকবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা বন্ধ রাখতে মনিটরিং করা হবে। এ জন্য কমিশনের একটি আলাদা সেল কাজ করছে।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মারাত্মক কোনো পরিস্থিতির খবর নেই। তবে তফসিল ঘোষণার পর দুটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা নিন্দনীয়। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার রয়েছে এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের বড় কোনো ঘটনা এখনো পাওয়া যায়নি।’

নির্বাচনের ফল প্রকাশ বিলম্ব হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ফল প্রকাশ বিলম্ব হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। যত ব্যালট কাস্ট হবে, সব ব্যালট গণনা শেষ করেই ফল ঘোষণা করা হবে। ভোটারের সংখ্যার তারতম্যের কারণে কোথাও সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে, তবে এটি বিলম্ব হিসেবে ধরা উচিত নয়।’

এসময় বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের বিষয়েও তথ্য দেন ইসি সচিব। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে এসেছেন বা আসছেন। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক সবচেয়ে বেশি—২২৩ জন, যা বাড়তে পারে ২৫০ জনে। এছাড়া কমনওয়েলথ, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস, আইআরআইসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা রয়েছেন।’

তিন আরও বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কার কারণ নেই। সবাই মিলে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশা নির্বাচন কমিশনের।’

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

লেখক সম্পর্কে

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নেওয়া যাবে, গোপন কক্ষে ছবি নয়: ইসি

প্রকাশের সময় : ০৮:০৬:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে নির্দেশনা সংশোধনের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংস্থাটি বলেছে, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নেওয়া যাবে, তবে গোপন কক্ষের ছবি তোলা যাবে না।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে নিজ দফতরের সামনে সাংবাদিকেদর নানা প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

তার ভাষায়, ‘ভোটার, প্রার্থী, তাদের এজেন্ট, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে গোপন কক্ষে, যেখানে ব্যালটে সিল দেওয়া হয়, সেখানে কোনো ছবি তোলা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ব্যবহারে যে সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছিল, সেটি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি পরিষ্কার করতেই পরিপত্র সংশোধন করা হচ্ছে।’

ইসি সচিব জানান, ‘কিছু ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। পোলিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে মোবাইল রাখা যাবে না। এ বিষয়টি ‘ফিল্টার’ করে চূড়ান্ত নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘ভোটার ও সংবাদকর্মীদের মূল প্রশ্ন ছিল— তারা মোবাইল নিয়ে কেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন কি না। এ বিষয়ে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট, তারা মোবাইল নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন, তবে গোপন কক্ষে ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।’

আখতার আহমেদ বলেন, ‘মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটার পর থেকে সব ধরনের নির্বাচনি প্রচারণা বন্ধ থাকবে। বড় আকারের মিছিল, সভা ও শোডাউন বন্ধ থাকবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা বন্ধ রাখতে মনিটরিং করা হবে। এ জন্য কমিশনের একটি আলাদা সেল কাজ করছে।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মারাত্মক কোনো পরিস্থিতির খবর নেই। তবে তফসিল ঘোষণার পর দুটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা নিন্দনীয়। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার রয়েছে এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের বড় কোনো ঘটনা এখনো পাওয়া যায়নি।’

নির্বাচনের ফল প্রকাশ বিলম্ব হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ফল প্রকাশ বিলম্ব হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। যত ব্যালট কাস্ট হবে, সব ব্যালট গণনা শেষ করেই ফল ঘোষণা করা হবে। ভোটারের সংখ্যার তারতম্যের কারণে কোথাও সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে, তবে এটি বিলম্ব হিসেবে ধরা উচিত নয়।’

এসময় বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের বিষয়েও তথ্য দেন ইসি সচিব। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে এসেছেন বা আসছেন। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক সবচেয়ে বেশি—২২৩ জন, যা বাড়তে পারে ২৫০ জনে। এছাড়া কমনওয়েলথ, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস, আইআরআইসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা রয়েছেন।’

তিন আরও বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কার কারণ নেই। সবাই মিলে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশা নির্বাচন কমিশনের।’